আর্থিক বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পথচলা শুরু ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বলা বাহুল্য যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং সুদীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজয়ের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে সদ্য স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জায়গা করে নেয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সে অর্থে বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সদ্য

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পথচলা শুরু ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বলা বাহুল্য যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং সুদীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজয়ের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে সদ্য স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জায়গা করে নেয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সে অর্থে বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তত্কালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকা শাখাকেই বাংলাদেশ ব্যাংক নাম দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা হয়। এজন্য তত্কালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার ১৯৭২ সালের এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ শিরোনামে আদেশ জারি করে পিও নম্বর ১২৭ অব ১৯৭২ এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষা কার্যকর ঘোষণা করে।

যেকোনো দেশের আধুনিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই নয়, বরং সে দেশের প্রয়োজনীয় অর্থনীতি অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নেও অবদান রাখা। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা এক কথায় তুলনাহীন অপরিসীম। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পূর্তিক্ষণে বাংলাদেশ এক অপারসম্ভাবনার নাম হলেও ঠিক ১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীনতা লাভ করে, তখনকার আর্থসামাজিক সব ক্ষেত্রেই বৈরিতা লক্ষণীয় ছিল। কেমন ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতি? তা জানার জন্য ১৯৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেস- প্রকাশিত বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু তথ্যের অবতারণা করা যাক। ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের ভাষ্যমতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের সর্বাধিক ঘনবসতির দেশগুলোর একটি। যুদ্ধ, খরা, রোগ-শোক, স্বজন হারানো, অপুষ্টিতে ভোগা জনগোষ্ঠীর দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় শতংশ। প্রায় এক কোটি শরণার্থী দখলদার পাক বাহিনীর ভয়ে জীবন রক্ষার্থে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয়। হানাদার বাহিনী নির্বিচারে দেশের নারী, শিশু থেকে শুরু করে কৃষক, শিল্পী, সাহিত্যিক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, রাজনৈতিক কর্মী বুদ্ধিজীবী হত্যায় মেতে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে শিল্প-সংস্কৃতি, প্রশাসন, শিক্ষা, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ সর্বক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের অভাব দেখা দেয়। যুদ্ধকালে কৃষি শিল্পোৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে স্বাধীনতার পর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীতে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এমনকি তা ৩০০-৪০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। পাকিস্তানি বর্বর সরকারের শোষণ এবং ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারায় লাখ লাখ মানুষ। প্রতিবেশী দেশ ভারত শরণার্থীদের আশ্রয়ের পাশাপাশি প্রায় নয় লাখ টন খাদ্যসহায়তা পাঠায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে ২৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশ এইড গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলেও বাস্তবতা এমনই ছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাহায্যের বিষয়টিকে বাস্কেট কেস বা তলাবিহীন ঝুড়ি বলে আখ্যাদান করে।

এমনই এক রূঢ় বাস্তবতায় প্রথম গভর্নর এএনএম হামিদুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পথচলা কোনোভাবেই সহজতর ছিল না। যাত্রার শুরুতেই মুদ্রা ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রার বিনিময় হার ঠিক করা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা, মুদ্রানীতি প্রণয়ন বাস্তবায়নসহ বিধিবদ্ধ রিজার্ভ সংরক্ষণের গুরুদায়িত্ব নিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে। সদ্য স্বাধীন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডলারাইজেশন ইউরো-ডলার বিতর্ক সফলতার সাথে সামাল দেয়। ১৯৭৩ সালের মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের মুদ্রা আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহারের লক্ষ্যে রাতারাতি শতকরা ভাগ অবমূল্যায়ন করে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে দেশে ডলার ক্রয়ের হিড়িক পড়ে যায়। রিজার্ভ সংরক্ষণের তত্কালীন প্রচলিত মেটাল স্ট্যান্ডার্ড-এর বদলে মার্কিন কাগজি মুদ্রা ডলার স্থান দখল করে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণ প্রভূত মূল্যবান ধাতবের বদলে পেপার স্ট্যান্ডার্ড নীতি গ্রহণ করে মার্কিন মুদ্রা ডলারকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসেবে গ্রহণ করে। তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন মুদ্রা ক্রয় করলেও বাজেয়াপ্তের ভয়ে ইউরোপিয়ান বলয়ভুক্ত দেশগুলো ডলার সংরক্ষণ করে যা কালক্রমে ইউরো-ডলার হিসেবে বহুল পরিচিতি পায়। কোল্ড ওয়ার বা শীতল যুদ্ধের সেই ডামাডোলে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং দেশীয় মুদ্রা টাকা মান ধরে রাখতে হিমশিম খেলেও সফলতার সাথে মোকাবেলা করে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী মুদ্রা টাকা এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ডলার সমান টাকা। একমাত্র ১৮৭৮ সালে ব্যতিক্রম বাদে ১৯৭১-৭৮ সাল পর্যন্ত টানা ডলারের বিপরীতে টাকা মান হারাতে থাকে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের সুপারিশক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার মূল্যমান পুনর্নির্ধারণ করে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৫৬ শতাংশ অবমূল্যায়নের মাধ্যমে। এরপর ১৯৮০, ১৯৮৩, ১৯৮৫ ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশী মুদ্রার মান কমিয়ে ব্যালান্স অব পেমেন্টে সমন্বয় করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক বাজার প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবক হিসেবে আর্থিক বাজার প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং তা রক্ষার্থে প্রভূত ভূমিকা পালন করে। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ৭ক ধারায় স্পষ্টত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বাবলি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, দেশের জাতীয় মুদ্রানীতি প্রণয়ন বাস্তবায়ন। স্বাধীনতার অব্যবহিতকাল থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক সুচারুরূপে বছরে দুবার অর্থাৎ ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। মুদ্রানীতি প্রণয়ন এবং তার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ ব্যবস্থায় মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বিরাজমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দেশে কর্মসংস্থান তৈরি এবং বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। যথাযথ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে দেশের জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। জাতীয় মুদ্রানীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যালান্স অব ট্রেড, ব্যালান্স অব পেমেন্ট, দেশের চলতি হিসাব, মূলধন হিসাব আর্থিক হিসাবের মধ্যে সুসমন্বয় রাখা সম্ভব হয়। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি যথেষ্ট সফল বলেই ধরে নেয়া যায়। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণমূলক পলিসি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন। প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ভেতরে বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরামর্শক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশের অর্থ মূলধন বাজার নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পলিসি এবং আইন প্রণয়নে সরকারকে সম্যক সহযোগিতা করে। চতুর্থত, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার জাতীয় রিজার্ভ সংরক্ষণের সার্বিক দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল শোচনীয় পর্যায়ে। ১৯৭৪ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি ছিল সাকল্যে ৪২. মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে অবস্থা থেকে আজকের বাংলাদেশ শুধু উত্তরিতই হয়নি, বরং বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে চলে গেছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫. বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তা- নয় সত্তরের দশকের কথিত বাস্কেট কেস বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরে এসে প্রতিবেশী কোনো কোনো দেশকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ঋণ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তির ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়েছে।

পঞ্চমত, দেশের একটি সুদক্ষ সুরক্ষিত লেনদেন ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং তা সচল রাখার গুরুদায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। দেশের অভ্যন্তরে লেনদেনের জন্য মুদ্রার প্রচলন এবং এর গতি ঠিক রাখার জন্য সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পলিসি নেয়। দেশের মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক কখনো সংকোচনশীল আবার প্রয়োজনে প্রসারণমূলক ব্যবস্থা নেয়। সে লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে বিভিন্ন পলিসি উপকরণও বিদ্যমান রয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকলে তা সেবা পণ্যবাজারে মূল্যস্ফীতি ঘটাতে পারে। সেবা পণ্যবাজারে মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের জনগণ অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার সম্মুখীন হয়। জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার ব্যবস্থা করে। প্রকারান্তরে বাজারে মুদ্রার ঘাটতি দেখা দিলে সুদহার বাড়তে পারে। সুদহার বাড়ার কারণে জাতীয় বিনিয়োগে দেখা দিতে পারে স্থবিরতা। বিনিয়োগ স্থবিরতা কখনো কখনো বেকারত্বের কারণ হয়। সেক্ষেত্রে জনগণের জীবনমান বাধাগ্রস্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন স্বপ্রণোদিত হয়ে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ কাম্য স্তরে আনয়নের সব দায়িত্ব নেয়। যেমনটি করোনা মহামারী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দেখা যাচ্ছে। একদিকে কিছু মানুষ, সম্ভবত তাদের সংখ্যাই বেশি, যাদের হাতে নগদ অর্থের অভাব। সমাজের শ্রেণীর ভেতর সদ্য চাকরি হারানো বেকার থেকে শুরু করে কামার, কুমার, কৃষক, শ্রমিক শহুরে বা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই হতে পারে। আবার কথাও ঠিক যে বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত তারল্য বিদ্যমান। সে অর্থে অতিরিক্ত তারল্যের জন্য আমদানি হ্রাস এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণ হতে পারে। সে যা- হোক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত তারল্যের কারণে আমানতের সুদহার তলানিতে এসে ঠেকেছে। বর্তমানে দেশের কোনো কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক মেয়াদি আমানতে মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হারে সুদ দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে প্রকৃত সুদহার তখন ঋণাত্মক হয়ে যায়। এতে জনসাধারণের প্রকৃত আয় কমে কাঙ্ক্ষিত জীবনমান অর্জন ধরে রাখা যায় না। এমতাবস্থায় সরকারি বিল-বন্ড বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু জনগণের কাছ থেকেই নয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতরিক্ত নগদ অর্থ বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে। যেমনটি খবরে প্রকাশ, ২৪ আগস্ট ২০২১-এর আগে মাত্র তিনদিনে বাংলাদেশ ব্যাংক বিল নিলামের মাধ্যমে বাজার থেকে ১২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২১ সালের ২৯ জুলাই সর্বশেষ ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেই জানায় যে অতিরিক্ত তারল্য আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরি করলে তা তুলে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একদিকে আমদানি কম, প্রবাসী আয়ে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি এবং অন্যদিকে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিনিয়োগ চাহিদা না থাকায় দেশজ অর্থনীতিতে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক ত্বরিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুদ্রার পরিমাণ হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা খুবই সময়োপযোগী। অন্যথায় উদ্বৃত্ত নগদ অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি এবং সম্পদের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে গণদুর্ভোগের কারণ হতে পারত।

ষষ্ঠত, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারে দেশের ব্যাংক খাত এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের অধিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরই ন্যস্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে ব্যাংক অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে তাদের কার্যকলাপ সুষ্ঠু সুচারুরূপে পালনে সহায়তা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ৯ক ধারায় প্রদেয় ক্ষমতাবলে দেশীয় ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে সমন্বয়কের ভূমিকাও পালন করে। সে অর্থে সরকারের ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রসারণ এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক ঋণের প্রকৃত অবস্থার হিসাব রাখে। শুধু তা- নয়, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নেয়া বিভিন্ন পলিসির সম্যক প্রভাব কী হতে পারে, অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি কোনদিকে মোড় নেয় ইত্যাদি বিষয়ে সরকারকে ওয়াকিবহাল করার পাশাপাশি নীতিপরামর্শ দেয়। ব্যাংক অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান একে অন্যের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত এবং নির্ভরশীল। সেদিক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের আমানত, ঋণ, সঞ্চিতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে পরামর্শের মাধ্যমে ব্যাংক আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনয়ন করে।

অন্যদিকে ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনেও দেশের ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনন্য ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে অর্থবাজার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মূলধন বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরামর্শ ক্ষেত্রবিশেষে নিয়ন্ত্রণমূলক আদেশ জারি করতে পারে। অন্যান্য ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ নগদ অর্থ, মূলধন, রিজার্ভ ইত্যাদি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা পালন করে। দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংক নিরলস ভূমিকা পালন করছে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূলধন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়। রক্ষিত মূলধনের মানোন্নয়নের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের সাথে সমন্বয়ের নীতি গ্রহণ করে। ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের অনুসৃত নীতিমালার আলোকেই ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটলমেন্ট (বিআইএস) এবং বাসেল কমিটি ফর ব্যাংকিং সুপারভিশন আন্তর্জাতিকভাবে অনুসরণের লক্ষ্যে মূলধন সংরক্ষণের নীতিমালা প্রণয়ন করে। সময়ে সময়ে পরিমার্জিত সেই নীতিমালাই বাসেল গাইডলাইন হিসেবে বহুল পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বাসেল গাইডলাইন অনুযায়ী মূলধন সংরক্ষণ নীতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে উন্নত দেশ তো বটেই, উন্নয়নশীল অনেক দেশে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স বা আমানত বীমা খুবই গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমানত বীমা থাকলে যেকোনো বিরূপ পরিস্থিতিতে ব্যাংক আমানতকারীর দায় মেটাতে ব্যার্থ হলে বীমা কোম্পানি সেক্ষেত্রে ঝুঁকি বহন করে। ২০০৭-০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক লেহ্যমান ব্রাদার্সের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এবং সেই আর্থিক মন্দার ঢেউ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইসিসের (জিএফসি) ধাক্কা সামাল দিতে তত্কালীন মার্কিন সরকার ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেইল আউট প্ল্যান গ্রহণ করে। বাংলাদেশে আমানত বীমা পুরোপুরি না থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আদলে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক যাতে আমানত বীমা প্রচলনের উদ্যোগ নেয় তা বাস্তবায়ন করে, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এরূপ অনেক ক্ষেত্রেই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি আইন প্রণয়ন এবং আদেশ নির্দেশের মাধ্যমে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। দেশের জাতীয় আইন এবং আদালতের সাথে সমন্বয় রেখে সুপারিশ, অধিগ্রহণ, বাতিল বা ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার মতো জরুরি বিষয়ে ব্যাংক অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে। আইনে প্রদত্ত এসব ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক বাজার প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা আনয়ন করে।

দেশ জাতির প্রয়োজনে প্রণীত দ্য মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্ট ২০১২তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ-এর মাধ্যমে দেশের মানি লন্ডারিং বা মুদ্রা পাচার রোধে প্রভূত ভূমিকা পালন করছে। মুদ্রা পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সন্দেহজনক যেকোনো লেনদেনের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে পারে। তদ্রূপ ২০০৯ সালে প্রণীত অ্যান্টি-টেরোরিজম অ্যাক্ট ২০০৯-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক নাশকতায় জড়িত বা জড়িত সন্দেহ হলে সেই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এরূপ পরিবেশের বিপর্যয় রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং নীতিমালা সর্বমহলে প্রশংসনীয়।

ব্যাংকিং সেবাকে দেশের জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বাধীনতার আগে দেশে অবস্থিত ব্যাংক অথবা ব্যাংক শাখাগুলো অধিকাংশই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের মালিকানায় এবং সেসবের অবস্থানও ছিল শহর অঞ্চলে। সে সময় ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সীমিত পরিসরে এসব অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা দিত। স্বাধীনতার পরে এদের জাতীয়করণের আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানায় কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বাইরে সেভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল না বললেই চলে। এরূপ পরিস্থিতিতে গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের শেষে এবং আশির দশকের শুরুতে লিবারেলাইজেশন নীতি শুরু হয়। বিশেষত কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ নীতিসহায়তার কারণে ১৯৭৭-৮৫ সালের মধ্যেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখার সংখ্যা হাজার ৩০০ অতিক্রম করে। অতীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের মোট ঋণের সিংহভাগ দিত শিল্প খাতের উন্নয়নে। কিন্তু সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে ১৯৭৯ সালে কৃষি খাতে ঋণ ছিল যেখানে জিডিপির মাত্র ভাগ, তা ১৯৮৭ সালে ১১ ভাগে উন্নীত হয়। ২০২১ সালের জুনের হিসাব অনুযায়ী দেশে ব্যাংকগুলোর শাখার সংখ্যা ১০ হাজার ৭৮৮, যার অবস্থান শহর গ্রাম অঞ্চলে প্রায় সমান সমান। ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বর্তমান যুগে বিশ্বব্যাপী -ব্যাংকিং এবং -কমার্সের জয়জয়কার। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল, সিডিএম, সিআরএম প্রভৃতি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবা সরঞ্জামের পরিমাণ ছিল প্রায় এক লাখ। এমআইসিআর চেক ব্যবস্থার প্রবর্তন, চেক ক্লিয়ারিংয়ে অটোমেশন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, বাংলাদেশ ফান্ড ট্রান্সফার ইত্যাদি -সেবা প্রবর্তন প্রচলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজি ব্যবস্থাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন সুবিধা বন্ধ রেখে এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। যদিও এসবের সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সাথে তুলনা করলে এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবদান খাটো করে দেখা যায় না।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাফল্যের মুকুট যেমন রয়েছে তেমনি ব্যর্থতা যে নেই তা বলা যায় না। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্য ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম- রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০৮ কোটি টাকা। সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদানীন্তন গভর্নর পদত্যাগ করেন। সে ঘটনায় দেশে একটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছিল।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত আরেকটি ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিব্রত হয়। তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা প্রায় এক হাজার কিলোগ্রাম স্বর্ণ আসলে খাদ হিসেবে পাওয়া যায়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে স্বর্ণ ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনিয়ম অদক্ষতা উঠে আসে। বর্তমানে আরো বেশকিছু আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম জড়িয়ে যায়। কেউ কেউ পদত্যাগে বাধ্য হয়। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সেক্টরের অন্যতম রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে, তাই অনেক আলোচনা শোনা যায়।

পরিশেষে বর্তমান বিশ্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুশাসনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনা প্রবল। বিশ্বের সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রতিষ্ঠা হয় ১৬৯৪ সালে। উন্নত বিশ্বের আরো কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেমন ব্যাংক অব কানাডা, ব্যাংক অব জাপান), ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের মধ্যে তুলনায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের স্বাধীনতার মাত্রা ছিল সবচেয়ে কম। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ যা একটি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করেছে, রাষ্ট্রের বয়স বিবেচনায় খুব বেশি নয়। দেশের সমাজ-সংস্কৃতি, রাষ্ট্র অর্থনীতির নানা দিকে এখনো অনেক উন্নতি করার বাকি রয়েছে। সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নতি এবং জাতীয় মুক্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অদ্যাবধি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা বহুমুখী এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নীতি, আদর্শ, সুশাসন, স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করতে পারবে বলেই প্রতীয়মান হয়।

তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, উইকিপিডিয়া, ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক

 

. শহীদুল জাহীদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষক

আরও