ইডকলের কার্বন অর্থায়নের যাত্রা

পরিচ্ছন্ন শক্তিকে জলবায়ু মূলধনে রূপান্তর

২০২২ সালে ইডকল দ্বিতীয় একটি ইআরপিএ স্বাক্ষর করে, এবার ইকেআইয়ের সঙ্গে, যার আওতায় প্রতি ক্রেডিট ৫ দশমিক ৫০ ডলার দরে ১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন সিইআর বিক্রি করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন রূপ দেয়ায় বিনিয়োগ ক্রমাগত স্বল্প কার্বন প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং পরিবেশগত উচ্চাশা ও আর্থিক লাভের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কার্বন বাজার আবির্ভূত হয়েছে। বৈশ্বিক নির্গমনের একটি ক্ষুদ্র অংশ বাংলাদেশের হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুতর কিছু প্রভাবের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে ইডকল দেখিয়েছে কীভাবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগকে মূল্যবান ও বিনিময়যোগ্য জলবায়ু সম্পদে রূপান্তর করা যায়।

কিয়োটো প্রটোকলের ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজমের (সিডিএম) অধীনে ইডকলের কার্বন অর্থায়নের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায়, ইডকল তার সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) প্রোগ্রাম থেকে অর্জিত ক্রেডিটের জন্য কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কার্বন ফান্ডের (সিডিসিএফ) সঙ্গে একটি এমিশন রিডাকশনস পারচেজ এগ্রিমেন্ট (ইআরপিএ) স্বাক্ষর করে। ২০১১ সালে এটি প্রতি ক্রেডিট প্রায় ১২ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে শূন্য দশমিক ৭২ মিলিয়ন সার্টিফায়েড এমিশন রিডাকশনস (সিইআর) বিক্রি করে, যা ছিল বাংলাদেশে সম্পন্ন হওয়া সর্বপ্রথম সিডিএম লেনদেন। ২০১২ সালে প্রতি ক্রেডিট প্রায় ১ দশমিক ৬০ ডলার দরে আরো দশমিক ১৩ মিলিয়ন সিইআর বিক্রি করা হয়, যা সেই বছর বিশ্বব্যাপী সিইআর মূল্যের তীব্র পতনের প্রতিফলন ঘটায়।

২০২২ সালে ইডকল দ্বিতীয় একটি ইআরপিএ স্বাক্ষর করে, এবার ইকেআইয়ের সঙ্গে, যার আওতায় প্রতি ক্রেডিট ৫ দশমিক ৫০ ডলার দরে ১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন সিইআর বিক্রি করা হয়। এ চুক্তির অধীনে ২০২৩ সালে ইমপ্রুভড কুক স্টোভ (আইসিএস) প্রোগ্রাম থেকে শূন্য দশমিক ৪৬ মিলিয়ন সিইআর বিক্রি করে প্রায় ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। তবে এসএইচএস প্রোগ্রামের সিইআরগুলো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।

২০২৪ সালে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যখন ইডকল বিশ্বব্যাংকের কার্বন ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্টের (সিআই-ডেভ) সঙ্গে এসএইচএস প্রোগ্রাম থেকে ১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন এমিশন রিডাকশন (ইআরএস) বিক্রির জন্য একটি ইআরপিএ স্বাক্ষর করে, যার মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের মে মাসে ইডকল প্রতিটি ১৫ দশমিক ৫ ডলার দরে ১ দশমিক শূন্য ১৬ মিলিয়ন ইআরএস বিক্রি করে প্রায় ১৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এটি ছিল প্যারিস চুক্তির ৬ নং অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের প্রথম লেনদেন, যা প্রকল্পভিত্তিক অফসেটিং থেকে সরকার অনুমোদিত আন্তর্জাতিক কার্বন ট্রেডিংয়ের দিকে দেশটির যাত্রার সূচনা করে।

ছবি: ইডকল

সব মিলিয়ে ইডকল প্রায় ২৩ দশমিক ৩ লাখ কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে প্রায় ২ দশমিক ৭ কোটি ডলার আয় করেছে। এ আয় দেখায় যে কীভাবে কার্বন থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব জলবায়ু কার্যক্রমের জন্য নতুন সম্পদ উন্মোচন এবং দেশের স্বল্প-কার্বন রূপান্তরকে শক্তিশালী করতে পারে।

এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী নবায়নযোগ্য জ্বালানি পোর্টফোলিও, যা বৃহৎ পরিসরের সৌর স্থাপনা থেকে শুরু করে ছাদের ওপর সৌর প্যানেলের ব্যাপক ব্যবহার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ বিনিয়োগগুলো কার্বন নিঃসরণ কমায়, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায় এবং স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ইডকলের দূরদর্শী বিজনেস প্ল্যান ২০৩০ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বৃহৎ পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন ক্রেডিট থেকে আয় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা এমন একটি মডেল হবে যেখানে দেখানো হবে কৌশলগত উন্নয়ন অর্থায়ন কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে।

আরও