প্রিন্সিপাল আবুল
কাসেম
(১৯২০-১৯৯১)
ছিলেন
একজন
সর্বৈব
শিক্ষাবিদ,
মহান
ভাষা
আন্দোলনের
অন্যতম
পথিকৃৎ
এবং
একাধারে
লব্ধ
প্রতিষ্ঠিত
লেখক।
সাহিত্য-সংস্কৃতি
ও
রাজনৈতিক
অঙ্গনে
একজন
বিরল
ব্যক্তিত্ব,
যিনি
কখনো
নিজের
চিন্তা
করেননি।
দেশ
ও
জাতির
মহত্তর
কল্যাণে
নিজেকে
নিবেদিত
করেছেন।
মেধা,
দূরদৃষ্টি-গভীর
প্রজ্ঞা,
সাহস-দেশপ্রেম,
ত্যাগ-সর্বজনীনতা
ও
যোগ্যতা
যাকে
করেছে
বরণীয়-স্মরণীয়
ব্যক্তিত্বে
।
ভাষা
আন্দোলনে
বাঙালির
আত্মবিশ্বাসের
উদ্বোধনকাল
থেকে
শুরু
করে
সেই
আন্দোলনকে
সময়ের
প্রেক্ষাপটে
প্রেরণাদাত্রী
হিসেবে
বেগবান
রাখতে,
একে
বাঙালির
আত্মসংগঠনে
দিক
নির্দেশনা
দিতে,
বাঙালির
চক্ষুস্মান
চিন্তাচেতনার
চৌহদ্দি
নির্মাণে
পাকিস্তান
রাষ্ট্র
সৃষ্টির
কয়েকদিনের
মাথায়
সাহিত্য
ও
সাংস্কৃতিক
সংগঠন
ও
বুদ্ধিবৃত্তিক
প্লাটফর্ম
‘তমদ্দুন
মজলিস’
প্রতিষ্ঠা
(১ সেপ্টেম্বর
১৯৪৭),
‘ভাষা
আন্দোলনের
ঘোষণা’
(১৫ সেপেটম্বর
১৯৪৭),
ভাষা
আন্দোলনের
মুখপত্র
‘সাপ্তাহিক
সৈনিক’
পত্রিকা
প্রকাশ
(১৪ নভেম্বর
১৯৪৮)
এবং
রাজনৈতিক
সংগঠন
‘খেলাফতে
রব্বানী’
গঠনের
(১৯৫২) মাধ্যমে
অনন্য
প্রাতিষ্ঠানিক
ব্যবস্থা
গড়ে
তুলেছিলেন।
বর্ষিয়ান
রাজনীতিক
অলি
আহাদ
তার
জাতীয়
রাজনীতি:
১৯৪৫-৭৫
বইয়ে
লিখেছেন,
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
পদার্থবিজ্ঞান
এবং
রসায়ন
বিজ্ঞানের
অধ্যাপকদ্বয়
আবুল
কাসেম
ও
নুরুল
হক
ভূঁইয়া
ধূমায়িত
অসন্তোষকে
সাংগঠনিক
রূপদানের
প্রচেষ্টায়
১৯৪৭
সালের
১
সেপ্টেম্বর
পাকিস্তান
তমদ্দুন
মজলিস
গঠন
করেন।
নবগঠিত
তমদ্দুন
মজলিসই
ভাষা
আন্দোলনের
গোড়াপত্তন
করে।
পাকিস্তান
প্রতিষ্ঠার
পর
থেকেই
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
প্রশ্নটিকে
অধ্যাপক
আবুল
কাসেম
তার
দিবারাত্রির
স্বপ্ন
করে
তুলেছিলেন।
ভাষা
আন্দোলনের
নির্ভীক
মুখপত্র
সাপ্তাহিক
সৈনিকেরও
তিনি
প্রতিষ্ঠাতা।
’৪৭
সালে
পাকিস্তান
প্রতিষ্ঠালগ্নে
আবুল
কাসেম
ছিলেন
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
পদার্থবিজ্ঞান
বিভাগের
তরুণ
লেকচারার।
তারুণ্যের
প্রাণ-প্রাচুর্যময়
আবেগে
তখন
তিনি
সদ্য
স্বাধীন
পাকিস্তানে
একটি
গণমুখী
সমাজ
বিপ্লবের
চিন্তায়
বিভোর।
এ
আদর্শিক
চিন্তা
ও
চেতনায়
উদ্বুদ্ধ
হয়ে
গুটিকয়েক
সহকর্মী
ও
ছাত্র
নিয়ে
তিনি
বিপ্লবী
সংগঠন
পাকিস্তান
তমদ্দুন
মজলিস
গড়ে
তোলেন।
তত্কালীন
পাকিস্তানে
তমদ্দুন
মজলিসের
আত্মপ্রকাশ
ছিল
একটি
স্বাধীন
দেশের
উপযোগী
প্রগতিবাদী
আদর্শ
কর্মী
সৃষ্টির
সুদূরপ্রসারী
প্রচেষ্টা।
সব
ধরনের
শোষণ,
বঞ্চনা,
অবিচার
ও
নিপীড়নের
অবসান
ঘটিয়ে
মানসিক
বিপ্লব
ও
সাংস্কৃতিক
উজ্জীবনের
মাধ্যমে
সর্বমানবীয়
কল্যাণধর্মী
আদর্শ
ইসলামী
সমাজ
ও
রাষ্ট্র
কায়েমই
তমদ্দুন
মজলিসের
লক্ষ্য
ছিল।
তমদ্দুন
মজলিসের
বিপ্লবী
চিন্তা
ও
কর্মসূচির
প্রথম
প্রকাশ
ঘটে
’৪৭
সালে
ভাষা
আন্দোলনের
সূচনার
মাধ্যমে।
অধ্যাপক
আবুল
কাসেমের
নিরবচ্ছিন্ন
প্রচেষ্টায়
তমদ্দুন
মজলিসের
অব্যাহত
সংগ্রামী
কর্মতত্পরতার
মাধ্যমে
’৪৭
সালে
যে
ভাষা
আন্দোলনের
সূচনা
হয়,
’৪৮
সালের
১১
মার্চের
ঐতিহাসিক
গণবিক্ষোভ
ও
ধর্মঘট
এবং
১৫
মার্চের
রাষ্ট্রভাষা
চুক্তির
মধ্য
দিয়ে
তা
’৫২
সালে
শহীদের
খুনে
রঞ্জিত
হয়ে
জাতীয়
আন্দোলন
হিসেবে
সফল
পরিণতি
লাভ
করে।
আজ
তাই
ভাষা
আন্দোলন
জাতীয়
ঐক্য
ও
প্রতিবাদী
চেতনার
প্রতীক
হিসেবে
চিহ্নিত
এবং
জাতির
হূদয়ে
বিশেষ
মর্যাদায়
অভিষিক্ত।
‘তমদ্দুন
মজলিসের
প্রথম
গঠনতন্ত্র
রচিত
হয়েছিল
১৯৪৮
সালে।
আর
তা
ছাপা
হয়
১৯৫০
সালে—সেই
বিখ্যাত
আমাদের
প্রেস
থেকে।
এরপর
১৯৫২
থেকে
১৯৫৬
সাল
পর্যন্ত
তখনকার
কেন্দ্রীয়
পরিষদের
কয়েকটি
বৈঠকে
মূল
গঠনতন্ত্রের
কয়েকটি
ধারা
সংশোধিত
হয়।
বিভিন্ন
সময়ে
সংশোধিত
এ
গঠনতন্ত্র
প্রকাশিত
হয়
১৯৬৪
সালে।
তমদ্দুন
মজলিসের
প্রথম
গঠনতন্ত্রে
চারটি
উদ্দেশ্যের
কথা
বলা
হয়।
ক)
কুসংস্কার
গতানুগতিকতা
ও
প্রতিক্রিয়াশীলতা
দূর
করে
সুস্থ
ও
সুন্দর
তমদ্দুন
গড়ে
তোলা।
খ)
যুক্তিবাদের
ওপর
প্রতিষ্ঠিত
সর্বাঙ্গ
সুন্দর
ধর্মভিত্তিক
সাম্যবাদের
দিকে
মানবসমাজকে
এগিয়ে
নেয়া।
গ)
মানবিক
মূল্যবোধের
ওপর
সাহিত্য
ও
শিল্পের
মারফত
নতুন
সমাজ
ও
রাষ্ট্রের
প্রতিষ্ঠায়
সহায়তা
করা
এবং
ঘ)
নিখুঁত
চরিত্র
গঠন
করে
গণজীবনের
উন্নয়নে
সহায়তা
করা।
প্রিন্সিপাল
আবুল
কাসেমের
ভাষায়,
‘পাকিস্তান
তমদ্দুন
মজলিস
আদর্শবাদী
কর্মীদের
বৈজ্ঞানিক
সংগঠন।
চিন্তা-বিপ্লব
ও
সাংস্কৃতিক
উজ্জীবন
মারফত
সর্বমানবীয়
কল্যাণধর্মী
আদর্শ
সমাজ
ও
রাষ্ট্র
কায়েমই
মজলিসের
লক্ষ্য
ছিল।’
বিভিন্ন
সময়
চাহিদা
অনুযায়ী
মজলিসের
গঠনতন্ত্র
সংশোধনের
খসড়া
মজলিসের
কেন্দ্রীয়
কমিটির
কয়েকটি
বৈঠকে
বিবেচিত
হয়
এবং
’৬৭
সালের
কেন্দ্রীয়
পরিষদের
বৈঠকে
বিস্তারিত
আলোচিত
ও
সামান্য
রদবদলের
পর
সর্বসম্মতিক্রমে
গৃহীত
হয়।
এ
সংশোধিত
গঠনতন্ত্র
‘গঠনিকা’
নামে
নতুন
আকারে
প্রকাশিত
হয়
’৬৭
সালেই।
তমদ্দুন
মজলিস
গঠন
সম্পর্কে
স্মৃতিচারণ
করতে
গিয়ে
‘সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ’-এর
আহ্বায়ক
ও
তমদ্দুন
মজলিসের
অন্যতম
প্রতিষ্ঠাতা
সদস্য
শামসুল
আলম
বলেন,
‘পাকিস্তান
প্রতিষ্ঠার
পর
এ
দেশের
সাহিত্য-সংস্কৃতির
অঙ্গনে
তমদ্দুন
মজলিস
ছিল
একটি
চমকে
দেয়া
বিপ্লবী
নাম।
ভাষা
আন্দোলনে
তমদ্দুন
মজলিস
এবং
এর
মুখপত্র
সৈনিকের
এক
গৌরবোজ্জ্বল
ভূমিকা
রয়েছে।
আবুল
কাসেমের
স্মৃতিতে
এ
সম্পর্কে
স্মৃতিচারণ
করতে
গেলে
আরো
একটু
পেছনে
ফিরে
যেতে
হয়।
‘১৯৪৭
সালে
আমি
তখন
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্র।
থাকতাম
সলিমুল্লাহ
মুসলিম
হলে।...১৪
আগস্ট
উপমহাদেশ
ভাগ
হয়ে
দেশ
স্বাধীন
হলো।
আমাদের
তরুণ
মনে
তখন
অনেক
আশা-আকাঙ্ক্ষা,
উদ্দীপনা
আর
দেশ
গড়ার
স্বপ্ন।
সংস্কৃতির
অঙ্গনে
আদর্শিক
ও
সৃজনশীল
কিছু
করার
জন্য
মন
তখন
অধীর।
তখন
চানখাঁর
পুলের
লেভেল
ক্রসিংয়ের
কাছে
(বর্তমানে এখানে
কোনো
লেভেল
ক্রসিং
নেই)
বিশ্ববিদ্যালয়
এলাকার
পুরনো
রশিদ
বিল্ডিংয়ের
একটি
ছোট্ট
রেস্তোরাঁয়
নিয়মিত
চায়ের
আড্ডা
বসত।
সে
চায়ের
আড্ডা
সদ্য
স্বাধীন
পাকিস্তানের
সাহিত্য,
সংস্কৃতি
ও
রাজনীতির
আলোচনা-সমালোচনায়
মুখর
হয়ে
উঠত।
সে
আলোচনায়
উপস্থিত
থাকতেন
জাতীয়
শিল্পী
মরহুম
জয়নুল
আবেদিন,
মরহুম
শামসুল
হক,
মরহুম
খালেক
নেওয়াজ
খান,
মরহুম
আজিজ
আহমদ,
মরহুম
সৈয়দ
নজরুল
ইসলাম
প্রমুখ
ছাত্রনেতা
ও
বিশিষ্ট
ব্যক্তিরা।
এমনই
এক
আড্ডায়
রেস্তোরাঁর
বেঞ্চে
বসেই
আমরা
উপলব্ধি
করলাম
সদ্য
স্বাধীন
দেশের
জন্য
আমাদের
কিছু
একটা
করা
প্রয়োজন।’
এ
আলোচনা
ও
সিদ্ধান্তের
সূত্র
ধরেই
১৯
নম্বর
আজিমপুরের
বাসায়
সবাইকে
ইফতারির
দাওয়াত
করলেন।
হ্যাঁ,
স্পষ্ট
মনে
আছে,
তখন
ছিল
রমজান
মাস।
ইফতার
পার্টির
নামে
আহূত
সে
আলোচনা
সভায়
আমরা
স্থির
সিদ্ধান্ত
নিই
যে
একটা
সাংস্কৃতিক
সংগঠন
গড়ে
তুলে
তার
মাধ্যমে
আমাদের
কিছু
করতে
হবে।
সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী
সেদিন
১
সেপ্টেম্বর,
১৯৪৭
সালে
গঠিত
হলো
তমদ্দুন
মজলিস।
সে
আলোচনা
বৈঠকে
সাংস্কৃতিক
সংগঠনটির
নামটি
নিয়েও
বেশ
আলোচনা
হয়।
অবশেষে
সর্বসম্মতিক্রমে
পাকিস্তান
তমদ্দুন
মজলিস
নামটি
গৃহীত
হয়।
দেশের
তত্কালীন
পরিবেশে
আদর্শ
ও
সাংস্কৃতিক
জীবনধারার
সঙ্গে
নামটি
ছিল
খুবই
সংগতিপূর্ণ।
এ
বৈঠকে
আরো
সিদ্ধান্ত
নেয়া
হয়,
সৈনিক নামে তমদ্দুন
মজলিসের
সাপ্তাহিক
পত্রিকা
প্রকাশ
করা
হবে।’
প্রিন্সিপাল
আবুল
কাসেম
তমদ্দুন
মজলিসকে
গড়ে
তোলার
জন্য
জীবনের
সর্বোত্কৃষ্ট
মেধা,
সময়
ও
অপরিমিত
শ্রম
নিয়োজিত
করেছিলেন।
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
প্রশ্নটি
যেমন
ছিল
তার
কাছে
‘দিবারাত্রির
স্বপ্ন’,
তেমনি
সে
স্বপ্ন
বাস্তবায়ন
করার
জন্য
তিনি
গড়ে
তুলেছিলেন
তমদ্দুন
মজলিস।
আদর্শবাদী
তরুণদের
খুঁজে
বের
করে
তমদ্দুন
মজলিসের
সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট
করার
জন্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের
এ
তরুণ
অধ্যাপক
সাইকেলে
চড়ে
নিরন্তর
ছুটে
বেড়াতেন
ঢাকা
নগরীর
প্রতিটি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে,
সাহিত্য-সংস্কৃতির
আড্ডায়,
যুব
সম্মেলনে
ও
রাজনৈতিক
ক্যাম্পে।
এমনই
ছুটে
বেড়িয়ে
তিনি
শামসুল
আলম,
সানাউল্লাহ
নূরী,
শাহেদ
আলী
প্রমুখের
মতো
অসংখ্য
নেতা
ও
কর্মীকে
তমদ্দুন
মজলিসের
সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট
করে
একে
একটি
প্রগতিশীল
সাংস্কৃতিক
সংগঠন
হিসেবে
গড়ে
তুলেছিলেন।
তমদ্দুন
মজলিসের
জন্য
আদর্শ
তরুণ
সংগ্রহে
আবুল
কাসেমের
নিরন্তর
চেষ্টা
বিস্ময়
উদ্রেক
করার
মতো।
তমদ্দুন
মজলিসের
প্রাথমিক
কর্মসূচিগুলোর
মধ্যে
ছিল
ক্যাম্পাসসহ
বিভিন্ন
স্থানে
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
সমর্থনে
সাহিত্য
সভা,
সেমিনার
ও
আলোচনা
অনুষ্ঠান
করা।
এসব
সাহিত্য
সভা
ও
সেমিনারে
রাষ্ট্রভাষা
বাংলা
দাবির
প্রতি
সহানুভূতিশীল
বুদ্ধিজীবী,
সাহিত্যিক,
রাজনীতিবিদ
ও
ছাত্ররা
অংশগ্রহণ
করতেন।
এছাড়া
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
পক্ষে
জনমত
সৃষ্টির
জন্য
বিবৃতি
ও
হ্যান্ডবিল
প্রকাশ
করা
হতো।
বিশিষ্ট
ব্যক্তিদের
স্বাক্ষরসংবলিত
স্মারকলিপি
সংশ্লিষ্ট
সরকারি
কর্তৃপক্ষের
কাছে
পেশ
ও
প্রকাশ
করাও
ছিল
তমদ্দুন
মজলিসের
প্রাথমিক
কর্মসূচিগুলোর
অন্যতম।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
তখনকার
পরিবেশ
ছিল
সম্পূর্ণরূপে
বাংলা
ভাষার
প্রতিকূলে।
ক্যাম্পাসের
পরিবেশ
সম্পর্কে
ডক্টর
নুরুল
হক
ভূঁইয়া
বলেন,
‘একেবারে
প্রথম
দিকে
তো
রাষ্ট্রভাষা
যে
বাংলা
হতে
পারে,
ব্যাপারটি
অনেকে
বুঝতেই
চাননি,
এর
গুরুত্বও
অনুভব
করেননি।
ইউনিভার্সিটির
কয়েকজন
সায়েন্সের
অধ্যাপক
ও
কিছু
ছাত্র
ছাড়া
এ
ব্যাপারে
কেউ
এগিয়ে
আসার
প্রয়োজনীয়তা
বোধ
করেননি।
বাংলা
ডিপার্টমেন্ট
তো
রাষ্ট্রভাষার
প্রশ্নে
চরম
নির্লিপ্ত
ভূমিকা
পালন
করে।
কোনো
বাংলার
শিক্ষক
এ
ব্যাপারে
তখন
আগ্রহ
প্রকাশ
করে
এগিয়ে
আসেননি।
প্রথম
দিকে
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
প্রশ্নটি
নিয়ে
ইউনিভার্সিটি
ক্যাম্পাসে
আমাদের
রীতিমতো
নাজেহাল
হতে
হয়েছে।’
এমনই
প্রতিকূল
পরিস্থিতিতে
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
দাবিকে
জনপ্রিয়
করার
জন্য
এবং
এ
দাবি
সামনে
রেখে
ছাত্র-শিক্ষক,
বুদ্ধিজীবীসহ
সবাইকে
সংগঠিত
করার
জন্য
অধ্যাপক
আবুল
কাসেমের
চেষ্টার
অন্ত
ছিল
না।
তার
এ
চেষ্টাকে
তখন
অনেকে
পাগলামি
মনে
করেছেন।
বাংলা
ভাষার
সমর্থনের
মধ্যেও
কেউ
তার
প্রাণান্ত
চেষ্টাকে
অনেক
সময়
বাড়াবাড়ি
মনে
করেছেন।
অধ্যাপক
আবুল
কাসেম
ঢাকায়
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলনের
শুরু
করলেও
জন্মভূমি
চট্টগ্রামেও
তিনি
সেই
আন্দোলন
ছড়িয়ে
দেন।
তার
সম্পাদিত
পুস্তিকা
ঢাকার
মত
চট্টগ্রামেও
বেশ
প্রভাব
ফেলে।
অধ্যাপক
আবুল
কাসেমের
হাত
ধরেই
আন্দোলনে
যুক্ত
হন
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলনের
আরেক
পথিকৃৎ
মাহবুবুল
আলম
চৌধুরী।
সেই
স্মৃতি
স্মরণ
করে
মাহবুবুল
আলম
চৌধুরী
লিখেছেন,
চট্টগ্রামের
কৃতী
সন্তান
অধ্যক্ষ
আবুল
কাসেম
ছিলেন
আমার
ছোট
মামা
এলএ
চৌধুরীর
বন্ধু।
এই
সুবাদে
তার
সঙ্গে
আমার
ছেলেবেলা
থেকেই
পরিচয়।
ভাষা
আন্দোলন
শুরু
হলে
তিনি
আমাকে
চট্টগ্রামে
ভাষা
আন্দোলন
সংগঠিত
করার
জন্য
একটি
চিঠি
দেন।
এ
চিঠির
ভিত্তিতে
চট্টগ্রামের
তমদ্দুন
মজলিসের
ফরমানউল্লা
খান,
মাহফুজুল
হক
ও
তারেক
ইসলামকে
নিয়ে
আমরা
কলেজ
হোস্টেলের
একটি
কামরায়
মিলিত
হই।
(বই: জাতীয়
মুখশ্রী—মাহবুবুল
আলম
চৌধুরী)
১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে জনমত গঠন এবং মজলিসের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য প্রচারের উদ্যোগ নেন অধ্যাপক আবুল কাসেম। তার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ও ঢাকার বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় রাজধানীর বাইরে মজলিসের শাখা গঠন শুরু হয়। অক্টোবরে গণসংযোগের পাশাপাশি আইন পরিষদ ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মজলিসের নেতারা। প্রচারণায় ঘোষণাপত্র পুস্তিকা ছাড়াও লিফলেট বিতরণ করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাসেমের উদ্যোগে সাপ্তাহিক সৈনিকের যাত্রা হয়। এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট কথাশিল্পী শাহেদ আলী। অন্যতম সম্পাদক ছিলেন এনামুল হক। সৈনিক সম্পাদনার সাথে প্রথম পর্যায়ে আর যারা জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন সানা উল্লাহ নূরী, আবদুল গফুর, মোস্তফা কামাল প্রমুখ। পরবর্তীকালে যারা সৈনিক সম্পাদনার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত হন তাদের মধ্যে ছিলেন হাসান ইকবাল, কবি মফিজউদ্দিন আহমদ, দিদারুল আলম খাঁ, ফারুক মাহমুদ, সৈয়দ মোস্তাফা জামাল, আজিজুর রহমান প্রমুখ। শুরুর দিকে সাপ্তাহিক সৈনিকের মুদ্রাকর ও প্রকাশক হিসেবে (অধ্যাপক) মোহাম্মদ আব্দুল কাসেমের নাম ছাপা হলেও ১৯৫১ থেকে ১৯৫৯ পর্যন্ত আবদুল গফুরের নাম ছিল মুদ্রাকর ও প্রকাশক হিসাবে। তবে সৈনিকের প্রকাশনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে বহুদিন পর্যন্ত মূল ভূমিকা পালন করেন তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাসেম। সাপ্তাহিক সৈনিকের মুদ্রাকর, প্রকাশক (১৯৫১-১৯৫৯), নবপর্যায় (১৯৭০-১৯৭১) ও স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে স্বল্পকালীন প্রকাশের সময় সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক সৈনিকের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে কোনো সংকীর্ণতার স্থান ছিল না। সৈনিক একই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধ চালাত। সাপ্তাহিক সৈনিক বিভিন্ন সময়ে যেসব বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে তাতেও সৈনিকের আদর্শ সম্পর্কে একটা বক্তব্য উঠে আসত। যেমন সমাজকে দুর্নীতির কলুষমুক্ত করার লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ৩ জুন প্রকাশ করে দুর্নীতিবিরোধী সংখ্যা। ১৯৫০ সালে ভারতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রতিক্রিয়ায় পূর্ববঙ্গে দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ২ এপ্রিল ১৯৫০ তারিখে প্রকাশ করে দাঙ্গাবিরোধী সংখ্যা। এ সংখ্যায় অন্যদের মধ্যে আসকার ইবনে শাইখ, কাজী ফজলুর রহমান, শওকত ওসমান, সোলায়মান খান, মাহফুজুল হক প্রমুখের লেখা প্রকাশিত হয়। সৈনিকের আর একটি উল্লেখযোগ্য বিশেষ সংখ্যা ছিল জমিদারিবিরোধী সংখ্যা। পুস্তক আকারে প্রকাশিত এ বিশেষ সংখ্যাটিতে বিভিন্ন গবেষণাধর্মী নিবন্ধ, গল্প, নাটক, কবিতা ইত্যাদির মাধ্যমে জমিদারি প্রথার মানবতাবিরোধী স্বরূপ উন্মোচন করে বিনা খেসারতে জমিদারি উচ্ছেদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে এবং কয়েকজন শহীদ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় সপ্তাহিক সৈনিকের শহীদ সংখ্যা। লাল কালিতে ও লাল বর্ডার দিয়ে প্রকাশিত এ সংখ্যায় খবরের উল্লেখযোগ্য শিরোনামগুলো ছিল শহীদ ছাত্রদের তাজা রক্তে রাজধানী ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত। মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে ছাত্র সমাবেশে নির্বিচারে পুলিশের গুলিবর্ষণ।
তমদ্দুন
মজলিস
যে
আদর্শবাদী
সাংস্কৃতিক
আন্দোলন
গড়ে
তোলে,
তার
প্রধান
মুখপত্র
হিসেবে
সাপ্তাহিক
সৈনিকে
যেমন
বিভিন্ন
সমস্যা
কোনো
রাখ-ঢাক
না
করে
তুলে
ধরা
হতো,
তেমনি
জাতীয়
ও
আন্তর্জাতিক
অঙ্গনের
বিভিন্ন
ঘটনারও
বলিষ্ঠ
বিশ্লেষণ
থাকত।
সৈনিকে
প্রকাশিত
বিভিন্ন
লেখায়
যেমন
থাকত
সাম্রাজ্যবাদ
পুঁজিবাদকবলিত
সমাজ
ব্যবস্থার
আমূল
পরিবর্তনের
আহ্বান,
তেমনি
অসাম্য-বৈষম্য
কণ্টকিত
সমাজ
ব্যবস্থার
পরিবর্তে
ইসলামের
হারিয়ে
যাওয়া
সাম্য
ভ্রাতৃত্বের
আদর্শে
কীভাবে
আধুনিক
বিশ্বে
শোষণমুক্ত
নতুন
ব্যবস্থা
গড়ে
তোলা
যায়
তার
রূপরেখা
তুলে
ধরা
হতো।
সমগ্র
বিংশ
শতাব্দী
ধরেই
চলে
পুঁজিবাদ
ও
সাম্রাজ্যবাদের
বিরুদ্ধে
শোষিত,
নির্যাতিত
মানুষের
মুক্তি
ও
স্বাধীনতার
সংগ্রাম।
এ
সংগ্রামের
প্রভাব
পড়ে
বাংলাদেশেও।
সাপ্তাহিক
সৈনিকে
প্রকাশিত
বিভিন্ন
লেখায়
ছিল
ইসলামের
সাম্য
ভ্রাতৃত্বের
হারিয়ে
যাওয়া
আদর্শের
ভিত্তিতে
কীভাবে
নতুন
করে
শোষণহীন
সমাজ
ব্যবস্থা
গড়ে
তোলা
যায়
তার
রূপরেখা।
ভাষা
আন্দোলন
যেহেতু
সরকারবিরোধী
আন্দোলনে
পরিণত
হয়,
তাই
ভাষা
আন্দোলনের
মুখপত্র
সৈনিক
পত্রিকাটিও
প্রথম
সরকারবিরোধী
পত্রিকা
হিসেবে
পূর্ব
পাকিস্তানে
পরিচিতি
লাভ
করে।
সরকারবিরোধী
দলগুলোর
বক্তব্য-বিবৃতি
ও
কর্মকাণ্ড
গুরুত্বসহকারে
প্রকাশিত
হতে
থাকে
এ
পত্রিকায়।
ওই
সময়
আবুল
মনসুর
আহমদ
সম্পাদিত
ইত্তেহাদ
ছাড়া
অন্য
কোনো
পত্রিকা
ভাষা
আন্দোলনকে
তেমন
সমর্থন
করেনি।
সৈনিক
পত্রিকা
বের
হওয়ার
আগে
আব্দুল
ওয়াহেদ
চৌধুরী
সম্পাদিত
সাপ্তাহিক
ইনসাফ
আন্দোলন
সমর্থন
করত।
সিলেট
থেকে
প্রকাশিত
নওবেলাল
পত্রিকাটি
ভাষা
আন্দোলনের
পক্ষে
অগ্রণী
ভূমিকা
পালন
করে।
এছাড়া
মিল্লাত
পত্রিকা
ভাষা
আন্দোলনের
সমর্থক
ছিল।
পাকিস্তান
অবজারভার
ও
আজাদেও
ভাষা
আন্দোলনের
খবর
মাঝেমধ্যে
গুরুত্বসহকারে
ছাপা
হতো।
সাপ্তাহিক
সৈনিক
ছিল
সমকালীন
শিল্পী-সাহিত্যিকদের
নিজস্ব
কাগজ।
সাপ্তাহিক
সৈনিকের
মাস্ট
হেডটি
এঁকে
দেন
খ্যাতনামা
শিল্পী
কামরুল
হাসান।
বিখ্যাত
কার্টুনিস্ট
দোপেয়াজা
(কাজী আবুল
কাসেম)
সৈনিকে
বিভিন্ন
সমসাময়িক
প্রশ্নে
নিয়মিত
কার্টুন
আঁকতেন।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ: সরকারের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান