আইসক্রিম বিক্রির ওপর সম্পূরক শুল্ক বাদ দিতে হবে

বর্তমানে দেশের বাজারে আকার ও প্রকারভেদে আনুমানিক ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আইসক্রিমের চাহিদা রয়েছে। যদিও দেশীয় ব্র্যান্ড সম্পূর্ণ জোগান দেয়ার মতো সক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি।

দেশে আইসক্রিমের বাজার কত?

বর্তমানে দেশের বাজারে আকার ও প্রকারভেদে আনুমানিক ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আইসক্রিমের চাহিদা রয়েছে। যদিও দেশীয় ব্র্যান্ড সম্পূর্ণ জোগান দেয়ার মতো সক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি। তাই আইসক্রিম বিক্রিতে প্রতি মৌসুমে চাহিদার তুলনায় জোগানের স্বল্পতা পরিলক্ষিত হয়। মূলত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরকে আইসক্রিম বিক্রির মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার মধ্যে মার্চ থেকে জুন সুপার পিক এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরকে সেমি-পিক সিজন হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ খাতের সঙ্গে কতটি কোম্পানি যুক্ত রয়েছে? এ খাতে কর্মংস্থান কেমন?

মূলত বর্তমানে সাতটি দেশীয় কোম্পানি ব্র্যান্ডেড আইসক্রিম উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া জেলা ও বিভাগভিত্তিক ১০-১৫টি কোম্পানি ছোট পরিসরে আইসক্রিম উৎপাদন ও বাজার করছে। প্রতক্ষ্যভাবে ২০ হাজারের অধিক মানুষের কর্মসংস্থান আইসক্রিম ব্যবসার মধ্যমে হয়।

আইসক্রিমের বাজার বিকাশে প্রতিবন্ধকতাগুলো কী? এ প্রতিবন্ধকতা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়?

মানসম্পন্ন আইসক্রিম উৎপাদনের প্রথম শর্ত হচ্ছে মানসম্পন্ন কাঁচামাল। কিন্তু এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সব ব্র্যান্ডেড কোম্পানিকে এ কাঁচামালের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। তার ওপর এসব কাঁচামাল আমদানির জন্য রয়েছে উচ্চ শুল্কহার। উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারকের শুল্কহার এক্ষেত্রে সমান ধার্য করা হয়।

যেহেতু আইসক্রিম একটি স্পর্শকাতর তাপমাত্রা সংবেদনশীল পণ্য, তাই এর উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন ও বাজারজাতের প্রতিটি পর্যায়ে প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জনবলের নির্দিষ্ট কোনো প্রশিক্ষণ নীতিমালা নেই।

শুধু আইসক্রিমসংশ্লিষ্ট মানসম্পন্ন মেশিন আমদানির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কোনো এইচএস কোড নেই। সেক্ষেত্রে অন্যান্য শিল্পের মেশিন আমদানি এইচএস কোডের সঙ্গে সমন্বয় করে আইসক্রিমসংশ্লিষ্ট মানসম্পন্ন মেশিন আমদানি করতে হয়, যা খুবই জটিল প্রক্রিয়া।

আগে শহর ও গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুতের সমবণ্টন নিয়ে বৈষম্য ছিল। আইসক্রিম শিল্পের বিকাশে এটিও একটি বড় বাধা। যদিও বর্তমান সরকার এ বৈষম্য দূরীকরণের ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর এবং ছোট পরিসরে হলেও এর সুফল প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো পেতে শুরু করেছে।

ঈদ বা যেকোনো উৎসবে আইসক্রিমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। কিন্তু ঠিক ওই সময়েই যেকোনো মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরোপিত হয়, যা এ শিল্পের বিকাশে আরেকটি বাধা। তবে উল্লিখিত প্রতিটি বাধাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সেক্ষেত্রে আইসক্রিম খাতে প্রয়োজন সরকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজাটে আইসক্রিম খাতের জন্য বিশেষ কোনো দাবি বা প্রত্যাশা আছে কি?

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজাটে আইসক্রিম খাতের জন্য সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল ও মেশিন আমদানির জন্য পৃথক এইচএস কোড ঘোষণার অনুরোধ করছি। এছাড়া আইসক্রিমের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চ শুল্কহারের পরিবর্তে ব্যবসাবান্ধব শুল্কহার ঘোষণা করা উচিত।

আইসক্রিম বিক্রি করতে সেলস জেনারেটিং অ্যাসেট (এসজিএ) অর্থাৎ প্রয়োজন ফ্রিজার। বর্তমানে ডিপ ফ্রিজে আমদানির ওপর ১০৪ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। দেশের বাজারে উন্নতমানের কমার্শিয়াল ফ্রিজার উৎপাদন হচ্ছে না। তাই ভ্যাট রেজিস্টার্ড আইসক্রিম উৎপাদন শিল্পের জন্যে ফ্রিজার আমদানির ওপর শুল্ক কমানো আবশ্যক।

আইসক্রিম একটি দুগ্ধজাত পণ্য। দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে খুবই প্রয়োজনীয়। বিশেষ তাপমাত্রা বজায় রেখে উৎপাদন ও বিক্রি করতে হয় বলে খরচও অনেক বেশি। তাই আইসক্রিম বিক্রির ওপর সম্পূরক শুল্ক বাদ দিতে হবে।

বাংলাদেশের আইসক্রিম বিশ্ববাজারে রফতানি করার সুযোগ কেমন?

ইগলুসহ বাংলাদেশে উৎপাদিত কতিপয় আইসক্রিম ব্র্যান্ড বাজারে মানসম্পন্ন আইসক্রিম বাজারজাত করছে। এসেব ব্র্যান্ডের প্রস্তুতকৃত আইসক্রিম বিশ্ব মানসম্পন্ন ও রফতানিযোগ্য। প্রতিবেশী ভারতের সেভেন সিস্টার্সসহ নেপাল, ভুটানে বাংলাদেশে উৎপাদিত আইসক্রিম রফতানি করা সম্ভব। এছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে প্রবাসী বাংলাদেশীর অবস্থান এবং সেখানকার আবহাওয়া উষ্ণ, যা বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের আইসক্রিম রফতানির জন্য খুবই ইতিবাচক।

সেক্ষেত্রে ব্র্যান্ডেড কোম্পানিগুলোর দেশীয় চাহিদা পূরণ করে রফতানিযোগ্য উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করা আবশ্যক। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা এবং রফতানিসংস্লিষ্ট অবকাঠামো প্রণয়ন।

রফতানির সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের কাছে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন?

আইসক্রিম রফতানির জন্য সরকার আইসক্রিম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর আমদানিকারকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনসংক্রান্ত কর্মশালা বা প্রদর্শনীর উদ্যোগ গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। রফতানির জন্য পৃথকভাবে আইসক্রিম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষভাবে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত করা।

আরও