সুন্দরবন: বহুমাত্রিক সংকট এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

সুন্দরবনকে কেন আমরা একটি বন ভাবতে পারি না। কেন ভাবতে পারি না এটি অন্য দশটি বন থেকে আলাদা। কেন সুন্দরবনকে শুধু গাছ-কাঠের একটি বন ভাবি। এ বন তো একটি বিশেষ ধরনের বন। এ বনে শুধু গাছ, কাঠ, বাঘ, কুমির, হরিণ, মাছই নেই। বরং এর পরতে পরতে রয়েছে জীববৈচিত্র্য-প্রাণবৈচিত্র্য। শত শত প্রজাতির বৃক্ষ, লতা-গুল্ম এবং প্রাণ নিয়ে গড়ে উঠেছে এ উপকূলীয় বন। কারো দয়ায় এ বন গড়ে ওঠেনি। এ বন তৈরি করা মানুষের সাধ্যেরও অতীত। সুন্দরবনে শত প্রজাতির বৃক্ষ ও লতাপাতার সমাহার। এর ফাঁকে ফাঁকে আবার শত রকমের প্রাণ, প্রাণের সমাহার, যার কোনো ইয়ত্তা নেই। যার হিসাব-নিকাশ করাও সাধ্যের অতীত।

সুন্দরবন হাজার বছর ধরে বঙ্গোপসাগর বরাবর আত্মস্রোতীয় প্রবাহের দরুন প্রাকৃতিকভাবে পরস্রোত থেকে পৃথক হওয়া পলিসঞ্চিত হয়ে সুন্দরবন গড়ে উঠেছে। এর ভৌগোলিক গঠন বদ্বীপীয়, যার উপরিভাগে রয়েছে অসংখ্য জলধারা এবং জলতলে ছড়িয়ে আছে মাটির দেয়াল ও কাদাচর। এতে আরো রয়েছে সমুদ্র সমতলের গড় উচ্চতার চেয়ে উঁচুতে থাকা প্রান্তীয় তৃণভূমি, বালুতট এবং দ্বীপ, যেগুলো জুড়ে জালের মতো জড়িয়ে আছে খাল, জলতলের মাটির দেয়াল, আদি বদ্বীপীয় কাদা ও সঞ্চিত পলি। সুন্দরবনের জৈবিক উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সামুদ্রিক বিষয়ের গঠন প্রক্রিয়া ও প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে। সৈকত, মোহনা, স্থায়ী ও ক্ষণস্থায়ী জলাভূমি, কাদাচর, খাঁড়ি, মাটির স্তূপের মতো বৈচিত্র্যময় অংশ গঠিত হয়েছে এখানে। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদজগৎ এখানে নিজেই নতুন ভূমি গঠনে ভূমিকা রাখে।

সুন্দরবন শত প্রজাতির পশুপাখির আশ্রয়স্থল। নিরাপদ পরিবেশ পেলে এসব প্রাণী, জীবজন্তু হাজার হাজার বছর ধরে বংশ বিস্তার করে চলেছে। শত প্রজাতির বৃক্ষরাজি এমন অবস্থা তৈরি করে দেয়, যা প্রাকৃতিক বন টিকিয়ে রাখার অবস্থা তৈরি করে। সুন্দরবনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। রয়েছে হাজার বছরের লোককথা, লোকগাথা। আমাদের ইতিহাস, জ্ঞান, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অনেকটাই জড়িত এ বনের সঙ্গে। সুন্দরবনের প্রাণসম্পদ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এ অতিঘন ম্যানগ্রোভ শুধু উপকূলীয় পরিবেশকে রক্ষাই করে না, এটি একটি লাভজনক প্রতিবেশও। খোলা সাগরে চলে যাবার আগে নানা ধরনের প্রাণী ও মাছ সুন্দরবন ম্যানগ্রোভকে বিরাট এক অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এভাবেই ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা উপকূলীয় মত্স্য শিল্পকে সহায়তা করে থাকে। উপকূলীয় এলাকায় নানা ধরনের প্রতিবেশ দেখা যায়, যার সংরক্ষণ মূল্য রয়েছে। সুন্দরবন হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ প্রতিবেশ, যাকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, উপকূলে বেশকিছু প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক রয়েছে, বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ প্রাচীর, যা সুনামি বা টাইফুনের মোট শক্তির ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত প্রশমন করতে পারে। জনবসতির ওপর আছড়ে পড়ার আগে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস সাগরতীরেই রুখে দিতে পারে। সংরক্ষিত বন সুন্দরবনের বৈশিষ্ট্য এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য ম্যানগ্রোভ থেকে আলাদা রূপ দিয়েছে। কারণ এ বন বনজ সম্পদ এবং মত্স্যসম্পদের একটি অন্যতম উত্স। স্থানীয় এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য এ সুন্দরবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনের অধিকাংশ জোয়ারে তলিয়ে যায় আবার ভাটায় ভেসে ওঠে। জোয়ারের সময় হাজারো নদীনালা খাল দিয়ে সমুদ্রের পানি ধাবিত হয় উজানে। আবার ভাটায় পানি দ্রুত নেমে যায় সমুদ্রের দিকে। দিনে দুবার জোয়ার-ভাটার এমন নিসর্গ পৃথিবীতে বিরল। জোয়ার-ভাটা সুন্দরবনের মাঝিমাল্লা, জেলে, বনজীবী, বন বিভাগের কর্মচারী এবং প্রাণিকুল এবং প্রান্তসীমায় বসবাসকারী সবার জীবন নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশ্বব্যাপী আশঙ্কাজনক হারে ম্যানগ্রোভের ধ্বংস বেড়েই চলেছে। গত ৫০ বছরে আমরা হারিয়েছি পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল (অ্যালংগি, ২০০২)। নানাভাবেই আমরা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ধ্বংস ত্বরান্বিত করছি। স্থানীয় জনবসতিতে বনজ সম্পদের চরম অপব্যবহার, বড় ধরনের উন্নয়ন, যেমন— কৃষি, বনায়ন, লবণ আহরণ, নগরায়ণ ও অবকাঠামো স্থাপন এবং সেচের জন্য স্বাদু পানির গতিপথ পরিবর্তন ইত্যাদি (ইউএনইপি, ১৯৯৪)। ম্যানগ্রোভের সবচেয়ে বড় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে চিংড়ি চাষের ঘের নির্মাণের মাধ্যমে। কারণটা হলো, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলকে অনেকেই পতিত জমি জ্ঞান করে। অনেক উন্নয়নশীল দেশেই এভাবে কৃষি বা চিংড়ি চাষের জন্য ম্যানগ্রোভকে বলি দেয়া হয়েছে (ফ্র্যাংকস অ্যান্ড ফ্যালকনার, ১৯৯৯)। বিশ্বব্যাপী ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের জন্য চিংড়ি চাষ দায়ী (প্রিমাভেরা, ১৯৯৭)। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ি প্রকল্পের দাপটে ২১,০২০.৪৫ একর আয়তনের ‘চকোরিয়া সুন্দরবন’ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যেটি ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ম্যানগ্রোভের জন্য বিরাট হুমকি। কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মানে উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নভূমি ও উপকূলবর্তী দ্বীপগুলোর প্লাবিত হওয়া এবং ম্যানগ্রোভ ও জলাভূমির প্রতিবেশগুলোর ধ্বংস হওয়া, অথচ এটিই উপকূলকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সুন্দরবন ধীরে ধীরে তলিয়ে যাবার হুমকিও রয়েছে।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার। উচ্চ প্রস্বেদন ও শীতকালে পানির স্বল্পতার মিলিত জটিলতায় সুন্দরবনের মাটির লবণাক্ততা বেড়ে চলেছে। ফলে মিঠা পানিপিয়াসী প্রজাতিগুলো ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ছায়াপ্রদায়ী বড় বৃক্ষের জায়গা করে নিচ্ছে কাঠবিহীন গুল্ম আর ঝোপঝাড়। ফলে বনের উৎপাদনশীলতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। বন হিসেবে গুণগত মানের ক্রমাবনতি সুন্দরবনের ফুল-ফলের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যকে ক্রমান্বয়ে খর্ব করে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে বা আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আমাদের মনোভাব বদলাতে হবে। তা না হলে আগামী শতাব্দীতে হয়তো সুন্দরবন আর প্রকৃতিতে অবশিষ্ট থাকবে না। সুন্দরবনকে আমরা যদি আসলেই টিকিয়ে রাখতে চাই, আসলেই যদি সুন্দরবনের অভূতপূর্ব ও নয়নজুড়ানো সৌন্দর্য এবং অবাক করা অক্ষুণ্নতা বজায় রাখতে চাই, তাহলে আমাদের ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত দরকার, যার সঙ্গে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা থাকতে হবে। রাজনীতিকরা সুন্দরবনকে জীবিকার উত্স নয়, বরং যখন বিশ্বাস করবে সুন্দরবন বেঁচে থাকার অবলম্বন; তখনই প্রকৃতপক্ষে এ বন রক্ষা পাবে।

কিন্তু মজার বিষয় হলো, দেশের বিদ্যমান আইনে সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ অক্ষুণ্নতা রাখার জন্য নানাবিধ আইন ও বিধিবিধান রয়েছে। এসব ধারা-উপধারায় সুন্দরবনকে সুসংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু তা কতটুকু সংরক্ষিত, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। কারণ এ বনের পরিবেশমূল্য বেশি না অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি, সেটি নিয়ে যখন বির্তক শুরু হয়, তখন আর ভাবতে কষ্ট হয় না পুঁজিবাদী এ বিশ্ব ব্যবস্থায় সুন্দরবনের পরিবেশের আবেদন কতটুকু সংরক্ষিত হবে।

আমাদের দেশ একটি সময় ছিল— তৃতীয় বিশ্বের অতিদরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম। এখন আমরা সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশের সীমানা প্রায় ধরে ফেলেছি এবং উন্নত দেশের কাতারে নাম লেখানোর স্বপ্নও দেখছি। এ স্বপ্ন দেখা অতি সঙ্গত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ স্বপ্নই আমাদের দেখিয়েছেন। পুরো জাতি এখন আত্মমর্যাদাশীল ও স্বাবলম্বী জাতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছে। এটি নিশ্চিত যে, এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা সমৃদ্ধির বিষয়টি জড়িত। তবে এ সমৃদ্ধি কোনোভাবেই পরিবেশ বা পরিবেশমূল্যকে অস্বীকার করে নয়। কারণ পরিবেশই যদি ঠিক না থাকে, বেঁচে থাকার উত্সই যদি টিকে না থাকে, তাহলে প্রাণের অস্তিত্বই থাকবে না। মানুষ থাকবে না। সভ্যতা থাকবে না। তখন উন্নত দেশ, বিশাল অর্থনীতি, শিল্পায়ন-উন্নয়ন-অগ্রগতি সবকিছুই মূল্যহীন অর্থহীন হয়ে পড়বে। তাই বিশ্বব্যাপী এখন পরিবেশ সংরক্ষণের যে আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছে, বাংলাদেশকেও সে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পরিবেশের সব উপাদানকে মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ অর্থনীতির ভোক্তা যদি মানুষ হয়, তাহলে সর্বাগ্রে মানুষকেই রক্ষা করতে হবে। আর পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। মানুষ বাঁচলে সে তার প্রয়োজনেই অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। সুতরাং আগে পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্য দিয়েই জীবন ব্যবস্থার তাবৎ ব্যবস্থাপনাকে সাজানোর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে আমাদের রাজনীতিকদের, নেতৃস্থানীয়দের, নীতিনির্ধারকদের। তবেই বাংলাদেশের পরিবেশের প্রধান উপাদান সুন্দরবন বাঁচবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দরবন নিয়ে স্থানীয়, জাতীয় এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অতীতেও এত আলোচনা বা বিতর্ক কখনো হয়েছিল বলে মনে হয় না। যদি হতো, তাহলে সুন্দরবন এত সংকটে পড়ত না। সুন্দরবনকে আবর্ত করে যেভাবে বিনিয়োগ কার্যক্রম চলছে বা পরিকল্পনা আঁটা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে সুন্দরবন বালি-সিমেন্ট-কংক্রিটের বনে রূপান্তর হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না! বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি ছাপা হয়েছে সুন্দরবনের পাশে ১৮৬টি শিল্প প্রকল্প করা হবে। যেগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয়েছে। কিছু অবশ্য রয়েছে বাস্তবায়নাধীন।

সুন্দরবন রক্ষায় বিদ্যমান যে আইন রয়েছে, তাকে পাশ কাটিয়ে এত বিপুল সংখ্যক শিল্প যখন এ বনের পেটের মধ্যেই বাসা বাঁধার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়, তখন আর ভাবতে কষ্ট হয় না আসলে সুন্দরবন সম্পর্কে আমাদের মনোভাব কী। অতি সম্প্রতি সরকার সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে শিল্প-কারখানা অনুমোদনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিষয়টি খুবই যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী। কিন্তু এরই মধ্যে যে বিপুল সংখ্যক শিল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ লাল তালিকাভুক্ত শিল্প স্থাপন হয়ে গেছে, সেগুলো তো বন্ধ করে দেয়া বা সরিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। এ সংখ্যক শিল্প যখন একনাগাড়ে চালু হবে, তখন এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সুন্দরবন কীভাবে সহ্য করবে?

শুধু শিল্পই নয়, এ শিল্পায়নকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনে চারপাশে লোকালয়ের ব্যাপ্তিও বাড়ছে। মানুষের বসতি বাড়ছে। রোড-ঘাট, বাজার-বন্দর গড়ে উঠছে। যানবাহনের যাতায়াত বাড়ছে। এতে সুন্দরবনে মানুষের সহজ প্রবেশের পথও সুগম হচ্ছে। সহজগম্যতা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু প্রাকৃতিক একটি অতি স্পর্শকাতর বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রশ্নে বনাভ্যন্তরে বা বনের পাশে মানুষে অবাধ চলাচল কিংবা উপস্থিতি নেতিবাচক হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। বন সবসময়ই বন্য থাকবে। দুর্গম থাকবে। এক ধরনের ভয়মিশ্রিত আবেদন থাকবে; সেটাই বনের সৌন্দর্য। এখন প্রশ্ন আমাদের সুন্দরবন কি এখন সেই ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ সুন্দরবন আছে? না ক্রমেই ইট-পাথর ও চিমনির কালো ধোঁয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ধোঁয়াশার রাজ্যে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে।

জীববৈচিত্র্যের কথা বাদ দিলেও সুন্দরবনের আরো একটি বিষয় আমরা না জেনে উপেক্ষা করছি। সেটি হলো এর অপার সৌন্দর্য। ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে সুন্দরবনের ভূবনমোহনী সৌন্দর্য প্রাচীনকাল থেকেই অতি প্রিয়। সুন্দরবনের আকর্ষণ ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে তীব্র। সুন্দরবন ভ্রমণ করে ভালো লাগেনি, এমন ঘটনা ঘটতেই পারে না। বিধাতা পৃথিবীতে শত শত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন। সৌন্দর্য দানে তিনি সুন্দরবনের ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্যই করেননি। বিধাতার এ অপার দান সুন্দরবনকে জগত্খ্যাতি দান করেছে। আমরা এ খ্যাতি মূল্যায়ন করছি না। এ খ্যাতিকে অর্থের মূল্যে রূপান্তরিত করা যেকোনো অর্থনীতিবিদের জন্যই একটি দুরূহ কাজ।

 

লেখক: পরিচালক, সুন্দরবন একাডেমি

 

 

আরও