সুসংহত ও শক্তিশালী রাজস্ব কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন

ড. ফাহমিদা খাতুন

নির্বাহী পরিচালক, সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একটি সুসংহত ও শক্তিশালী রাজস্ব কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

এ অর্থবছরের আর্থিক কৌশলে রাজস্ব সংহতি, ব্যয়ের যৌক্তিকীকরণ ও ঘাটতি ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। আগামী অর্থবছরের রাজস্ব কৌশলে কর-জিডিপি অনুপাত অন্তত ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। এজন্য বিশেষ করে ভ্যাট ও আয়কর খাতের কর অব্যাহতি এবং যথেচ্ছ প্রণোদনা কমিয়ে আনা জরুরি। করের আওতা-বহির্ভূত খাত ও ব্যক্তিদের করজালে নিয়ে এসে ভিত্তি সম্প্রসারণ করতে হবে। এছাড়া ডিজিটাইজেশন, ডেটা ম্যাচিং ও কর ফাঁকি রোধে কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে কর প্রশাসনকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। কর কাঠামোকে সহজতর করা এবং করহারের বৈষম্য কমিয়ে আনলে তা পরিপালন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। যেহেতু ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণে নির্ধারিত সূচি রয়েছে, তাই এবারের বাজেটে শুল্ক যৌক্তিকীকরণের পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

ব্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় ছাঁটাই করে খরচ যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। ভর্তুকির সুবিধা যেন প্রকৃত প্রাপক পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে উচ্চবিত্তদের বেশি সুবিধা প্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান ভর্তুকি ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা উচিত। এক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তান্তরের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা চাই।

উন্নয়ন ব্যয় এমন প্রকল্পগুলোয় বরাদ্দ করা উচিত, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা, লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। সরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে অর্থনৈতিক রিটার্নের ওপর ভিত্তি করে নেয়া বাঞ্ছনীয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বাজেট ঘাটতি একটি টেকসই সীমার মধ্যে রাখা জরুরি। অর্থায়নের ক্ষেত্রে উচ্চ সুদের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যতটা সম্ভব সহজ শর্তের বৈদেশিক উৎসের দিকে নজর দিতে হবে। ঋণের ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের চাপ সামলাতে সুপরিকল্পিত ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

আরও