বেসরকারি খাতের বিকাশে বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো দরকার

গত আট মাসে ব্যাংক খাতে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া সংস্কার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ব্যাংক খাত সংস্কারে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত আট মাসে মৌলিক কী কী দেখলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে?

গত আট মাসে ব্যাংক খাতে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া সংস্কার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এ সময়ের মধ্যে ১৫টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এ উদ্যোগ ব্যাংকগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিয়মনীতি, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে ব্যাংকগুলোর পর্ষদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক শুরু করেছে, যা ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে।

দেশের ব্যাংক খাতের ব্যাপক সংস্কার, বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তিনটি বিশেষায়িত টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এ টাস্কফোর্সগুলোর রিপোর্টে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছি। যেমন ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানা নেয়ার অনুমতি না দেয়া, দুর্বলভাবে পরিচালিত ব্যাংকগুলোর জন্য একটি এক্সিট পলিসি প্রণয়ন ইত্যাদি।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান দ্বারা দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে দুর্বল হয়ে পড়া কয়েকটি ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনায় কাজ করছে। ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে নেয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান যাচাই, সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণ এবং চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঋণের শ্রেণীবিন্যাস, প্রভিশনিং ও আদায়ের জন্য একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে। অর্থঋণ আদালত ও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন খেলাপি ঋণ আদায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নীতিমালা জারি করেছে, যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকের আইন বিভাগগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এতে এসব বিভাগকে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে, যাতে সামগ্রিক ব্যাংকিং দক্ষতা ও ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বাড়ানো যায়।

দুর্বল ব্যাংকগুলোর রিজলভিং, পুনর্গঠন ও অবসায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’ প্রণয়ন করেছে এবং ‘ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স আইন (সংশোধনী)’ প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খারাপ ঋণ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠনের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন’-এর খসড়া সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অর্ডিন্যান্স’ নামে পুনঃনামকরণ করা হয়। ব্যাংক মালিকানায় স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘আলটিমেট বেনিফিশিয়াল ওনার (ইউবিও)’ শনাক্তকরণ ও মালিকানা কাঠামো প্রকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করেছে। অতীতে এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শেল কোম্পানি গঠন করে একাধিক ব্যাংকের মালিকানা লাভের সুযোগ পেয়েছিল। আমি বিশ্বাস করি, এ সংস্কারগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, টেকসইতা ও জনমানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া দরকার বলে মনে করেন?

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে একযোগে কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। প্রথম ধাপ হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খেলাপি ঋণ শনাক্তকরণ, যা এতদিন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এতদিন খেলাপি ঋণ গোপন করার একটি প্রবণতা ছিল। ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ দেখানো হয়েছিল ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যেটি ডিসেম্বর ২০২৪-এ বেড়ে ২০ দশমিক ২১ শতাংশ হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যাংক গভর্নর বলেছেন, এটি জুন ২০২৫ নাগাদ ৩০ শতাংশ অতিক্রম করতে পারে। তাই সঠিকভাবে খেলাপি ঋণের ডায়াগনসিসই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বল গভর্ন্যান্সই খেলাপি ঋণের মূল উৎপাদক হওয়ায় এখানে ব্যাপক গুণগত সংস্কার আনা জরুরি। প্রভাব খাটিয়ে ঋণ অনুমোদনের অনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ এবং অনুমোদনের পর তদারকি প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী করতে হবে। বর্তমান ঋণগুলোর কার্যক্রমে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও অটোমেশন চালুর পাশাপাশি প্রয়োজনে ডেটা অ্যানালিটিকসের মাধ্যমে গ্রাহকের ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অঙ্গীকার। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ ঋণ ফেরত না দিয়ে পার না পায়।

ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করাকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এ ধরনের খেলাপিদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অর্থঋণ আদালতসহ খেলাপি ঋণের বিচারিক আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে। দ্রুত রায় দেয়া ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে। এছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি (এডিআর) ব্যবহার করে আদালতের বাইরে মামলা নিষ্পত্তির সংস্কৃতি উৎসাহিত করা যেতে পারে।

ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা থাকা জরুরি, যাতে প্রকৃত সমস্যাগ্রস্ত গ্রাহকরা উপকৃত হয় এবং অনৈতিক সুবিধাভোগীরা সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত ঋণখেলাপি বিধান পুনর্বহাল করতে হবে। একই শিল্পগোষ্ঠীর একটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে ওই গোষ্ঠীর অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ অনুমোদন দেয়া যাবে না। সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে ব্যাসেল-৩-এর আওতায় বাধ্যতামূলক প্রকাশযোগ্য তথ্যগুলো যথাসময়ে প্রকাশ করতে বাধ্য করতে হবে। বেসরকারি খাতে একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান আইন বিভাগ/আইনি টিমকে শক্তিশালী করতে হবে এবং শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আরো মনোযোগী করতে বিশেষ ভাতা প্রদান করা যেতে পারে। আশার কথা হলো সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার এ বিষয়ে বেশকিছু যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্যাংক খাতের একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে সরকারের কাছে মোটা দাগে কেমন বাজেট চান?

দেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতের বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন একটি বাজেট আমাদের প্রত্যাশা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট এমনভাবে প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করবে, শিল্পায়নের গতি বাড়াবে এবং সর্বস্তরের মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা হলো একটি বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো। বিদ্যমান জটিল ও কঠিন কর ব্যবস্থার সরলীকরণ, রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও ডিজিটালকেন্দ্রিক করা এবং কর প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও সেবামুখিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর প্রদানে আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাজেটে এমন প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা জরুরি, যা ভবিষ্যতে আরো নতুন নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করতে সহায়তা করবে এবং দেশের কর সংস্কৃতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। কর ব্যবস্থার পাশাপাশি আর্থিক খাতের জন্যও বাজেটে থাকতে হবে সময়োপযোগী ও প্রগতিশীল দিকনির্দেশনা। করপোরেট কর হার এবং উৎসে করসহ অন্যান্য শুল্ক ও কর যৌক্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে আসা জরুরি।

অর্থনীতির স্বার্থে দেশের পুঁজিবাজারকে অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, প্রণোদনামূলক করনীতি গ্রহণ, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে প্রতিষ্ঠা করা। ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরিতে বাজেটে দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি। বন্ডে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এবং বন্ডের বাজারকে আরো সম্প্রসারিত করতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন তহবিলকেও জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগের জন্য কর ছাড়ের সুবিধা দেয়া দরকার।

দীর্ঘদিন ধরে আপনারা ব্যাংকের করপোরেট কর হার, লোন ও ক্রেডিট কার্ডে আবগারি শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এবারের বাজেটে আরো কি কোনো দাবি আছে?

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা এবিবির পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে কিছু প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছি। আমরা সবসময়ই চেয়েছি, ব্যাংক খাতের ওপর অপ্রয়োজনীয় কর ও শুল্কের চাপ কমানো হোক, যাতে গ্রাহকসেবার মান বাড়ানো যায়। এতে মূলত গ্রাহকরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন এবং ব্যাংক খাতে তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এটি হতে পারে দারুণ একটি উদ্যোগ। করপোরেট কর হার বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা চাই আগামী বাজেটে এ হার ৩০ শতাংশ বা তার নিচে নামিয়ে আনা হোক এবং সব পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির জন্য অভিন্ন করপোরেট করহার নির্ধারণ করা হোক।

এছাড়া ব্যাংকগুলোর স্টক ডিভিডেন্ড পেমেন্ট এবং মুনাফা সংরক্ষিত তহবিলে স্থানান্তরের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর (সুপার ট্যাক্স) প্রদানের বিধানের কারণে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব আয় থেকে মূলধনে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বরং ব্যাংকগুলো যদি নিজস্ব আয় থেকে স্টক ডিভিডেন্ড এবং সংরক্ষিত তহবিলে স্থানান্তরের মাধ্যমে তাদের মূলধন বৃদ্ধি করে ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি অর্জন করে তাহলে তা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এর পাশাপাশি ঋণের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট এবং সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণকে আয়কর আইনের অধীনে অনুমোদিত খরচ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করেছি, যা ব্যাংকিং শিল্পের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সিএসআর ব্যয়কে পুরোপুরি কর অনুমোদিত খরচ হিসেবে বিবেচনার পাশাপাশি এর ওপর আরোপিত সীমা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি, যাতে ব্যাংকগুলো সামাজিক উন্নয়নে আরো অবদান রাখতে পারে।

আমরা ব্যাংকে মেয়াদি আমানতের হিসাব খোলা ও বহাল রাখা, ঋণ বিতরণ ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (পিএসআর) দাখিলের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে আগের মতো ই-টিআইএন দাখিলের বিধান পুনর্বহাল করার সুপারিশ করেছি। অথবা ঋণের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে এবং ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে হলেই কেবল আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার প্রমাণপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে মনে করি। এতে সিএমএসএমই ও রিটেইল খাতে প্রবেশ সহজ হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং পরোক্ষভাবে কর রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্টকে অভ্যন্তরীণ হিসাব হিসেবে বিবেচনা করে এসব অ্যাকাউন্টে আরোপিত আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছি, যা একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের নিবাসী করদাতা কর্তৃক বিদেশে অনিবাসীকে ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তন থেকে আগের মতো অব্যাহতি বহাল করার সুপারিশ করেছি। এতে ব্যবসার ব্যয় হ্রাস পাবে, ফলে দেশীয় করদাতাদের প্রত্যক্ষ কর প্রদানের সক্ষমতা আরো বাড়বে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার চলমান সংকট নিরসনেও এটি ভূমিকা রাখবে।

আরও