ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকা ও দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে হ্যাম্‌সের গ্রিন উদ্যোগ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরি। আরো অনেক ফ্যাক্টরি গ্রিন হওয়ার পথে আছে। আমার জানামতে, প্রায় ৫০০ ফ্যাক্টরি এ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

সারা পৃথিবীতে এখন আলোচনা হচ্ছে আমাদের পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে যাচ্ছে, পরিবেশ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেগুলোকে উদ্ধারে আমাদের কাজ করতে হবে। দেশে বস্ত্র ও পোশাক খাতে পরিবেশ দূষণবিষয়ক সচেতনতা অনেক বেড়েছে। আমরা যদি আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে পারি, আমাদের যে বর্জ্য পানি আছে, সেটাকে পরিশোধন করতে পারি, পানির ব্যবহার কমাতে পারি, যেহেতু আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির সংকট হচ্ছে, এসব চিন্তাভাবনা থেকেই আমাদের মনে হয়েছে যে এখনই সঠিক সময়, পরিবেশের জন্য একটু কাজ করি, টেকসই উন্নয়নের জন্য একটু কাজ করি।

বায়ারদেরও বৈশ্বিকভাবে এ ধরনের চিন্তাভাবনা আছে কীভাবে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা যায়। সেটা বায়ারদের পক্ষ থেকেও আছে, আর আমাদের নিজেদের ইচ্ছাশক্তি থেকেও আছে। সেই চিন্তা থেকেই আমরা গ্রিন উদ্যোগে এসেছি।

আমরা প্রত্যাশা করি, যেহেতু এক্ষেত্রে একটি বড় বিনিয়োগ হয়েছে, একটু ভালো দাম বা প্রিমিয়াম মূল্য পাওয়া উচিত। কিন্তু সেদিক থেকে এখন পর্যন্ত বায়ারদের পক্ষ থেকে তেমন কিছু হয়নি। তবে আমাদের যে বিনিয়োগ হয়েছে, সেটার সুফল আমরা নিজেরাই পাচ্ছি। যেমন জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, সোলার থেকে যে বিদ্যুৎ পাই, সেটায় কিছুটা সাশ্রয় হয়। সেন্সরভিত্তিক লাইট, সেন্সরভিত্তিক পানির কল এ ছোট উদ্যোগগুলো পরোক্ষভাবে কিছুটা সুফল দেয়। ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে, আমরা পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি। বিকল্প যেসব সুযোগ আছে, সেগুলোও ব্যবহার করতে পারি। বায়ারের বাড়তি মূল্য না পেলেও ছোট ছোট কিছু জায়গা থেকে আমরা সুফল পাই।

নিশ্চয়ই প্রিমিয়াম মূল্য না হলেও আমি আমার জায়গা থেকে সরব না। দিন দিন আরো টেকসই আধুনিক প্রযুক্তি আসবে, সেগুলো আমরা গ্রহণ করব। আমি নিজে তৃপ্ত থাকব যে পরিবেশের জন্য কাজ করতে পারছি, সেটাই আমার নিজের একটি তৃপ্তি। পাশাপাশি ছোট ছোটভাবে আমাদের রিটার্নও আসে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরি। আরো অনেক ফ্যাক্টরি গ্রিন হওয়ার পথে আছে। আমার জানামতে, প্রায় ৫০০ ফ্যাক্টরি এ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমার বার্তা হচ্ছে, আসুন সবাই মিলে, ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার জন্য, আমাদের গার্মেন্টসের ব্র্যান্ডিং, দেশের ব্র্যান্ডিং, আমরা যদি বৈশ্বিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি যে বাংলাদেশের টেক্সটাইল মানসম্মত ও পরিবেশসম্মতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাহলে বায়ারদের কাছে একটি ইতিবাচক প্রভাব যাবে। চূড়ান্ত ভোক্তাদের কাছেও একটি ব্র্যান্ডিং যাবে যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরির দেশ এবং তারা পরিবেশসম্মতভাবে পোশাক উৎপাদন করে। বার্তাটি আমরা বিশ্বকে দিতে পারলে আমাদের জন্য অনেক ভালো কিছু হবে।

তবে শুধু গ্রিন দিয়ে হবে না। সরকারের পলিসি, এক্সপোর্ট মার্কেটগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, এসবও গুরুত্বপূর্ণ। আর পরিবেশ দিবস একদিনের কোনো ব্যাপার নয়, এটি সারা বছরের চর্চার বিষয়। আমরা উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব পরিবেশবান্ধবভাবে শিল্প পরিচালনা করতে, আর আশা করব পলিসি পর্যায় থেকেও সেটি সহায়ক হবে।

আরও