জাপানের জনপ্রিয় রহস্য লেখক কেইগো হিগাশিনো মারা গেছেন

২০২৩ সালে হিগাশিনোর শততম বই প্রকাশিত হয়। তখন পর্যন্ত শুধু জাপানেই তার বইয়ের বিক্রি ১০ কোটির বেশি কপি ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বের ৪১টি দেশ ও অঞ্চলে তার বই প্রকাশিত হয়েছে।

সব রহস্যের ইতি টেনেছেন বিশ্বখ্যাত জাপানি রহস্য ও গোয়েন্দা কাহিনির লেখক কেইগো হিগাশিনো। কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ জুলাই মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। সোমবার এ খবর নিশ্চিত করেছে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।

১৯৫৮ সালে জাপানের ওসাকা প্রিফেকচারে জন্মগ্রহণ করেন হিগাশিনো। ওসাকা প্রিফেকচার ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও সাহিত্যই তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়।

১৯৮৫ সালে আফটার স্কুল উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যজীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। একই বছর এ উপন্যাসের জন্য মর্যাদাপূর্ণ এদোগাওয়া রাম্পো পুরস্কার অর্জন করেন হিগাশিনো। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় উপন্যাস লিখে তিনি জাপানি রহস্যসাহিত্যের অন্যতম শীর্ষ লেখকে পরিণত হন। ১৯৯৯ সালে নাওকো উপন্যাসের জন্য মিস্ট্রি রাইটার্স অব জাপান অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০৬ সালে দ্য ডিভোশন অব সাসপেক্ট এক্স -এর জন্য জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নাওকি পুরস্কার লাভ করেন।

জাপানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে হিগাশিনোর শততম বই প্রকাশিত হয়। তখন পর্যন্ত শুধু জাপানেই তার বইয়ের বিক্রি ১০ কোটির বেশি কপি ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বের ৪১টি দেশ ও অঞ্চলে তার বই প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বইপ্রেমীদের কাছেও কেইগো হিগাশিনো ছিলেন পরিচিত এক নাম। তার উপন্যাসের বাংলা অনুবাদ পাঠককে শুধু জাপানি রহস্যসাহিত্যের প্রতি আগ্রহী করেনি বরং নতুন পাঠকও তৈরি করেছে। অনেক তরুণ পাঠকের কাছে জাপানি সাহিত্যের প্রথম দরজা খুলেছিল হিগাশিনোর বইয়ের হাত ধরেই। বাংলাদেশের একাধিক প্রকাশনী তার দ্য ডিভোশন অব সাসপেক্ট এক্স, জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান, আফটার স্কুল, ম্যালিস, অ্যা মিডসামারস ইকুয়েশন, নিউকামারসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় উপন্যাসের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে। হিগাশিনোর অনেক উপন্যাস চলচ্চিত্র, টেলিভিশন সিরিজ ও ওয়েব কনটেন্টে রূপ পেয়েছে।

জটিল রহস্য, সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং অপ্রত্যাশিত সমাপ্তির জন্য কেইগো হিগাশিনোর লেখা বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে সমাদৃত। তার মৃত্যুতে সমকালীন রহস্যসাহিত্য একজন প্রভাবশালী ও বহুলপঠিত লেখককে হারাল।

আরও