নিষিদ্ধ ও সেন্সরকৃত বই নিয়ে দুয়া লিপার ‘ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি’

দুয়া লিপার আছে নিজস্ব বুক ক্লাব। এবার শুরু করেছেন নতুন একটি উদ্যোগ। নিজের একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করছেন। লাইব্রেরিতে থাকবে নিষিদ্ধ ও সেন্সর করা বইয়ের সংগ্রহ—নাম ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি

পপ তারকা দুয়া লিপা। তার ব্যস্ত সময় যেন থামছেই না। তিনি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন নতুন লাইভ অ্যালবাম দুয়া লিপা—লাইভ ফ্রম মেক্সিকো। এ শিল্পীর আছে নিজস্ব বুক ক্লাব। এবার শুরু করেছেন নতুন একটি উদ্যোগ। নিজের একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করছেন। লাইব্রেরিতে থাকবে নিষিদ্ধ ও সেন্সর করা বইয়ের সংগ্রহ—নাম ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি।

আন্তর্জাতিক বই উৎসব ব্যাবেল—সিটি অব বুকস-এর অংশ হিসেবে এটি স্থায়ীভাবে স্থান পেয়েছে পর্তুগালের পোর্তো শহরের বিখ্যাত বইয়ের দোকান লিভ্রারিয়া লেলোয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন লাইব্রেরিকে ‘স্বপ্নের অংশীদারত্ব’ বলে উল্লেখ করেছেন দুয়া লিপা।

তিনি বলেন, ‘সার্ভিস নাইন্টি ফাইভ বুক ক্লাব প্রতিষ্ঠার সময় আমার লক্ষ্য ছিল এটি যেন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে, যেকোনো পরিস্থিতিতে থাকা লেখক ও পাঠকদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে।’

দুয়া লিপার সার্ভিস নাইন্টি ফাইভ বুক ক্লাব প্রতি মাসে একটি বই নির্বাচন করে এবং সংশ্লিষ্ট লেখকের সাক্ষাৎকারভিত্তিক একটি পডকাস্টও প্রকাশ করে।

লিপা আরো বলেন, ‘পৃথিবীকে পড়া আমাদের একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাই তা সমর্থন করে না।’

ডেভিড সালয়ের বুকারজয়ী ‘ফ্লেশ’ হাতে দুয়া লিপা। ছবি: ভোগ ফ্রান্স

দুয়া লিপা সংগীতের পাশাপাশি বই নিয়ে সরব। বুক ক্লাবের মাধ্যমে তিনি বই ও মানুষকে যুক্ত করেছেন। নতুন লাইব্রেরি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আপনি এমন একশটি বই খুঁজে পাবেন, যেগুলো প্রশ্ন তোলে অথবা নিজেরাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পাঠকদের জন্য লেখা কিছু বই প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এমনও ঘটনা রয়েছে, যেখানে কোনো লেখক তার লেখার জন্য জীবন পর্যন্ত দিয়েছেন।’

দুয়া জানান এই লাইব্রেরি সেই সব বইয়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, যেগুলো হারিয়ে গেছে; সেই সব লেখকের প্রতি সম্মান, যাদের সাহস ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের কাঠামোকে উন্মোচিত করেছে; এবং সেই সব পাঠকের প্রতি সম্মান, যারা অন্যের নির্দেশ মেনে কোন বই পড়বেন তা নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

লিভরারিয়া লেলোর নতুন সাংস্কৃতিক অডিটোরিয়ামে প্রায় ১০০টি বই রাখা হয়েছে। বইগুলো চারটি মূল বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্বাচন করা হয়েছে—ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, কণ্ঠস্বর এবং স্মৃতি। আছে দ্য হ্যান্ডমেইড’স টেল, ফেলন। সালমান রুশদি ও ওলগা তোকারচুকের বই।

লিভরারিয়া লেলোর ব্র্যান্ড প্রধান ফ্রান্সিসকা পেদ্রো পিন্টো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘১২০ বছর ধরে লিভরারিয়া লেলো একটি সহজ বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এটি বলে, বই হলো স্বাধীনতার প্রযুক্তি। ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি সেই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে। কারণ এখানে শুধু পাঠের ভবিষ্যৎ নয়, বরং একটি সমাজের কল্পনা করার, ব্যাখ্যা করার এবং নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্মাণের সক্ষমতার প্রশ্নও জড়িত।’

বই পড়ার প্রতি গভীর অনুরাগী হিসেবে পরিচিত দুয়া লিপা আগামী ২১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য লন্ডন লিটারেচার ফেস্টিভ্যালের ২০২৬ সালের আসরের কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র: ইউরো নিউজ

আরও