একমাত্র ওয়ালটনই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ৬ স্টার রেটিং সমৃদ্ধ এসি বাজারজাত করছে

প্রতি বছর গরমের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসি বিক্রি বাড়ে। চলতি বছর এখনো তেমন গরম পড়েনি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে ঈদের পরেই গরমের তীব্রতা বাড়বে।

এসির বাজারের পরিস্থিতি এখন কেমন?

প্রতি বছর গরমের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসি বিক্রি বাড়ে। চলতি বছর এখনো তেমন গরম পড়েনি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে ঈদের পরেই গরমের তীব্রতা বাড়বে। তবে গরমের আগেই অনেক মানুষ এসি কেনা শুরু করেছেন। কারণ এ সময় অসংখ্য মডেলের মধ্য থেকে তাদের পছন্দের পণ্যটি সহজেই কিনতে পারেন এবং দ্রুততম সময়ে ইনস্টলেশন সুবিধা পাওয়া সহজ হয়। চলতি বছর আমরা ছয়টি সিরিজের ৭৪টি মডেলের ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি বাজারে ছেড়েছি। সব মিলিয়ে গরমে এসির চাহিদা মেটাতে আমরা প্রস্তুত আছি।

গত কয়েক বছরে ক্রেতাগোষ্ঠীর কোনো পরিবর্তন দেখছেন কিনা? এ বিষয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

বর্তমান সময়ে এসি আর বিলাসদ্রব্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছর আগের চিত্রটা অবশ্য ভিন্ন ছিল। তখন উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা সাধারণত এসি ব্যবহার করতেন। কিন্তু আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও সরকারের দেয়া নীতিসহায়তার ফলে দেশে বিশ্বমানের এসি উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমান সময়ে উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত পর্যন্ত সব শ্রেণীর মানুষই এসি ক্রয় ও ব্যবহার করছেন।

আপনাদের ব্র্যান্ডের এসি প্রথম বাজারে এসেছিল কবে? বিক্রিতে আপনাদের প্রবৃদ্ধি কেমন?

ওয়ালটন দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন, বিপণন ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রথম এয়ারকন্ডিশনার প্রডাকশন প্লান্ট স্থাপন করে ওয়ালটন। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা যেন বিশ্বমানের ইলেকট্রনিকস পণ্য ও সেবা সাশ্রয়ী মূল্যে পেতে পারেন। সেজন্য এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদনে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশের সুরক্ষার ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছি। গ্রাহক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ওয়ালটনের নিজস্ব সুদক্ষ গবেষণা ও উদ্ভাবন (রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন) নিরলস গবেষণার মাধ্যমে তৈরি করছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এয়ারকন্ডিশনার। দেশে এসি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের ফলে এ খাতে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি কর্মসংস্থান হচ্ছে। বাড়ছে রফতানি আয়। বিশ্বের মাত্র নয়টি দেশ ভিআরএফ উৎপাদন করে। তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের ওয়ালটন।

দেশের এসির বাজারে আপনাদের অংশগ্রহণ কত শতাংশ?

এসির বাজারে ওয়ালটন দেশের নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড। রেসিডেনশিয়াল এসির পাশাপাশি লাইট কমর্শিয়াল এবং কমার্শিয়াল এসি উৎপাদনে ওয়ালটন শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। দেশের এসি বাজারে ৩০ শতাংশেরও বেশি মার্কেট শেয়ার ওয়ালটনের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ওয়ালটন এসি দেশের বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।

বিদেশে কি বাংলাদেশে তৈরি এসির চাহিদা আছে? আপনারা কি এসি রফতানি করেন?

বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটন এসির চাহিদা বিশ্বজুড়ে রয়েছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে আমরা পণ্য রফতানি করি। এসির বৈশ্বিক বাজার টার্গেট করে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি। গ্লোবাল এসি মার্কেটে আমাদের উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করছি।

আপনাদের এসির প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিয়ে বলবেন?

ওয়ালটন এসির বিশেষত্ব হচ্ছে ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তিসহ বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচারের ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়িত্ব, দামে সাশ্রয়ী, মডেলের ভিন্নতা এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত সর্বোচ্চসংখ্যক সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা। বাংলাদেশে একমাত্র ওয়ালটনই ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ৬ স্টার রেটিং সমৃদ্ধ এসি বাজারে ছেড়েছে, যা বিএসটিআই এবং বুয়েট কর্তৃক স্বীকৃত। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি। ওয়ালটন এসিতে এখন ব্যবহার হচ্ছে বিশ্ব স্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব আর৩২ এবং আর২৯০ গ্যাস, যা পরিবেশ সুরক্ষায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখে চলছে। এরই মধ্যে এসিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক সিএফসি এবং এইচসিএফসি গ্যাসের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ওয়ালটন। ফলে পরিবেশবান্ধব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র উৎপাদনে ভারত ও চীনের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ওয়ালটনের উৎপাদিত ৯০ ভাগ এসিই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। রয়েছে সর্বোচ্চ এনার্জি ইফিশিয়েন্সি রেশিও (ইইআর)।

পাশাপাশি ওয়ালটন এসিতে রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে, অফলাইন বাংলা এবং ইংরেজি ভয়েস কন্ট্রোল, ব্লুটুথ কন্ট্রোল, এআই ডক্টর, কোটেক টেকনোলজি, স্মার্ট টেকনোলজি ইত্যাদি প্রযুক্তি ও ফিচার।

বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য এখন কোন ধরনের এসির চাহিদা বেশি?

বাসাবাড়িতে সাধারণত স্লিট টাইপ এসি বেশি ব্যবহার হয়। বাসাবাড়ির জন্য ১ থেকে ২.৫ টনের স্লিট এসির চাহিদা বেশি। আর মাঝারি এবং বড় স্থাপনায় লাইট কমার্শিয়াল ও কমার্শিয়াল এসি ব্যবহার হয়।

এসি বিস্ফোরণ নিয়ে এখন ক্রেতাদের একটা দুশ্চিন্তা দেখা যায়। এ রকম দুর্ঘটনা এড়াতে কী পরামর্শ দেবেন?

বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের মানসম্মত এসি ব্যবহার করলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এসির অভ্যন্তরে যে সামান্য পরিমাণ গ্যাস থাকে, তা থেকে যদি বিস্ফোরণ হয়ও, তা খুব ভয়াবহ রূপ নিতে পারে না। সঠিকভাবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এসি থেকে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে না। ঘরের মাপ অনুযায়ী এসি কেনা, সঠিক স্পেকের বৈদ্যুতিক তার ও সকেটের ব্যবহার, নিয়মিত সার্ভিসিং ইত্যাদি বিষয় মেনে চললে এসি থেকে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে না।

এ ঈদে বা অন্য সময়ে এসি কিনতে ক্রেতাদের জন্য আপনারা কোনো বিশেষ অফার দিচ্ছেন কি?

প্রতি বছরই ঈদে এসির গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে ওয়ালটন। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম নয়। কোরবানির ঈদ পর্যন্ত ওয়ালটন এসি ক্রয়ে গ্রাহকের জন্য রয়েছে মিলিয়নেয়ার হওয়ার সুযোগ। বছরজুড়েই গ্রাহকের এসি এক্সচেঞ্জ সুবিধা দিচ্ছে ওয়ালটন। এ সুবিধার আওতায় যেকোনো ব্র্যান্ডের পুরনো এসির বদলে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ডিসকাউন্টে গ্রাহক ওয়ালটনের নতুন এসি কিনতে পারছেন। পাশাপাশি ওয়ালটন এসিতে ফ্রি ইনস্টলেশন, জিরো ইন্টারেস্টে সহজ কিস্তি ও ইএমআই সুবিধা রয়েছে।

আরও