রুফটপ সোলার থেকে সার্কুলার ইকোনমি

টেকসই শিল্পায়নে এমজিআই

শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এমজিআইয়ের ইকোনমিক জোনগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি)। এসব অঞ্চলে সবুজায়নের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার, নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগে কাজ করছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার থেকে শুরু করে শিল্পের বাইপ্রডাক্ট পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলাসহ গ্রুপটির বিভিন্ন উদ্যোগে গুরুত্ব পাচ্ছে টেকসই শিল্পায়ন।

রুফটপ সোলারে বাড়ছে সক্ষমতা

এমজিআই তাদের বিভিন্ন কারখানার ছাদে ৬৪ দশমিক ৮৪ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন করেছে। এই বিদ্যুৎ তাদের কারখানার বিদ্যুৎ–চাহিদার ৫ শতাংশের কাছাকাছি। নতুন করে আরো ৫০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেটি হলে তাদের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১১৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট থেকেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে এমজিআই।

পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন

শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এমজিআইয়ের ইকোনমিক জোনগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি)। এসব অঞ্চলে সবুজায়নের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। বর্জ্য পরিশোধন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

এক শিল্পের বাইপ্রডাক্ট অন্য শিল্পের কাঁচামাল

এমজিআইয়ের ৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে সার্কুলার ইকোনমির চর্চা রয়েছে। গ্রুপটির নিজস্ব সিডস ক্রাশিং কারখানায় সয়াবিন বীজ থেকে অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের পর বাইপ্রডাক্ট ব্যবহার করে ফিডস কারখানায় বিভিন্ন ধরনের পশুখাদ্য তৈরি করা হয়। আইএফসির অর্থায়নে বগুড়ায় স্থাপিত দৈনিক এক হাজার টন উৎপাদনক্ষমতার আধুনিক রাইস মিলে চাল উৎপাদনের পাশাপাশি ধানের তুষ থেকে রাইস ব্র্যান অয়েল তৈরি হয়।

এমজিআইয়ের কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বাইপ্রোডাক্ট অন্যান্য শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং বিদেশেও রফতানি করা হয়। এছাড়া গ্রুপটির নিজস্ব উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব গ্রিন ব্রিকস ও ব্লকস বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী উৎপাদন

এমজিআইয়ের নিজস্ব গ্যাসভিত্তিক পাওয়ার প্লান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি উৎপন্ন ধোঁয়া ও তাপীয় শক্তি কাজে লাগিয়ে স্টিম তৈরি করা হয়। এই স্টিম চিনি শিল্পসহ বিভিন্ন কারখানায় ব্যবহৃত হয়। ফলে স্টিম উৎপাদনের জন্য বাড়তি গ্যাস খরচ করতে হয় না।

এমজিআইয়ের নতুন স্থাপিত আটা, ময়দা ও সুজি কারখানায় আগের কারখানার তুলনায় বছরে অনেক কম কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব স্টিল কারখানা

এমজিআইয়ের স্টিল কারখানার কাঁচামালের প্রায় সিংহভাগই আসবে স্ক্র্যাপ স্টিল থেকে। এখানে ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তিতে স্টিল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারখানাটিতে থাকবে ফিউম ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ঘণ্টায় প্রায় ১০ হাজার নরমাল কিউবিক মিটার সক্ষমতার অক্সিজেন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় গ্যাস জেনারেশন প্লান্ট এবং এয়ার কমপ্রেশন স্টেশনসহ আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের প্রয়োজনীয় সুবিধা।

আরও