গরম আর আর্দ্রতায় স্বস্তি পেতে কী পরবেন

এমন আবহাওয়ায় শুধু ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর নির্ভর করলেই হয় না, পোশাক বাছাইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কী রঙের কাপড় পরছেন, কাপড়টি কতটা মোটা বা পাতলা, ঢিলেঢালা নাকি শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে—এসবই গরমে স্বস্তি পেতে কাজে আসে।

গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হলেও গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটেনি। তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে থাকা বাড়তি আর্দ্রতার কারণে ঘামও সহজে শুকাতে চায় না। ফলে শরীরের স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হয়। বাইরে কিছুক্ষণ থাকলেই জামাকাপড় ঘামে ভিজে যায়, ঘরে থেকেও মেলে না খুব একটা স্বস্তি।

এমন আবহাওয়ায় শুধু ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর নির্ভর করলেই হয় না, পোশাক বাছাইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কী রঙের কাপড় পরছেন, কাপড়টি কতটা মোটা বা পাতলা, ঢিলেঢালা নাকি শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে—এসবই গরমে স্বস্তি পেতে কাজে আসে।

তাহলে গরমে আরামদায়ক পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? রং থেকে শুরু করে কাপড়ের ধরন, পোশাকের গড়ন ও আর্দ্রতা সামলানোর সক্ষমতা—সবকিছুই এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসে।

রং ও নকশা

গরমের দিনে অনেকেরই প্রথম পছন্দ সাদা রংয়ের পোশাক। কারণ সাদা কাপড় সূর্যের আলো বেশি প্রতিফলিত করে, অন্যদিকে কালো কাপড় তুলনামূলক বেশি আলো শোষণ করে। তবে শরীর ঠান্ডা রাখার বিষয়টি শুধু রঙের ওপর নির্ভর করে না।

কারণ শরীর থেকেও তাপ বের হয়। পোশাক সেই তাপ কতটা বাইরে বের করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পোশাক বাছাইয়ের সময় এর গড়নের দিকটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক শরীরে বাতাস চলাচলে সহায়তা করে। তবে দেশের এখনকার মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শুধু ঢিলেঢালা পোশাক হলেই হবে না বরং কাপড়ের মধ্য দিয়ে ঘাম ও জলীয়বাষ্প বের হতে পারাও জরুরি।

এ কারণে এমন কাপড় বেছে নেয়া ভালো, যার মধ্য দিয়ে বাতাস ও জলীয়বাষ্প চলাচল করতে পারে। খুব মোটা, ভারী বা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা পোশাক এড়িয়ে চলাই স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

সুতি, লিনেন নাকি সিনথেটিক?

গরমের পোশাক বলতে প্রথমেই আসে সুতি কাপড়ের কথা। সুতি কাপড় ঘাম শোষণ করতে পারে এবং আরামদায়ক। তবে বেশি ঘাম হলে এ কাপড়েও অসুবিধা বোধ হতে পারে। কারণ সুতি কাপড় ভিজে গেলে শুকাতে সময় লাগে। ফলে বাংলাদেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ায় সারাদিন ঘেমে থাকলে পোশাক ভেজা ও ভারী লাগতে পারে।

লিনেন কাপড় বাতাস চলাচলের ক্ষেত্রে ভালো। এর তন্তুর গঠন তুলনামূলকভাবে খোলা হওয়ায় গরমে এটি বেশ আরামদায়ক। যদিও লিনেন কাপড়ও খুব দ্রুত শুকায় না।

অন্যদিকে নাইলন ও পলিয়েস্টারের মতো কাপড় ঘাম শোষণ করে দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। এ কারণেই খেলাধুলার পোশাকে নাইলন ও পলিয়েস্টারের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশের আর্দ্র গরমে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে হালকা ও ভালোভাবে বায়ু চলাচল করতে পারে এমন স্পোর্টস ফ্যাব্রিকও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

তবে সব সিনথেটিক কাপড় এক রকম হয় না। কিছু কাপড় শরীরের সঙ্গে লেগে থেকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ঘামের দুর্গন্ধও দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারে।

ভেজা পোশাক কি স্বস্তি দেবে?

গরমে শরীর ঠান্ডা হওয়ার অন্যতম স্বাভাবিক উপায় ঘাম। ঘাম বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় শরীরের তাপ ব্যবহার করে, ফলে ত্বক ঠান্ডা হয়। এ কারণে সামান্য ভেজা কাপড় বা শরীরে পানি দেয়া শুষ্ক আবহাওয়ায় কিছুটা দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে।

তবে আর্দ্র পরিবেশে এর কার্যকারিতা তুলনামূলক কম হতে পারে। কারণ বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় পানি বা ঘাম সহজে বাষ্পে পরিণত হতে পারে না।

নতুন কাপড় নিয়ে গবেষণা

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য নতুন ধরনের কাপড় নিয়েও গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানীরা এমন উপাদান তৈরির চেষ্টা করছেন, যা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করবে, আবার শরীরের নিজস্ব তাপও বাইরে বরে করে দিতে পারবে।

কিছু গবেষণায় এমন তন্তু তৈরি করা হয়েছে, যা তাপমাত্রা বাড়লে নিজের গঠন পরিবর্তন করে। তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তন্তুগুলোর মাঝের দূরত্বও পরিবর্তন হয়। এতে কাপড়ের মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচল এবং তাপ বের হওয়ার সুযোগ বাড়ে।

আবার এমন উপাদান নিয়েও কাজ হচ্ছে, যা অতিরিক্ত তাপ শোষণ করতে পারে। যদিও এসব প্রযুক্তি এখনো মূলত গবেষণা ও বিশেষ ধরনের পোশাকে সীমিত আছে। তবে ভবিষ্যতে দৈনন্দিন পোশাকেও এগুলোর ব্যবহার বাড়তে পারে।

আরও