কচুর ফুল ভর্তায় শৈশবের ঘ্রাণ

কচু ফুলের রান্নার পদ্ধতি অঞ্চলভেদে ভিন্ন৷ যে অঞ্চলে নারকেল সহজপ্রাপ্য সেখানে নারকেল দিয়ে ভর্তা করা হয়। চিংড়ি সহযোগে খাওয়া হয় খুলনা বাগেরহাট অঞ্চলে৷ আর উত্তরবঙ্গে এটি হয় শুধুই ভর্তা।

আবহমান কাল থেকে বাঙালির খাদ্য তালিকা প্রকৃতির মতোই বৈচিত্র্যময়। এর কারণও অবশ্যই প্রকৃতি। ঋতুভেদে যে ফল বা সবজি যখন পাওয়া যায় তা থেকেই পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে মানুষ। গ্রীষ্মে যেমন হরেক ফল থেকে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান হয়, বর্ষার তেমন একটি খাদ্য উপাদান কচু।

এটি এমন একটি সবজি যার দেহের পুরো অংশই নানা উপায়ে উপাদেয়। কচুর মূল থেকে ফুল-পুরোটাই পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে নগরায়নের প্রভাবে কচু ফুলের বাহারি রান্না প্রায় হারাতে বসেছে।

বর্ষাকালে গ্রামাঞ্চলে জলা জায়গায় যত্ন ছাড়াই প্রচুর কচু জন্মে। তবে বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় বাণিজ্যিকভাবেও কচু চাষ হচ্ছে। পূর্ণ বয়সের পুষ্ট কচু ডাটার মাঝখান থেকেই পাওয়া যায় ফুল, সবুজ ডাটার হলুদ ফুল পুষ্টিগুণে ভরপুর।

কচু ফুলে আছে আয়রন, যা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে। এতে আরো পাওয়া যায় ভিটামিন এ ও সি। এতে রক্তের কোলেস্টেরল কমে, তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য কচুর ফুল বেশ উপকারী। এই ফুলের গর্ভদণ্ড ফেলে দিয়ে পুরো অংশটি তরকারি হিসেবে খাওয়া হয় বড় মাছের মাথাসহযোগে কিংবা আলু দিয়ে রান্না করে। এ ছাড়া এটি বড়া করেও খাওয়া যায়।

তবে রান্নার পদ্ধতি অঞ্চলভেদে ভিন্ন৷ যে অঞ্চলে নারকেল সহজপ্রাপ্য সেখানে নারকেল দিয়ে ভর্তা করা হয়। চিংড়ি সহযোগে খাওয়া হয় খুলনা বাগেরহাট অঞ্চলে৷ আর উত্তরবঙ্গে এটি হয় শুধুই ভর্তা।

গর্ভদণ্ড ফেলে ছোট ছোট টুকরো করে প্রথমে ফুলগুলো হলুদ, লবণে ভালো করে সেদ্ধ করে নিতে হয়। সু-সেদ্ধ ফুলকে নেড়েচেড়ে চটকে একদমই ভর্তা বানিয়ে ফেলা হয়। রান্নার এ পর্যায়ে গরম তেলে জিরা, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ফোঁড়ন দিয়ে বেশ ভালো করে কষিয়ে নিলেই প্রস্তুত কচুর ফুলের মজাদার ভর্তা।

গরম ভাতে কচুফুলের ভর্তা থেকে ভেসে আসে শৈশবের ঘ্রাণ।

আরও