কাউকে সরাসরি তার বেতনের অংক জিজ্ঞেস করাকে একসময় অশোভন বা ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হতো। তবে কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিতে এ ধারণা বদলাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের পেশাজীবীদের মধ্যে বেতন নিয়ে খোলামেলা আলোচনার প্রবণতা বাড়ছে। তাদের কাছে কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ; একই পদে কাজ করেও সহকর্মীদের বেতনের পার্থক্য কেন থাকবে, সে প্রশ্নও তুলছেন তারা।
‘মিস্টার ম্যানার্স ডটকম’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও শিষ্টাচার বিশেষজ্ঞ থমাস ফার্লির মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে বেতন নিয়ে গোপনীয়তার ধারণা আগের মতো গ্রহণযোগ্য নয়। জেন-জি ও তরুণ মিলেনিয়াল পেশাজীবীরা কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করেন। তাদের ধারণা, একই পদে কাজ করা কর্মীদের বেতনের তথ্য গোপন রাখার যৌক্তিকতা নেই।
ক্যারিয়ারবিষয়ক প্লাটফর্ম কিকরিজিউমের এক সাম্প্রতিক জরিপেও এ প্রবণতার চিত্র পাওয়া গেছে। জরিপে ৩৯ শতাংশ জেন-জি কর্মী জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে তারা বেতন নিয়ে খোলাখুলি আলোচনায় আগ্রহী। মিলেনিয়ালদের ক্ষেত্রে এ হার ৩০ শতাংশ এবং জেন-এক্স কর্মীদের ক্ষেত্রে ২২ শতাংশ। জরিপে অংশ নেয়া ৫৬ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, সহকর্মীরা তাদের চেয়ে বেশি বেতন পান—এ তথ্য তারা এমন আলোচনার মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন।
কেউ বেতন জানতে চাইলে কী করবেন
কারো আয় বা বেতন কাঠামো জানতে চাওয়ার আগে নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করেন থমাস ফার্লি। কেবল কৌতূহল মেটাতে বা আলোচনার বিষয় হিসেবে কারো বেতন জানতে চাওয়া শোভন নয়। তবে পদোন্নতি বা নিজের বেতন পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে ধারণা পেতে এ তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দিষ্ট অংক না জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট পদে বেতনের সম্ভাব্য সীমা বা রেঞ্জ সম্পর্কে প্রশ্ন করা যেতে পারে।
প্রশ্ন করার সময় অপর পক্ষকে অস্বস্তিতে না ফেলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার একটি বিষয় জানার ছিল। তবে তুমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই’— এ ধরনের বাক্য দিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। এছাড়া সহকর্মীদের সরাসরি প্রশ্ন করার পরিবর্তে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম ও চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত বেতনের তথ্য থেকেও ধারণা নেয়া যেতে পারে।
নিজের বেতন জানাবেন কিনা
কেউ আপনার বেতন জানতে চাইলে উত্তর দেয়া বা না দেয়ার পূর্ণ অধিকার আপনার রয়েছে। সহকর্মীদের সঙ্গে বেতনের তথ্য ভাগ করায় অস্বস্তি বোধ করলে তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন। যেমন বলা যায়, ‘আমি সাধারণত কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না।’
আবার সরাসরি অংক না জানিয়ে বেতনের একটি সীমা বা রেঞ্জ উল্লেখ করেও প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়। যেমন, ‘অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এ পদে বেতন সাধারণত এক্স থেকে ওয়াই টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।’
কর্মক্ষেত্রে বেতন নিয়ে স্বচ্ছতা যেমন সমতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বেতন নিয়ে আলোচনা করার আগে পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করা এবং অন্যের ব্যক্তিগত সীমার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই শিষ্টাচারের অংশ।