আবেদ ভাইয়ের উন্নয়ন মডেল আর মুক্তিযুদ্ধের মডেল একই

আবেদ ভাই বণিক বার্তা পত্রিকাটি পছন্দ করতেন এবং প্রত্যেকদিন পড়তেন। আমি নিজে প্রিন্ট পত্রিকা পড়ি না, অনলাইনে খবর পড়ি। কিন্তু আবেদ ভাই অফিসে বসে নিজে বণিক বার্তা পড়ছেন, এটি দেখে আমার খুব মজা লেগেছিল। তার অফিসে একদিন আমার সঙ্গে তার দেখা হলো, এমনি কো-ইন্সিডেন্স বণিক বার্তায় সেদিন আমার একটি সাক্ষাত্কার ছাপা হয়েছিল। সেখানে আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশের অতি দারিদ্র্য বিমোচনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে নারী। আবেদ ভাই বললেন, তুমি ঠিক কথাই বলেছ। দেশে নারী ভূমিকা পালন না করলে অতি দারিদ্র্য কোনো দিনই কমত না। আবেদ ভাইকে তখন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি জীবনে অনেক কাজ করেছেন, কোন কাজটিকে সবচেয়ে সফল কাজ বলে মনে করেন। তিনি বললেন, অতি দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম।

কথাটি আবেদ ভাই বলছিলেন সম্প্রতি। তিনি কাজ শুরু করেছেন ১৯৭১ সাল থেকে। আমি যখনই আবেদ ভাইকে নিয়ে কিছু বলতে যাই, তখনই আমার মনে হয় মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিটা যদি না বলা হয়, তবে আমরা কিছুতেই আবেদ ভাইকে বুঝতে পারব না। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে যে ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল, সেখানে তিনি পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘটনাটি তাকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে আগ্রহী করে তুলেছিল। তিনি অতি সহজেই সব মানুষের সঙ্গে মিশে যান। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে তিনি চাকরি সূত্রে চট্টগ্রামে ছিলেন। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যেসব কর্মকাণ্ড ঘটেছিল, তার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে শেল অয়েলের প্রতিনিধি হিসেবে তাকে ঢাকায় বদলি করা হয়। কিছুদিন আবেদ ভাইকে ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে বসতে হয়েছিল। তিনি নিজে বলেছেন, সে সময়ের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কখনো হয়নি।

পরে বন্ধুবান্ধবের সহযোগিতায় আফগানিস্তান হয়ে বিলেতে চলে যান। বিলেতে গিয়ে তিনি হেলপ বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সারা বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনের কাজ করতে থাকেন এবং অর্থ সংগ্রহ করেন। সময় তিনি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন করাচি সমুদ্রবন্দরকে উড়িয়ে দেবেন। কাজের জন্য তাদের ১৫-২০ হাজার পাউন্ডের দরকার ছিল, সেটি তারা সংগ্রহও করেন। তার এক বন্ধু বলেন, রকম একটি কাজ করার আগে আমাদের মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার। তিনি তার বন্ধু কলকাতায় যান। তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করেন। সব শুনে তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আপনাদের প্রস্তাবটি খুব ভালো। কিন্তু মুহূর্তে অর্থ দিয়ে মুজিবনগর সরকারের খুব লাভ হবে। আমরা ঠিকমতো বেতন দিতে পারছি না। তখন আবেদ ভাই সংগৃহীত অর্থ দিয়ে দেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর্যায়ে আবেদ ভাইকে জেনারেল জিয়া বলেন, যুদ্ধের জন্য আমাদের দুরবিন পর্যন্ত নেই। তখন আবেদ ভাই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দুরবিন সংগ্রহ করেছেন। রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আমাদের যোদ্ধাদের শীত নিবারণের গরম কাপড় নেই। আবেদ

আরও