ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, রেস্টুরেন্টে খাওয়া কিংবা সিনেমা দেখা—অবসর কাটানোর এমন পরিচিত পদ্ধতির বাইরে অন্যরকম অভিজ্ঞতা খুঁজছেন তরুণরা। এমন কিছু শেখায় আগ্রহ বাড়ছে, যা আনন্দ দেয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও কাজে লাগবে, খরচ কমাবে কিংবা ভবিষ্যতে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করবে। রান্না, সেলাই, বাগান করা, কাঠের কাজ, ছবি তোলা কিংবা বিভিন্ন কারুশিল্প শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পেছনে তাই শুধু শখ নয়, বাস্তব প্রয়োজনও কাজ করছে।
কানাডার টরন্টোর ৩০ বছর বয়সী করপোরেট কমিউনিকেশনস ম্যানেজার অ্যাডা র্যাম্পারসড বন্ধুদের সঙ্গে স্ক্রিনের বাইরে সময় কাটাতে সেলাই শেখার ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন। দুই দফা ক্লাসে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় দিয়ে খরচ করেন ১৭৩ কানাডিয়ান ডলার। শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল নতুন কিছু শেখা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এ দক্ষতা ভবিষ্যতে পোশাক মেরামত বা নিজের মাপ অনুযায়ী পোশাক পরিবর্তনের কাজে লাগতে পারে। এমনকি এটি বাড়তি আয়ের পথও তৈরি করতে পারে।
বিশ্বজুড়েই এ ধরনের ব্যবহারিক দক্ষতার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ইউরোপের ২৭ হাজার তরুণের ওপর মাস্টারকার্ডের এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মানুষ ছুটির সময় নতুন কোনো দক্ষতা শেখার পরিকল্পনা করছেন। জেনজি-র মধ্যে এ প্রবণতা আরো বেশি। রান্নার কর্মশালার পাশাপাশি সেলাই, পোশাক তৈরি ও কাঠের কাজের মতো হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতাও জনপ্রিয় হচ্ছে
বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর আরো প্রত্যক্ষ প্রয়োগ আছে। একটি পোশাকের সামান্য ত্রুটি হলেই সেটি ফেলে দিয়ে নতুন পোশাক কেনার প্রয়োজন হয় না। পছন্দের জামার বোতাম খুলে গেলে, সেলাই ছুটে গেলে কিংবা একটু ঢিলা-টাইট হলে নিজেই ঠিক করতে পারলে সময় ও টাকা—দুটিই বাঁচে। একইভাবে রান্না শেখা শুধু শখের বিষয় নয়; বাইরে খাবারের খরচ কমানো থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে ঘরে তৈরি খাবারের ছোট ব্যবসার সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।
বিশ্বজুড়েই এ ধরনের ব্যবহারিক দক্ষতার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ইউরোপের ২৭ হাজার তরুণের ওপর মাস্টারকার্ডের এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মানুষ ছুটির সময় নতুন কোনো দক্ষতা শেখার পরিকল্পনা করছেন। জেনজি-র মধ্যে এ প্রবণতা আরো বেশি। রান্নার কর্মশালার পাশাপাশি সেলাই, পোশাক তৈরি ও কাঠের কাজের মতো হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতাও জনপ্রিয় হচ্ছে।
বাংলাদেশের তরুণদের মাঝেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগে যে কাজগুলো ‘জানলে ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হতো, সেগুলো এখন অর্থনৈতিক মূল্যও তৈরি করছে। তবে তাদের দক্ষতা শেখার বড় অংশ এখন অনলাইননির্ভর। ইউটিউব, ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষামাধ্যমের কল্যাণে ঘরে বসেই শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেউ ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং শিখছেন, কেউ মোবাইল ফটোগ্রাফি, কেউ আবার কেক বানানো বা হাতে তৈরি পণ্য তৈরির কৌশল আয়ত্ত করছেন। এসব দক্ষতার কিছু সরাসরি আয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, আবার কিছু দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে পারে।
অর্থনীতির ভাষায়, এটি এক ধরনের ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল’ তৈরির প্রক্রিয়া। অর্থাৎ সময় ও অর্থ ব্যয় করে এমন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা, যার মূল্য ভবিষ্যতে পাওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরণের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি শখ থেকেই দ্রুত আয় করতে হবে। বরং এর বড় সুবিধা হলো আত্মনির্ভরতা। ছোটখাটো কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয় না। একই সঙ্গে কোনো কাজ কীভাবে করতে হয়, তা জানা থাকলে পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষেত্রেও মানুষ তুলনামূলক সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।