গর্ভধারণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নারীদেহে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিউক্লিয়াসের একীভবনের মধ্য দিয়ে নিষেক সম্পন্ন হয়। নিষিক্ত ডিম্বাণুটি নারীর গর্ভাশয়ের প্রাচীরে স্থাপিত হওয়ার প্রায় নয় মাস পর পরিস্ফুটন শেষে ভূমিষ্ঠ হয় একটি শিশুসন্তান। যখন কারো ক্ষেত্রে এ স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বাধা সৃষ্টি হয় বা সম্ভব হয় না তখন অনেকেই আইভিএফ পদ্ধতির শরণাপন্ন হন। এ পদ্ধতিতে মানবদেহের বাইরে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিষিক্ত করা হয়। এবং নির্দিষ্ট সময় পর সেটি মাতৃগর্ভে প্রয়োগ করা হয়।
কিন্তু কোনো নারীর ডিম্বনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, বন্ধ হয়ে গেলে বা এন্ডোমেট্রিওসিসজনিত সমস্যা থাকলে আইভিএফ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কম হলে বা শুক্রাণুর গড়ন অস্বাভাবিক হলে কিংবা নারী ও পুরুষ দুজনেরই শুক্রাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হলে আইভিএফ চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হয়। আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে মানবদেহের বাইরে গবেষণাগারে কাচের পাত্রে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুতে স্থাপনের মাধ্যমে গর্ভধারণের ব্যবস্থা করা হয়।
যেসব নারীর ফেলোপিয়ান টিউবে ব্লকেজ বা অন্যান্য সমস্যা আছে, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে কোনো নারীর ফেলোপিয়ান টিউব বাদ দেয়া হলে, শুক্রাণু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে না পারলে, নারীর জরায়ুগাত্রে ফাইব্রয়েড থাকলে কিংবা ওভ্যুলেশন ঠিকমতো না হলে, পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা ও ঘনত্ব কম হলে, বংশগত যৌন সমস্যা থাকলে, কোনো কারণে সন্তান ধারণ করতে না পারলে আইভিএফ সেবা দেয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে আইভিএফ বেশ ভালো পরিচিতি পাচ্ছে। আগে অনেকেই লজ্জার কারণে এ চিকিৎসা নিতে চাইতেন না। বর্তমানে যা অনেকটাই কেটে যাচ্ছে। অনেক নিঃসন্তান দম্পতি এ সেবা নিচ্ছেন। বেসরকারিভাবে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে এবং দেশসেরা সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে আইভিএফ সেবা দিয়ে আসছে ল্যাবএইড আইভিএফ সেন্টার।
নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যা, হরমোনজনিত সমস্যা, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত, কমসংখ্যক ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর সমস্যা, ডিম্বাশয় ও জরায়ুর টিউমার, প্রজননতন্ত্রের জটিল সার্জারিসহ বিভিন্ন সমস্যার সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান করে আসছে ল্যাবএইড আইভিএফ সেন্টার। এছাড়া আরো যেসব গুরুত্বপূর্ণ সেবা ল্যাবএইড আইভিএফ সেন্টার দিয়ে থাকে সেগুলো হলো:
ওভ্যুলেশন ইন্ডাকশন: এ প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইনজেকশনের মাধ্যমে হরমোন প্রয়োগ করা হয়। নির্দিষ্ট সময় পরে ডিম্বাণু পরিস্ফুটনের ব্যবস্থা করা হয়।
আইইউআই: স্বামীর বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ কম হলে বা অসচল থাকলে শুক্রাণু সংগ্রহ করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সুস্থ, সবল ও সচল করে সঠিক সময়ে মাতৃগর্ভে বসিয়ে দেয়া হয়।
ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি: বিভিন্ন কারণে নারীর ফেলোপিয়ান টিউব ব্লক হতে পারে। এ সার্জারির মাধ্যমে ব্লক ও ব্লকের কারণ অপসারণ করা হয়।
আইভিএফ: বন্ধ্যাত্ব নিয়েও মাতৃত্বের বাসনা পূর্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয় আইভিএফের মাধ্যমে। এটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও সহজ পদ্ধতি। আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে স্বামীর বীর্য থেকে নেয়া শুক্রাণুর সঙ্গে ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণুর ফার্টিলাইজেশন করা হয় এবং উপযুক্ত সময়ে সেটি মাতৃগর্ভে বসিয়ে দেয়া হয়।
বন্ধ্যাত্ব ও অন্যান্য জটিলতার কারণে অনেকেই পিতা-মাতা হওয়ার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন। একসময় সন্তান লাভের এমন অতৃপ্ত বাসনা তাদের মানসিক পীড়ার কারণ হয়ে ওঠে। অনেকের সংসার ভেঙে যায় সন্তান না হওয়ার কারণে। তবে বন্ধ্যাত্ব ও অন্যান্য প্রজনন সমস্যায় সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেকেই সন্তান লাভ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সচেতনতা জরুরি। বর্তমানে অনেক সচেতন দম্পতি শরণাপন্ন হন আইভিএফ চিকিৎসাসেবার। মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আইভিএফ পদ্ধতি আশীর্বাদরূপে আসে তাদের জীবনে।
আইভিএফ অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল একটি চিকিৎসাপদ্ধতি। সঠিকভাবে এটি না করতে পারলে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। ভ্রুণের ত্রুটিপূর্ণ প্রতিস্থাপন, ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর পরিপক্বতার সময়ে ভুল অনুমান, ডিম্বাণু পরিণত হওয়ার আগেই পৃথক করা, পৃথক্করণের সময় ডিম্বাণু নষ্ট হওয়া, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ত্রুটির কারণে আইভিএফ ব্যর্থ হতে পারে। অনেক সময় নারীর বয়স, শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর গুণগত মান, প্রজনন অক্ষমতার মেয়াদকাল, জরায়ুর স্বাস্থ্যগত দিক প্রভৃতি কারণেও আইভিএফ সফলতা পায় না। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সফলতার হার নিয়ে এগিয়ে আছে ল্যাবএইড আইভিএফ সেন্টার। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সর্বাধুনিক ও উৎকৃষ্ট সেবা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক, সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আপসহীন ল্যাবএইড আইভিএফ সেন্টার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতি ছয়জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন বন্ধ্যাত্বের শিকার। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে কত শতাংশ দম্পতি সন্তান ধারণে অক্ষম তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এখনো দেশের অনেক স্থানে সন্তান না হলে অক্ষমতার দায়ভার চাপিয়ে দেয়া হয় নারীর ওপরই। বন্ধ্যাত্ব শুধু নারীর নয়, নারী-পুরুষ যে কারোরই হতে পারে। পুরনো সেই ধারণা ভেঙে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহ, প্রতিনিয়ত সেবার মান উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা তৈরিতে সবসময় তৎপর ল্যাবএইড ফার্টিলিটি সেন্টার।
প্রসূতি, স্ত্রীরোগ, ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল