দক্ষ স্থানীয় কর্মী দিয়ে ওষুধ তৈরি করছে ইনসেপ্টা

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কারখানা প্রতিষ্ঠার সময়ে আমরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কারখানা প্রতিষ্ঠার সময়ে আমরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম। প্রথমত, উপযুক্ত জমি নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাদের এমন একটি এলাকা খুঁজতে হয়েছিল, যেখানে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের জন্য ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কম। এছাড়া জায়গাটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিস্তৃত করার সুযোগ থাকতে হবে। এ ধরনের জমি খুঁজতে এবং তা কেনার প্রক্রিয়া অনেক সময়সাপেক্ষ ছিল।

দ্বিতীয়ত, নির্মাণকাজের সময় আমরা নানা কারিগরি ও পরিকাঠামোগত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সঠিকভাবে নকশা করা এবং তা বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল, কারণ আমাদের আধুনিক ও ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হয়েছিল। তাছাড়া নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মেশিনারিজ সময়মতো সরবরাহ করতে এবং মান বজায় রাখতে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। সরকারি অনুমোদন ও লাইসেন্সসংক্রান্ত বিষয়গুলোও বেশ জটিল ছিল। আমাদের তখনকার নীতিমালা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেতে প্রচুর সময় ও প্রচেষ্টা লেগেছিল। বিভিন্ন স্তরের সরকারি দপ্তরে গিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদনগুলো সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত। এছাড়া স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো পূরণ করাও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা সেই সময়ে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছিলাম। কারখানার জন্য দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণ দিতে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হয়েছিল, কারণ আধুনিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তখন খুব বেশি প্রচলিত ছিল না। আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন করতে হলে সেই সময় উপযুক্ত প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল পাওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

কারখানা পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যন্ত্রপাতির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় শুরুতে আমরা সরকারি সাপ্লাই লাইনের ওপর নির্ভর করতাম, কিন্তু লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাতের কারণে আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ সমস্যার সমাধানে আমরা নিজস্ব ব্যাকআপ পাওয়ার সিস্টেম, যেমন জেনারেটর স্থাপন করেছিলাম, যাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলো উৎপাদন থেমে না যায়।

গ্যাস সরবরাহ নিয়েও শুরুতে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, কারণ গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা ছিল। আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হয়েছিল। বর্তমানে আমরা এলপিজি গ্যাস ও সোলার পাওয়ার ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে। যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় আমরা শুরু থেকেই অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের মেশিনারি ব্যবহার করেছিলাম। যন্ত্রপাতি আমদানির সময় আমরা আন্তর্জাতিক মান যাচাই করে সেগুলো নির্বাচন করেছিলাম। আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এমন প্রযুক্তি স্থাপন করা, যা শুধু তখনকার প্রয়োজন মেটাবে না, ভবিষ্যতেও কাজ করবে। ফলে আমরা উৎপাদনশীলতা ও মান বজায় রাখতে পেরেছি।

কর্মী নিয়োগ ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারখানার কার্যক্রম চালানোর জন্য দক্ষ কর্মী খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। এজন্য আমরা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্র থেকেই কর্মী নিয়োগ করেছিলাম। আমরা কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা উন্নত করেছি, যাতে তারা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল, যা কর্মীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়াতে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করেছিল।

যন্ত্রপাতিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে আমরা বিদেশ থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ আমদানি করেছিলাম। আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় যন্ত্রপাতির নির্বাচন ও স্থাপন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছিল, যা আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা এবং মান উন্নত করতে সহায়তা করেছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ছিল আমাদের সফলতার আরেকটি মূল কারণ। আমাদের ব্যবস্থাপনা টিম দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছিল, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারে। এছাড়া কর্মীদের উন্নয়নমূলক কাজগুলোয় উৎসাহিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতাম।

সমষ্টিগতভাবে আমাদের ব্যবস্থাপনা টিম প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সুচারুভাবে মোকাবেলা করেছে এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল টেকসই ও স্থিতিশীল উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যা আমরা সফলভাবে করতে পেরেছি। এ পদক্ষেপগুলোর ফলে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।

প্রতিষ্ঠাকালে আমাদের সাভারের জিরাবোতে একটি কারখানা ছিল। এর আয়তন ছিল সাত বিঘা এবং এর মধ্যে ১০ হাজার বর্গফুট ছিল উৎপাদন এলাকা। তৎকালীন সময়ে আমাদের শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১৮১।

বর্তমানে ইনসেপ্টায় ১২ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। তারা যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন সেগুলো হলো উৎসব বোনাস, অর্ধবার্ষিক বোনাস, ভবিষ্য তহবিল, কোম্পানির মুনাফায় শ্রমিকের অংশগ্রহন, ভর্তুকি মূল্যে খাবার, ভর্তুকি মূল্যে পরিবহন সুবিধা, সব কর্মীর জন্য গ্রুপ বীমা পলিসি, বেনোভোলেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, লিডফেয়ার অ্যাসিস্ট্যানস, অব্যবহৃত বার্ষিক ছুটি নগদায়ন, বেতনসহ নৈমিত্তিক, পীড়া ও বার্ষিক ছুটি, অধিকাল কর্মের জন্য দ্বিগুণ হারে ভাতা। এছাড়া আমাদের কারখানায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কয়েকজন বিদেশী কর্মকর্তা কাজ করেন।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মসংস্থান সম্পর্কিত সব সরকারি আইন ও বিধি মেনে চলে।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস এখন প্রায় সব রকমের ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সায়ফিলাইজড পাউডার, ইনজেক্টেবলস, ড্রাই পাউডার ইনহেলারস, পেন কাট্রিজেস ইত্যাদি। এছাড়া বর্তমানে অ্যান্টিক্যান্সার ড্রাগ, বায়োসিমিলারস ও ভ্যাকসিন উৎপাদনেও সক্ষমতা অর্জন করেছে। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ও বিভাগগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য উৎপাদনের জন্য উন্নতমানের প্রযুক্তি এবং সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ব্যবহার করে। ইনসেপ্টার প্রধান উৎপাদন ইউনিটগুলো নিম্নরূপ।

১. সলিড ডোজেজ ফর্ম ইউনিট (Solid Dosage Form Unit): এ ইউনিট ইনসেপ্টার অন্যতম প্রধান এবং বৃহত্তম ইউনিট, যেখানে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও পাউডারের মতো ওষুধগুলো তৈরি করা হয়। এটি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিচালিত। এ ইউনিটে বিভিন্ন থেরাপিউটিক বিভাগে ওষুধ তৈরি করা হয়, যেমন অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিভাইরাল, কার্ডিওভাসকুলার, ডায়াবেটিক এবং পেইন রিলিফের জন্য ওষুধ।

২. লিকুইড ডোজেজ ফর্ম ইউনিট (Liquid Dosage Form Unit): এ ইউনিট সিরাপ, সাসপেনশন ও ইমালশন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। লিকুইড ডোজেজ ফর্মে শিশুদের জন্য বিশেষ ওষুধ এবং ওষুধের তরল রূপ যেমন সিরাপ, ওরাল সলিউশন এবং ইনজেকশনের মতো পণ্য তৈরি করা হয়। এখানে পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় হাইজেনিক পরিবেশে তরল ওষুধ তৈরি করা হয়।

৩. ইনজেকটেবল ইউনিট (Injectables Unit): ইনসেপ্টার ইনজেক্টেবল ইউনিটে বিভিন্ন ধরনের ইনজেকশন ও বায়োটেকনোলজি ভিত্তিক পণ্য তৈরি করা হয়। এ ইউনিটে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও স্টেরাইল পরিবেশে ইনজেকশনের জন্য অ্যাম্পুল, ভায়াল ও পি-ফিলড সিরিঞ্জ তৈরি করা হয়। এখানে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিক্যান্সার, ইনসুলিন ও অন্যান্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার ওষুধ উৎপাদিত হয়।

৫. বায়োটেকনোলজি ইউনিট (Biotechnology Unit): ইনসেপ্টার ফার্মাসিউটিক্যালস বায়োটেকনোলজি সেক্টরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এ ইউনিটটি জিনভিত্তিক ওষুধ, ইনসুলিন, ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য জৈবিক ওষুধ তৈরি করে। এ ইউনিটের প্রযুক্তিগত মান অত্যন্ত ভালো এবং এটি বাংলাদেশে বায়োটেকনোলজি সেক্টরে অগ্রগতির প্রতীক।

৬. ইনহেলার ইউনিট (Inhaler Unit): এ ইউনিট শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার জন্য ইনহেলার তৈরি করে, যেমন অ্যাজমা এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের (COPD) জন্য। ইনসেপ্টা এ সেক্টরে বাংলাদেশে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ইউনিটটি মিটারড ডোজ ইনহেলার (MDI) এবং শুকনো পাউডার ইনহেলার (DPI) তৈরি করে।

৭. চোখ ও নাকসংক্রান্ত ইউনিট (Ophthalmic & Nasal Unit): এই ইউনিটটি চোখের ড্রপ, নাকের স্প্রে ও অন্যান্য অ্যান্টিসেপটিক ড্রপ তৈরি করে। পরিষ্কার ও স্টেরাইল পরিবেশে এসব পণ্য উৎপাদন করা হয়, যাতে পণ্যের গুণগত মান বজায় থাকে এবং রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

৮. হরমোন এবং অনকোলজি ইউনিট (Hormone & Oncology Unit): এই ইউনিটটি হরমোনভিত্তিক ওষুধ ও ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন অনকোলজি ওষুধ তৈরি করে। এ ধরনের ওষুধ তৈরিতে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং স্টেরাইল পরিবেশের প্রয়োজন হয়, যা এ ইউনিটের বিশেষত্ব।

৯. সেফালোস্পোরিন ইউনিট (Cephalosporin Unit): এ ইউনিটে সেফালোস্পোরিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদিত হয়, যা বিভিন্ন সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এই ইউনিট আলাদাভাবে পরিচালিত হয়, কারণ সেফালোস্পোরিন উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট মান এবং নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

১০. আরঅ্যান্ডডি (R&D) ইউনিট: ইনসেপ্টার গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ (R&D) অত্যন্ত কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, ফরমুলেশন উন্নয়ন এবং বিদ্যমান ওষুধের মান উন্নয়ন এই ইউনিটের মূল কাজ। ইনসেপটার R&D বিভাগ কোম্পানির উদ্ভাবনী শক্তির মূলে রয়েছে, যা কোম্পানিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।

১১. ভ্যাকসিন ইউনিট (Vaccine Unit): ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ভ্যাকসিন উৎপাদনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। এ ইউনিট অত্যন্ত সুরক্ষিত ও আন্তর্জাতিক মানের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এছাড়া ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড লোশন, জেল, প্রিফিন্ড সিরিঞ্জ, লাইগুফিলাইজড ইনজেকশন, ইনসুলিন, মেডিকেটেড শ্যাম্পু, মানুষের ও পশুর ভ্যাকসিন, হসপিকেয়ার পণ্য, ডায়াপার ইত্যাদি উৎপাদন করে।

ইনসেপ্টা ওষুধ উৎপাদনের কাজে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। এসব যন্ত্রপাতির বেশির ভাগ জার্মানি, স্পেন, ইতালি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ বিশ্বের প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে আনা। এসব যন্ত্রপাতি এমনভাবে তৈরি করা যাতে অত্যন্ত নির্ভুল, সুনির্দিষ্ট ও উন্নত মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন উন্নত দেশের কঠোর মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার (FDA, UKMHRA, EUGMP, WHO) অনুমোদন পাওয়ার জন্যে এসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনিবার্য। যেহেতু বেশির ভাগ যন্ত্রপাতিই আমদানীকৃত, সেহেতু এসব যন্ত্রপাতি কিনতে ইনসেপ্টাকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়েছে।

ইনসেপ্টা তার আয়ের একটি বড় অংশ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্য পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণের জন্য পুনরায় বিনিয়োগ করেছে। গবেষণা ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যমে ইনসেপ্টা নতুন ভ্যাকসিন, বায়োটেক ও অত্যাধুনিক বিশেষায়িত মেডিসিন বাজারে নিয়ে এসেছে, যেগুলোর অনেকগুলোই বাংলাদেশের জন্য প্রথম। বর্তমানে ইনসেপ্টার সাভার ও ধামরাইয়ে ২০টি উৎপাদন কারখানা রয়েছে এবং একটি নতুন কারখানা স্থাপনাধীন, যা ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের জন্য অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্টস (API) উৎপাদন করবে। এ সম্প্রসারণ কার্যক্রমের লক্ষ্য জাতীয় চাহিদা পূরণ করা ও বৈদেশিক বাজারে রফতানি বাড়ানো, যাতে ইনসেপ্টা উদ্ভাবন এবং প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে তার শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে।

আমরা গত অর্থবছর ৯০টির ওপর দেশে ২২৮ কোটি টাকার ওষুধ রফতানি করেছি। মার্কেট রিসার্চ অর্গানাইজেশন আইকিউডিএর রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের বার্ষিক ওষুধের বাজার এখন ৩২,৮৭২ কোটি টাকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে আমাদের মার্কেট শেয়ার ১২ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ।

আরও