দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে বিআরবি কেবল

বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক মানের কেবল উৎপাদনকারী বিআরবি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তার ও তারের উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৩তম স্থানে রয়েছে। প্রায় ৪৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘অন্যতম বিশ্বে বাংলাদেশের শীর্ষে’ স্লোগানে

বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক মানের কেবল উৎপাদনকারী বিআরবি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তার ও তারের উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৩তম স্থানে রয়েছে। প্রায় ৪৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘অন্যতম বিশ্বে বাংলাদেশের শীর্ষে’ স্লোগানে দেশীয় কেবল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিজেদের নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।

বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মো. মজিবর রহমান। তিনি ১৯৭৮ সালের ২৩ অক্টোবর কুষ্টিয়া শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কুমারগাড়া বিসিক শিল্প নগরীতে বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক ওয়্যারস এবং কেবল কন্ডাক্টর উৎপাদন শুরু করে। পরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন তালিকায় একের পর এক নতুন নতুন পণ্য যোগ হতে থাকে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের লোকবলেরও সম্প্রসারণ ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্যানুসারে কুষ্টিয়া বিসিকে বিআরবি গ্রুপের এ প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছে।

বিআরবি কেবলস শুধু দেশেই নয়, বিশ্বদরবারেও পরিচিতি লাভ করেছে। বৈদ্যুতিক তার প্রস্তুতে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রফতানি হচ্ছে এ কেবল।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে দেশের অর্জন আরো সুদূরপ্রসারী করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। এতে দেশের বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া দেশের রফতানি খাতও সম্প্রসারণ হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

বিশ্বের আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের ফলে বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজের বৈদ্যুতিক তারসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারেও রফতানি হচ্ছে। বর্তমানে এ শিল্পের উৎপাদিত পণ্য ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। পণ্য উৎপাদন ও গুণগত মান রক্ষার জন্য আইএসও সনদ লাভ করেছে। এছাড়া বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের তিন হাজার কেবল কোম্পানির মধ্যে নির্বাচিত ৫০টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির মধ্যে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে মজিবর রহমানের বিআরবি কেবলস ৩৩তম স্থান অর্জন করেছে। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘গোবি ইন্টারন্যাশনাল’ পরিচালিত জরিপে বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ এ স্থান অধিকার করেছে। এছা্ড়া দেশের প্রথম সারির কেবল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এটি।

কেবলস ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অধীনে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রুপটির অধীনে থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিআরবি এয়ার লিমিটেড, বিআরবি পলিমার লিমিটেড, বিআরবি সিকিউরিটি লিমিটেড, কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কিয়াম গ্লাসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কিয়াম এগ্রো ফিড, এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কেএনবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, টিপিটি কেবলস লিমিটেড, কেবি পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড।

এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাইরে সিকিউরিটিজ, এয়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্যসেবা, কিয়াম ছিরাতুন নেছা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, শিক্ষা ও মানবসেবাসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বিআরবি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়েই প্রতিষ্ঠানটির মালিক শিল্পপতি মজিবর রহমান সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন বেশ কয়েকবার। শিল্প পদক, জাতীয় রফতানিতেও বিশেষ অবদান রেখে বেশ কয়েকবার লাভ করেছেন জাতীয় স্বর্ণপদক।

এছাড়া মানসম্পন্ন পণ্য প্রস্তুত ও বিশেষ অবদান রাখার জন্য বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বিভিন্ন সময় সরকারের কাছ থেকে নানা পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ এডুকেশন স্কলারশিপ ট্রাস্ট স্বর্ণপদক, শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক স্বর্ণপদক, দশম গোল্ডেন আমেরিকা অ্যাওয়ার্ড, জাতীয় রফতানি ট্রফি (স্বর্ণ) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক ওয়্যারস অ্যান্ড কেবলস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। মজিবর রহমানের সৃষ্টি এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ডোমেস্টিক কেবলস থেকে ৩৩ কেভি এইচটিপিভিসি ও এক্সএলইপি কেবলস, ১৩২ কেভি অ্যালুমিনিয়াম কন্ডাক্টর, এফআরএলএস কেবলস, জেলি ফিল্ড টেলিফোন কেবলস ও বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ বহু পণ্যের উৎপাদন হচ্ছে।

বিআরবি গ্রুপের নতুন সংযোজন হলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র। শুধু নিজস্ব শিল্প-কারখানার বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ১১ মেগাওয়াট উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে। জাপানের দাইহাতসু কোম্পানি থেকে আমদানীকৃত অত্যাধুনিক তিনটি ডুয়েল ফুয়েল জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত ‘বিআরবি এনার্জি লিমিটেড’ নামকরণে তেলভিত্তিক ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। 

বিআরবির অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি অ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্র, ননস্টিক কিচেন ওয়্যার, প্রেসার কুকার, রাইস কুকার, হটপট ইত্যাদি দেশের বাজারে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে এবং ক্রেতাদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজের আপ-কাস্টিং ও কন্টিনিউয়াস কাস্ট পদ্ধতিতে আমদানি বিকল্প কপারওয়্যার রড, অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার রড, কপার স্ট্রিপ উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৯০ সালে মজিবর রহমান পিতা কিয়াম উদ্দিনের নামে প্রতিষ্ঠা করেন কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ। এ কারখানায় মেটালের তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র ননস্টিক কিচেন ওয়্যার পেসার কুকার ইত্যাদি দেশের বাজারসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সাড়া জাগিয়েছে। এরপর ১৯৯২ সালে তিনি এমআরএস ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মসংস্থান হয়েছে।

ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিআরবি গ্রুপ আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে রাখছে বিরাট অবদান। এছাড়া বিআরবি গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ফার্নিচার ও ডেকোরেশনের জন্য কাঠের বিকল্প পার্টিক্যাল বোর্ড, লেমিনেশন বোর্ড, বৈদ্যুতিক লাইন ও পানির লাইনসহ গভীর-অগভীর নলকূপের জন্য উন্নত মানের পিভিসি পাইপও উৎপাদন হচ্ছে।

আর্থসামজিক উন্নয়ন ও শিল্প ভাবনা থেকেই শিল্পায়নে মনোনিবেশ করা মজিবর রহমান পরবর্তী সময়ে শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠায় তার মেধা, অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই বিআরবি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন এবং তার দৃষ্টান্তপূর্ণ সততার ফলেই আজ দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

আরও