জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি ও উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কপ৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হলো অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ুসহনশীল বিনিয়োগ, সবুজ জ্বালানি, সবুজ কর্মক্ষেত্র এবং কার্বন বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। আমাদের লক্ষ্য, পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সমন্বয় ঘটানো।
জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশ অনুদানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে আমাদের দায় সীমিত হলেও এর ক্ষতি মোকাবেলায় বিপুল সম্পদ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষত অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত, সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য অনুদান নিশ্চিত করা জরুরি। কপ৩১-এ অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব সহায়তায় রূপান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর দাবি জোরালো করতে হবে।
সরকার ‘ন্যাশনাল কমিটি অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ (এনসিসিএফ) গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এ কমিটি জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিংকে সমন্বিত জাতীয় কাঠামোয় আনতে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে।
সবুজ জ্বালানির প্রসারে শিল্প-কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি নিরাপদ পানি, জলবায়ুসহনশীল কৃষি ও দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামোয় বিনিয়োগ মানুষের সুরক্ষা এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বাড়াবে। এসব উদ্যোগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সবুজ কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলাও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। জ্বালানিসাশ্রয়ী ভবন, পানি সংরক্ষণ এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারকে শিল্প ও অফিস ব্যবস্থাপনার অংশ করতে হবে।
একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষ সবুজ কর্মী বাহিনী তৈরিতে তরুণ ও নারীদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে উপযুক্ত বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ উদ্যোগও বিবেচনায় রেখেছে সরকার।
কার্বন ক্রেডিট বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মিথেন নিঃসরণ হ্রাস এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মানসম্মত প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব।
কপ৩১-এ আমাদের প্রত্যাশা, এসব অগ্রাধিকার কার্যকর অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় রূপ নেবে।