উনিশশ সাতচল্লিশের দেশভাগের মধ্যে দিয়ে পূর্ববঙ্গীয় গ্রামীণ সমাজের ওপর বড় ধরনের সুস্পষ্ট প্রভাব ও ছাপ পড়ে। গ্রাম সমাজের ক্ষমতা কাঠামোর বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পূর্ববঙ্গের কেন্দ্র ঢাকায় তখনো গ্রাম সমাজের ছাপ উপস্থিত। দেশভাগের ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে ঢাকাসহ পূর্ববঙ্গের অপেক্ষাকৃত বড় শহরগুলোতে। অর্থাৎ ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তর আঠারোটি শহর, সুনির্দিষ্টভাবে বললে ঢাকার বাইরের শহরগুলো যথাক্রমে চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল। পূর্ববঙ্গের বাঙালি হিন্দু সমাজের অবস্থাপন্ন অভিজাত পরিবারগুলো যারা অর্থনীতির কেন্দ্রীয় শক্তি ছিল, তাদের বড় অংশটি কলকাতায় চলে যায়। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলিম অভিজাত সমাজের পাশাপাশি সাধারণ মুসলিমদের একটি অংশ পূর্ববঙ্গে ফেরত আসে। ব্যবসা, ভূমি মালিকানাসহ সামাজিক ক্ষমতা কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন আসে। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভূমি ও ব্যবসার মালিকানা হস্তান্তর হয়। দেশভাগ দুই অঞ্চলজুড়ে বৃহৎ একটি উদ্বাস্তু শ্রেণীর জন্ম দিয়েছিল। অন্যদিকে দেশভাগের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাতারাতি দক্ষ ও মানসম্পন্ন শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ে। এ রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে মুসলিম লীগকেন্দ্রিক নতুন ভূমিসম্পদের মালিক শ্রেণীর জন্ম হয়েছিল।
অন্যদিকে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর পূর্ববঙ্গে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব হয়। ব্রিটিশ ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি ও প্রগতিশীলদের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া তেভাগা আন্দোলন কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রেখে যায়। পাটের অর্থনীতি গ্রামীণ সমাজের মধ্য থেকে নতুন এই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছিল। যারা পাকিস্তান জন্মের প্রথম বছরই (১৯৪৮) ভাষা প্রশ্নে শাসক শ্রেণীর বৈষম্য ও পীড়নমূলক চরিত্রের মুখোমুখি হয়। ধর্মভিত্তিক কৃত্রিম রাষ্ট্রের স্বপ্ন প্রথম আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ভাষা প্রশ্নটি ক্রমান্বয়ে আত্মপরিচয় ও অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। ভাষা প্রশ্নে শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাথে গ্রামসমাজের গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার যোগাযোগের মাধ্যম ছিল বৃহত্তর ছাত্রসমাজ। এর বড় প্রমাণ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
এ পথ ধরে তত্কালীন সমাজে অসাম্প্রদায়িকতার পথ অনুসৃত হয়। পাকিস্তান হওয়ার মাত্র সাত বছরের মাথায় ১৯৫৪ সালে যুক্তফন্ট্রের নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিমের লীগের সাংগঠনিক ও সামাজিক অবস্থান গ্রাম সমাজ অবধি ব্যাপকভাবে ধস নামে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৬ সালে গড়ে ওঠে অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা ও সংস্কৃতিক আন্দোলন। দুই অর্থনীতি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার মাধ্যমে আঞ্চলিক বৈষম্যের ব্যাপারে জনগণের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে ওঠে। মাঝখানে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রভাবে সত্তরে বঙ্গবন্ধু ছয় দফার পক্ষে গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনসম্মতি তৈরি করেন। যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বঙ্গবন্ধু ছয় দফার আন্দোলন এক দফায় রূপ দেন। সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধু তার বক্তৃতায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে তৈরি করে দেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দাঁড়ায় কেবল সময়ের ব্যাপার। পঁচিশের কালরাতে পাকিস্তানি বাঙালি জাতির ওপর গণহত্যা চালায়। বাঙালিরা প্রতিরোধ ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গ্রাম হয়ে ওঠে দেশের শহরগুলো থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষের আশ্রয়স্থল।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ গ্রাম সমাজের মধ্যে তৈরি করে নতুনধারার গতিশীলতা। এর অভিঘাত সামাজিক কাঠামোর ওপর ধারাবাহিক প্রভাব রেখে যায়। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধরে আমাদের গ্রামগুলো আশ্রয়, প্রতিরোধ ও গেরিলা যুদ্ধ কৌশলের বাস্তবায়নে মূল নিয়ামক হয়ে কাজ করেছিল। প্রথমত, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা চালায়। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয়। গ্রামীণ সমাজ এই বিপদগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দিয়ে রক্ষা করে। ক্ষেত্রবিশেষে পথ দেখিয়ে সার্বিক সহায়তা করে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিতে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানি সৈনিকদের জন্য গ্রামাঞ্চলের প্রবেশপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলে মানুষদের নিরাপদে ঘরে যেতে সহায়তা করে। যার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি সৈন্যরা গ্রামের পর গ্রাম আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। গ্রাম পুড়ে হয়েছিল ছাই। হানাদারদের অত্যাচারে গ্রাম থেকে প্রায় এক কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে ভারতবর্ষে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তৃতীয়ত, দেশজুড়ে গেরিলা যুদ্ধ শুরু হলে গ্রামের কৃষক পরিবারের একটি বড় অংশ মুক্তিযুদ্ধে প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়, মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত, তথ্য জোগান, থাকা-খাওয়ার জোগান, অস্ত্র পরিবহন ও অস্ত্র লুকানো এবং প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। মোদ্দাকথা মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে গেরিলা কৌশলের সর্বোচ্চ সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের মনোবল ও শক্তিক্ষয়ের পথটি কাজে লাগিয়েছিল।
২. একাত্তরের ষোলোই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্থবির গ্রাম সমাজের ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ে। গ্রামীণ জনপদ অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার সমাজ ও রাজনীতিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যায়। প্রাদেশিক মানসিকতার জায়গাটি রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি, ব্যক্তি ও সমাজের সাহস ও মানসিকতার পরিসরকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের গ্রাম সমাজের মানুষের ভাগ্যের চাকা কাদায় আর আটকে থাকে না। গ্রামের মানুষ সরকারের নীতিসহায়তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের উদ্যোগ আর পরিশ্রম দিয়ে যার যার নিজের জায়গা থেকে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পেরেছে। প্রায় পঞ্চাশ বছর হতে চলল দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের পঞ্চাশ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে পাঁচ দশকের গ্রামীণ সমাজের রূপান্তরের রূপরেখা এ প্রবন্ধে তুলে আনার প্রচেষ্টা থাকবে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে দারিদ্র্য বিমোচন জোরালো পবিরর্তনের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। অর্থনীতিতে কৃষির এ অবদান ২০১০ সাল অবধি অব্যাহত ছিল। বিশেষত কর্মসংস্থান প্রশ্নে এখনো কৃষির অবদান সর্বোচ্চ। দেশের জনসংখ্যার শতকরা ৭০ ভাগ এবং কর্মশক্তির শতকরা ৭৭ ভাগ গ্রামে বাস করে, যাদের প্রত্যেকের আয়ের একটি অংশ কৃষি খাত থেকে আসে।
বিগত পাঁচ দশকে খাদ্যনিরাপত্তার ব্যাপারে বড় ধরনের অর্জন চোখে পড়ার মতো। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৭২ থেকে ২০২০ সাল সময়ে খাদ্যোৎপাদনে ৯.৮ থেকে ৩৫.৩ মিলিয়ন টনে উত্তীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশে এ সাফল্যের পেছনে সরকারের কৃষিপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষকদের প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, কৃষির বহুমুখীকরণ, বীজ, সার ও যন্ত্রপাতির জন্য কৃষককে কৃষি ভর্তুকি ইত্যাদি নিয়ামক ভূমিকা কাজ করেছে। কৃষি খাতের এ সাফল্যের মূল নায়ক অদম্য সেই কৃষক। সেই সাথে এ কথা মনে রাখা দরকার কৃষিতে উৎপাদন বাড়লেও জমির পরিমাণ ও ভূমিহীনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
লক্ষণীয় যে সময়ের পরিক্রমায় গ্রামীণ সমাজের ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ১৯৪৭ সালে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা ছিল শতকরা ১৪ ভাগ, ১৯৭০ সালে তা দাঁড়ায় শতকরা ২০ ভাগ (খানাভিত্তিক শূন্য দশমিক পাঁচ একর জমির নিচে) বর্তমানে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ব্যক্তিগত জমি সীমিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ভূমি মালিকানা (সীমিতকরণ) আদেশ ১৯৭২-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের মালিকাধীন কৃষি ও অকৃষি উভয় খাতে জমির সর্্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণের উদ্দেশ্য জারীকৃত রাষ্ট্রপতির আদেশ (রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ৯৮ নং আদেশ)। এ আদেশে মালিকানাধীন ভূসম্পত্তির পরিমাণ ৩৭৫ বিঘা থেকে কমিয়ে ১০০ বিঘায় সীমিত করে অতিরিক্ত জমি সরকারের কাছে সমপর্ণের বিধান চালু হয়। তদনুযায়ী ক্রয়, দান, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো উপায়ে এ পরিমাণের অধিক জমি দখল রাখা নিষিদ্ধ করা হয়। এ আদেশের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে তার অধিকারভুক্ত যাবতীয় ভূসম্পত্তির একটি এবং সমর্পণযোগ্য অতিরিক্ত জমির একটি পৃথক বিবরণী দাখিল করতে হয়। আইনে বিধান রাখা হয় যে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিবরণীতে কোনো সম্পত্তি বাদ দেয়া অথবা অসত্য ঘোষণা প্রদান করে, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং বিবরণী থেকে বাদ দেয়া ভূমি সরকার বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। পরে ১৯৮৪ সালে ভূমি সংস্কার আইন করা হয়, যা খাস জমি নিষ্পত্তি করার সাথে সম্পৃক্ত। সরকার ১৯৮৭ সালে ভূমি সংস্কার বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে এবং ১৯৯৭ সালে কৃষি খাস জমি নিষ্পত্তি করার নীতি গৃহীত হয়।
ভূমিবিষয়ক সরকারের এসব নীতিমালা বৃহত্তর গ্রামীণ সমাজ, কৃষক ও ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা করেছে। বর্তমানে ভূমি দলিলপত্রে ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে। এটি ভূমি ব্যবস্থাপনায় আরেক ধাপ অগ্রগতি। বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই গ্রামীণ সমাজে ভূমিকেন্দ্রিক বিরোধ মীমাংসা করতে সাহায্য করবে। এসব নীতি সিদ্ধান্তের কারণে গ্রামীণ সমাজের প্রাচীন ভূমিকেন্দ্রিক গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর ভিতটি ধাপে ধাপে দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. অন্যদিকে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে দেশ পুনর্গঠনে গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নের কাজে বেসরকারি সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নানা উদ্যোগ আর সহযোগিতা নিয়ে এনজিওরা দেশ পুনর্গঠনের কাজে দ্রুত তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিদেশী এনজিও এবং বিদেশে থাকা বাঙালি পেশাজীবীরা প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠিত করে ত্রাণসামগ্রী ও সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে শরণার্থীদের সেবায় এগিয়ে আসে। গণস্বাস্থ্য, আরডিআরএস (রংপুর-দিনাজপুর রুরাল সার্ভিস) আর ব্র্যাকের জন্ম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, ১৯৭১ সালে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এ সংগঠনগুলো ধারাবাহিকভাবে তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে আজ সুপরিচিতি লাভ করেছে। এরা ছিল স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের এনজিও।
পরবর্তী সময়ে এগুলো দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কিংবা এসব এনজিও থেকে বেরিয়ে নিজেরা নতুন সংগঠন গড়ে তুলেছে। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন সংগঠন হিসেবে পুরনো হলেও তাদের মূল উত্থান পর্বটি আশির দশকের (১৯৮৭) শেষ দিকে। দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রধান এসব এনজিও যথাক্রমে নিজেরা করি, প্রশিকা, গণসাহায্য সংস্থা, সমতা, ও এএলআরডি (অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)। তৃতীয় প্রজন্মে এসে ছোট ছোট আকারের বিপুলসংখ্যক এনজিও গড়ে উঠেছে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে সরকারের পাশাপাশি এনজিওগুলোর কাজের কারণে বাংলাদেশ সামাজিক সূচকগুলোতে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। গ্রামীণ সমাজে এনজিও কার্যক্রমের ভিত্তিতে পাঁচটি ধারায় এদের শ্রেণীবিন্যস্ত করা যায়। যা নিম্নরূপ:
প্রথমত, স্বাধীনতার পরপর এনজিওগুলো মূলত রিলিফের কাজে এবং যুদ্ধে গ্রামের পর গ্রামে পুড়িয়ে দেয়া ঘরবাড়ি নির্মাণে সহযোগিতা করে, অর্থাৎ দেশের দুর্যোগ মোকাবেলা ও সার্বিক পুনর্গঠন পর্ব;
দ্বিতীয়ত, গ্রাম উন্নয়নে ভূমিহীনদের নিয়ে গ্রুপ গঠন, সামাজিক সচেতনতা তৈরি, গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থাৎ গ্রামীণ পর্যায়ে নতুন ধরনের সংগঠন নির্মাণ;
তৃতীয়ত, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক বনায়ন, প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ঋণ, খাওয়ার স্যালাইন, সব শিশুর জন্য টিকা কার্যক্রম, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি, অর্থাৎ তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন সেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখে;
চতুর্থত, মৌলিক শিক্ষা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, নিরাপদ মাতৃত্ব, জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা জাল কার্যক্রমে সহযোগিতা ও আয়বর্ধক কার্যক্রম; চরম দারিদ্র্য নিরসন কার্যক্রম অর্থাৎ এ পর্বে এনজিওগুলো টেকসই উন্নয়ন ও নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ওপর জোর দেয়;
পঞ্চমত, সামাজিক বিষয়ভিত্তিক নীতি গবেষণা, সামাজিক পরিবীক্ষণ, ক্যাম্পেইন ও অ্যাডভোকেসি; তৃণমূলে সিভিল সমাজের আন্দোলন তৈরি এবং নীতি আলোচনায় অনুঘটক ও প্রভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
বিগত প্রায় পাঁচ দশকে এনজিও খাত গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষত ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে। যদিও ক্ষুদ্র ঋণের ব্যাপারে আমরা জানি নানা সমালোচনা আছে নানা মহল থেকে, সেসব বিবেচনা কবুল করেই এ কথা বলছি। যুগের পর যুগ ধরে গ্রামীণ সমাজে যে উচ্চসুদের মহাজনি প্রথা টিকে ছিল, ক্ষুদ্র ঋণ তার ভিত্তিটা ভেঙে দিয়েছে। গ্রামীণ সমাজে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করেছে। ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থার রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নম্বর ৩২, ২০০৬) পৃথক স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেনে। যার মূল উদ্দেশ্য বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান পরিবীক্ষণ করা এবং এনজিওদের ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনার জন্য অবশ্যই এমআরএ থেকে অনুমোদন ও লাইসেন্স নেয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের ধারাবাহিকতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যক্তি খাতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়গুলো বাস্তব ও দৃশ্যমান। বলার অপেক্ষা রাখে না, এনজিও ও ব্যক্তি খাত গ্রামীণ সমাজের তৃণমূল অবধি তার আর্থিক সেবার অবকাঠামো সাফল্যের সাথে বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে, বিশেষত গ্রামীণ সমাজ রূপান্তরে সবিশেষ অবদান রেখে চলেছে। বলাই বাহুল্য তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অভিঘাত গ্রামীণ সমাজের ক্ষমতা কাঠামোতে পড়তে শুরু করেছে।
৪. বিগত পাঁচ দশকে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতির এক ধরনের বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষত গ্রামীণ সমাজে ভূমিকেন্দ্রিক স্থানীয় ভূস্বামী ও জোতদারদের প্রভাব প্রতিপত্তি হ্রাস পেয়েছে। কৃষির বাইরের অকৃষি পেশার মানুষজনের রাজনীতিতে সমাবেশ ঘটেছে। বিশেষত উপজেলা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এর প্রাথমিক আরম্ভটা। নির্বাচনী ব্যবস্থার নানা পরিবর্তন এক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দল, দলের নিবেদিত নেতাকর্মীদের বিবেচনায় না নিয়ে এলাকার বা বর্তমানে এলাকায় বাস করেন না এমন শহুরে বসবাসকারী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নোমিনেশান দেয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। যার কারণে রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের ছায়া গ্রাম সমাজ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। রাজনীতির নেতিবাচক এসব কিছুর মধ্যে নারীদের স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। নারীর কণ্ঠস্বর, আকাঙ্ক্ষার জগৎ ও রাজনৈতিক উপস্থিতি আজ দৃশ্যমান। নারী সমাজের এনজিও কার্যক্রম ও স্থানীয় রাজনীতিতে উপস্থিতিতে যেন ব্যক্তিত্বের বিপ্লব ঘটেছে বৃহত্তর গ্রাম সমাজজুড়ে। মানুষ তার পরিশ্রম, মেধা, বৃদ্ধি ও সামাজিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে সচেষ্ট। রাজনীতির বাইরে থেকে মানুষ নানা ধরনের ব্যক্তি ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছে। সাফল্যও পাচ্ছে। নেতিবাচক নানা উদাহরণের পাশাপাশি দেশজুড়ে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, মুদ্রার অন্য পিঠে সাফল্যের অন্য বাংলাদেশ।
মানুষের এই সাফল্যের পেছনে যে রাষ্ট্র ও রাজনীতির বহু ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে, তাও আমাদের কবুল করতে হবে বিশেষত অবকাঠামো ও নীতিসহায়তার প্রশ্নে। যার একটি বড় উদাহরণ উপজেলা ব্যবস্থা। উপজেলা ব্যবস্থার কারণে আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি-রাজনীতি ও সমাজে বড় ধরনের প্রভাব রেখেছে।
১৯৮২-১৯৯০ সালের সামরিক সরকার কর্তৃক গঠিত প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্গঠন কমিটির (সিএআরআর) সুপারিশ থেকে উপজেলা ধারণাটি আসে। একই ধরনের উদ্যোগ আমরা দেখি, ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশক্রমে গঠিত থানা উন্নয়ন ও সমন্বয় পরিষদের (টিডিসিসি) অনুবৃত্তিমূলক দলিল। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আকতার হামিদ খান তার দীর্ঘদিনের কুমিল্লাভিত্তিক অভিজ্ঞতাভিত্তিক পল্লী উন্নয়নের যে ধারণার ভিত্তিতে গঠিত হয় থানা উন্নয়ন সমন্বয় কাউন্সিল (টিডিসিসি)। এ ধারণার মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল থানা পর্যায়ের সরকরি কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন কাউন্সিল বা বর্তমান কথিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে একটি সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। উপজেলা ব্যবস্থা চালুর পেছনে অতীত অভিজ্ঞতার দিকে ঘিরে তাকানোর একটি প্রচেষ্টা ছিল।
উপজেলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বিকেন্দ্রীকরণের একটি স্তর যুক্ত হয়, জেলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে। যার ধারাবাহিকতায় উপজেলা পর্যারে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক একটি নতুন হাব তৈরি করা হয়। একই সাথে স্থানীয় সরকারে ব্যবস্থায় নতুন একটি ধাপ তৈরি হয়। উপজেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সরকারি কর্মকতা)। আর উপজেলা পরিষদদের নেতৃত্ব দেয়া হয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে, অর্থাৎ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, যার একজন নারী। নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলো তিনটি সংরক্ষিত নারী আসন (১৯৯৭) রাখা হয়েছে। যাদের প্রত্যেককে তিনটি ওয়ার্ডে সরাসরি নির্বাচন করে আসতে হয়।
উপজেলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি ম্যাজো স্তর গঠিত হয়েছে। গড়ে ওঠে অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, মাছ চাষ ও পোলট্রি, সরকারি অফিস, শিক্ষা-স্বাস্থ্য অবকাঠামো, বাজার, এনজিও কার্যক্রম, বেসরকারি খাতের ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল, ব্যাংক, সেবামূলক খাত, প্রবাসে কর্মরত গ্রুপ, ঠিকাদার, মাঝারি ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, সার ও বীজ ডিস্ট্রিবিটার, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী (বিশেষত ক্ষমতাশীল দলের, যখন যে থাকে), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ডিস্ট্রিবিউটর ও এজেন্টরা। অর্থাৎ ভৌগোলিক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলাগুলো আমাদের ম্যাজো অর্থনীতির হাব হয়ে উঠছে। উপজেলা পর্যায়ে গড়ে উঠেছে নতুন এক মধ্যবিত্ত ও স্থানীয় ধনিক শ্রেণীর উদ্ভব হয়েছে, যারা রাজনীতি ও সমাজের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠছে। যাদের হাতে প্রভাব ও প্রতিপ্রত্তি তৃণমূল গ্রাম পর্যায় ছড়িয়ে উঠছে।
৫. পাঁচ দশকের বাংলাদেশে সার্বিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ সামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রবন্ধের শেষে এসে সামষ্টিক উন্নয়নের সাথে ব্যষ্টিক উন্নয়নের নানা দিক ব্যাখ্যা ছাড়া মোট দাগে তুলে ধরছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন মিরাকল বা গ্রামীণ উন্নয়নের সংযোগসূত্র মূলত চারটি। প্রথমত, শিক্ষা, দ্বিতীয়ত, সড়ক যোগাযোগ, তৃতীয়ত, অধিভাসন অর্থাৎ বিদেশে ও দেশের বড় শহরে কাজের সুযোগ, চতুর্থত, উদ্যোক্তা চরিত্র। এ চারটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উপাদান গ্রামীণ সমাজের পরিবর্তনশীলতা ও রূপান্তরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। পরিবর্তনের এ সূচকগুলোই কীভাবে আমাদের রূপান্তরে ভূমিকা রেখেছে, তার অর্থনৈতিক সুযোগ ও নীতিসহায়ক সিদ্ধান্ত বাস্তবে কীভাবে কাজ করেছে তা তুলে ধরছি। এক. আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি সাধারণ মনোভাব শিক্ষা পরিবর্তনের বাহক। শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি তার নিজের, পরিবারের ও সমাজের ভাগ্য ঘোরাতে পারে। রাষ্ট্র নব্বই দশকের পর মৌলিক শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করেছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব আমরা দেখি, অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান, পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, প্রাথমিক শিক্ষায় নারী শিক্ষকদের হার বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষরা শিক্ষিত উন্নয়ন কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। দুই. দেশব্যাপী সড়ক নেটওর্য়াক দেশের ভেতরে, আঞ্চলিক অধিভাসন বা মৌসুমি স্বল্পকালীন অধিভানের সুযোগ তৈরি করেছে, যা কর্মসংস্থানের সুযোগ ও অকৃষি খাতের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কৃষি শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র দোকানদার, হকার, খাবার দোকান, পাইকার বাজার ও বিপণন কর্মী ব্যক্তি খাতে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৃহত্তর অকৃষি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। উপজেলার সাথে বড় শহর ও ঢাকা শহরের সরাসরি বাস যোগযোগ তার যথার্থ উদাহরণ। এই সড়ক নেটওয়ার্কের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী শ্রমিকরা পোশাক শিল্পে কাজ করে। যারা অধিকাংশই কৃষি পরিবারের সন্তান। তাদের রোজগারের টাকা ফিরে যায় তাদের নিজ নিজ গ্রামে। তিন. একাত্তর দেশের প্রতিটি নাগরিকদের জাতি হিসেবে আত্মপরিচয় তৈরি করে দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকের হাতে তুলে দিয়েছে একেকটি সবুজ পাসপোর্ট। এ পাসপোর্ট হাতে নিয়ে অদম্য গ্রামীণ তরুণরা যারা প্রবাসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে নানা বাধা আর প্রতিকূলতার মধ্যে। তাদের পাঠানো বৈদেশ্যিক মুদ্রায়ই ঘটছে দেশের সমৃদ্ধি, আর তাদের পরিবারগুলোকেই পাঠাচ্ছে নিজের হাড়ভাঙা খাটুনির পয়সা। যাদের অধিকাংশের বাস সেই গ্রামে। চার. শহরের পূর্বে মধ্যবিত্ত, বর্তমানে বিত্তশালী উদ্যোক্তারা রফতানি খাতের নেতৃত্ব দিচ্ছে গ্রামীণ তরুণ নারী-পুরুষ শ্রমিক সাথে নিয়ে।
এ চারটি গ্রুপ আমাদের পরিবর্তনের সারথি। ধাপে ধাপে দেশের ভেতরে এক মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ ঘটছে। যারা আমার স্থানীয় বাজার পরিসরকে ক্রমাগত সম্প্রসারণ করে চলেছেন। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তির ঠিক আগে এদের প্রতি রইল অসীম শ্রদ্ধা।
খন্দকার সাখাওয়াত আলী: সমাজতাত্ত্বিক, গবেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, নলেজ অ্যালায়েন্স