পাখি দেখা— শুধু শখ নয়, বুড়ো মস্তিষ্ক রাখতে পারে সক্রিয়

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে। পরিচিত মানুষের নাম মনে করতে, কথোপকথনে মনোযোগ ধরে রাখতে কিংবা দৈনন্দিন নানা ঘটনা মনে করতে সমস্যা হয়। ডিমেনশিয়ার মতো রোগে এসব সমস্যা আরো প্রকট হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাখি দেখা বা বার্ডওয়াচিং হতে পারে আনন্দের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি উপায়

সকালে জানালার পাশে বসে আছেন। বাইরে গাছের ডালে এসে বসেছে ছোট একটি পাখি। তার ডাক শুনলেন, উড়ে যাওয়া দেখলেন। হয়তো পাখিটির নাম জানার কৌতূহলও হলো। এমন ছোট্ট একটি মুহূর্ত আপনার মন ভালো করার পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী হতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে। পরিচিত মানুষের নাম মনে করতে, কথোপকথনে মনোযোগ ধরে রাখতে কিংবা দৈনন্দিন নানা ঘটনা মনে করতে সমস্যা হয়। ডিমেনশিয়ার মতো রোগে এসব সমস্যা আরো প্রকট হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাখি দেখা বা বার্ডওয়াচিং হতে পারে আনন্দের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি উপায়। আর গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত পাখি দেখার অভ্যাস মস্তিষ্কের গঠন ও কাজের ধরনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার গতি ধীর করতেও এটি সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ফোর্জ মিল লেকের পাশে প্রতি সপ্তাহে এমনই একটি দলের দেখা মেলে। বয়স্ক কয়েকজন মানুষ কাঠের তৈরি একটি ছোট ঘরে বসে দূরবীন দিয়ে পাখি দেখেন। পানির ধারে খাবার খুঁজতে থাকা পাখি কেউ আনন্দিত হন। কাউকে মুগ্ধ করে পানিতে ভেসে থাকা পাখির মাথার পালক। আর পাখি নিয়ে ছোট বা বড় অভিজ্ঞতা তারা গল্পের মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নেন।

দলটির অনেকেরই সেদিন সকালে কী ঘটেছে, তা মনে করতে কষ্ট হয়। কারো কারো কথোপকথন অনুসরণ করতেও সমস্যা হয়। অথচ পাখি দেখার সময় তাদের মধ্যে দেখা যায় অন্য রকম প্রাণচাঞ্চল্য।

৭৮ বছর বয়সী হ্যারল্ডের কথাই ধরা যাক। একসময় প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু ডিমেনশিয়ার কারণে সম্প্রতি নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন, বেড়েছে উদ্বেগও। তাই তার মেয়ে লুসি বাবাকে এই দলে নিয়ে আসেন। ভেবেছিলেন, খোলা পরিবেশে কিছুটা সময় কাটালে হয়তো তার ভালো লাগবে।

শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও একসময় একটি রবিন পাখি দেখিয়ে দেয়ায় হ্যারল্ডের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। পানিতে হাঁসের ছোটাছুটি দেখেও আনন্দ পান তিনি। আশপাশের গাছের ডালে নীল রঙের ছোট ছোট পাখির ছোটাছুটি দেখতে দেখতে একপর্যায়ে হেসে উঠেন। অনেক দিন পর বাবাকে এভাবে হাসতে দেখে আবেগাপ্লুত হন লুসি।

যুক্তরাজ্যে বয়স্কদের কল্যাণে কাজ করে এজ ইউকে। অলাভজনক সংস্থাটির কমিউনিটি ডিমেনশিয়া উপদেষ্টা জেনি বুডিঙ্গার জানান, ওই মুহূর্তে হ্যারল্ড নিজের স্মৃতিশক্তি কিংবা আত্মবিশ্বাস নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন না। তিনি শুধু বর্তমান মুহূর্তটিতে ছিলেন। ছোট্ট এই পরিবর্তনই অনেক বড় অর্থ বহন করে।

পাখি দেখার এমন অভিজ্ঞতা এখন বয়স্ক মানুষ ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের যত্নের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নার্সিং হোমে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জানালা দিয়ে পাখি দেখার সুযোগও মানুষের মধ্যে অন্যদের সঙ্গে সংযোগের অনুভূতি বাড়াতে পারে, ইতিবাচক আবেগ জাগাতে পারে এবং স্মৃতিশক্তির কিছু দিক উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।

বার্ডওয়াচিংয়ে মস্তিষ্কে কী পরিবর্তন হয়?

পাখি দেখা শুধু মন ভালো রাখার বিষয় নয়, মস্তিষ্কের গঠনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

কানাডার টরন্টোয় বেক্রেস্ট একাডেমি ফর রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের স্নায়ুবিজ্ঞানী এরিক উইংয়ের নেতৃত্বে গবেষকরা অভিজ্ঞ পাখিপ্রেমী ও নতুন পাখি দেখতে শুরু করেছেন এমন ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করেন। পাখি শনাক্ত করার দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যানও বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্কের কিছু অঞ্চলের গঠন ও সংযোগের ধরন নতুনদের তুলনায় আলাদা। বিশেষ করে মনোযোগ দেয়া, চোখে দেখা তথ্য বুঝতে পারা এবং দৃশ্য দেখে কোনো কিছু চিনে নেয়ার সঙ্গে যুক্ত অঞ্চলে এই পার্থক্য দেখা যায়।

অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা যখন আগে কখনো দেখেননি এমন পাখি শনাক্ত করার চেষ্টা করেন, তখন মস্তিষ্কের এসব অঞ্চলে বেশি সক্রিয়তা দেখা যায়।

এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, পাখি চেনা ও শনাক্ত করার মতো দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কে পরিবর্তন আসতে পারে। বিজ্ঞানের ভাষায়, মস্তিষ্কের অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করে নেয়ার এই ক্ষমতাকে বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’।

অর্থাৎ, মস্তিষ্কের গঠন ও কাজের ধরন স্থির নয়। নতুন কিছু শেখা, মনোযোগ দিয়ে কোনো কাজ করা কিংবা নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কে পরিবর্তন আসতে পারে।

অবশ্য পাখি দেখার অভ্যাসের কারণেই মস্তিষ্কের এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে, নাকি মস্তিষ্কের গঠনের কারণে তারা পাখি শনাক্ত করার দক্ষতা বেশি অর্জন করেছেন—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।

গবেষকরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সংগঠিতভাবে কাজ করার বিষয়টিও পরীক্ষা করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই সংগঠিত সংযোগ কমতে থাকে। আর মস্তিষ্কের এমন সংগঠনের মাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে চিন্তা ও স্মৃতিসংশ্লিষ্ট দক্ষতা হ্রাসের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, একই বয়সী নতুনদের তুলনায় অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্কের কিছু অঞ্চলে সংগঠিত সংযোগের মাত্রা বেশি। এর মধ্যে এমন কিছু অঞ্চলও ছিল, যেগুলো পাখি শনাক্ত করার সময় বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।

এ থেকে গবেষকরা ধারণা করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বার্ডওয়াচিংয়ে বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের কিছু কার্যকর সংযোগ ধরে রাখতে সুবিধা হতে পারে। তবে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

শুধু দক্ষতা নয়, আগ্রহ থাকাটাও জরুরি

পাখি দেখার উপকার পেতে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের দক্ষতা অর্জন করতেই হবে, এমন নয়। বরং পাখির প্রতি আগ্রহ, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ এবং নতুন কিছু জানার কৌতূহলও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পোল্যান্ডে ৩৮৮ জন পাখি পর্যবেক্ষকের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পাখি দেখাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন এবং এ কাজে বেশি আগ্রহ অনুভব করেন, তারা মানসিক প্রশান্তি ও সতেজতার অনুভূতি বেশি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। যাদের পাখি শনাক্ত করার দক্ষতা বেশি, কিন্তু আগ্রহ তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে এই অনুভূতি কম দেখা গেছে।

অর্থাৎ, পাখির সব প্রজাতির নাম জানা কিংবা দূরবীন হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোই মূল কথা নয়। পাখির প্রতি মনোযোগ দেয়া, তাদের আচরণ লক্ষ করা এবং এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।

জার্মানির ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আইখস্ট্যাট-ইনগলস্ট্যাডের সামাজিক ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এলিজাবেথ কালস বয়স্কদের আবাসনকেন্দ্রে পাখি দেখার সুযোগ তৈরি করে এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তার দল জার্মানির ৬৫টি আবাসনকেন্দ্রের বাইরে পাখিদের খাবার দেয়ার ব্যবস্থা করে। এমনভাবে এগুলো স্থাপন করা হয়, যাতে বাসিন্দারা ঘরের সাধারণ বসার জায়গায় বসেই পাখি দেখতে পারেন। পরে বাসিন্দাদের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট দক্ষতা, চলাফেরা ও সামগ্রিক সুস্থতার বিষয়ে তাদের নিজেদের বক্তব্য এবং কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের মতামত নেয়া হয়।

গবেষকরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পান। এক মাস পর দেখা যায়, বাসিন্দাদের সুস্থতার অনুভূতি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাদের বয়স বা কী মাত্রার পরিচর্যা প্রয়োজন, এর চেয়ে পাখি দেখার অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালস জানান, পাখি দেখার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিন্তাভাবনা ও প্রতিক্রিয়া জানানোর দক্ষতায়ও উন্নতি দেখা যায়। তারা কথোপকথনে আরো সহজে অংশ নিতে পারছিলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন এবং আগে দেখা পাখি মনে রাখতে ও চিনতে পারছিলেন। তাদের মধ্যে সতর্কতা ও মনোযোগের লক্ষণও বেশি দেখা গিয়েছিল।

আবাসনকেন্দ্রের কর্মীরাই প্রথম এই পরিবর্তন লক্ষ করেন। যাদের মুখে কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসি দেখা যায়নি, পাখি দেখতে দেখতে তাদের মুখেও হাসি ফুটতে শুরু করে।

কালসের মতে, স্মৃতি ও মনোযোগের কিছু উন্নতি মাত্র তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই চোখে পড়তে পারে।

এই গবেষণার ফলাফলের পর জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলের চার শতাধিক নার্সিং হোমে পাখির খাবার দেয়ার ব্যবস্থা ও পাখি দেখার জায়গা তৈরিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

ডিমেনশিয়া ও স্ট্রোকের পরও সহায়ক হতে পারে

পাখি দেখার মাধ্যমে বয়স্কদের আনন্দ দেয়া বা তাদের মনোযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ‘বার্ড টেলস’ নামে একটি থেরাপি কর্মসূচি চালু হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় আবাসনকেন্দ্রগুলোয় পাখির খাবার দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পাখির আদলে তৈরি খেলনা দেয়া হয়, যেগুলো থেকে পাখির মতো ডাক শোনা যায়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন পাখি সম্পর্কে জানানো হয় এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পাখি সম্পর্কে শেখা তাদের চিন্তাভাবনায় উদ্দীপনা জোগায়। একইসঙ্গে এটি তাদের অতীতের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতেও সাহায্য করে।

স্ট্রোকের পর যাদের কথা বলতে বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও পাখি দেখার এমন উদ্যোগ কাজে লাগানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মন্টানার একটি কর্মসূচিতে পেঁচা দেখা দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রম এখন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের ডাক শনাক্ত করার মতো কাজেও বিস্তৃত হয়েছে।

তবে এসব ফলাফলকে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই রকম ধরে নেয়া যাবে না। পাখি দেখা ডিমেনশিয়া বা স্ট্রোকের চিকিৎসার বিকল্প নয়। বরং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পাশাপাশি এটি আনন্দ, মনোযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর একটি সহায়ক উপায় হতে পারে।

পাখির প্রতি কৌতূহল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

পাখি দেখার সময় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বিষয় ঘটে। চারপাশের পরিবেশে মনোযোগ দিতে হয়, পাখির রং ও আকৃতি লক্ষ করতে হয়, তাদের ডাক শুনতে হয়, আচরণ বোঝার চেষ্টা করতে হয়। কখনো পরিচিত পাখি দেখা যায়, কখনো আবার নতুন কোনো পাখি দেখে তার পরিচয় জানার কৌতূহল তৈরি হয়।

এসবের পাশাপাশি অন্য কারো সঙ্গে পাখি দেখলে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়ার সুযোগও তৈরি হয়। ফলে মনোযোগ, আবেগ, শিক্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগ—একটি সহজ কাজের মধ্য দিয়ে সবকিছুর সমন্বয় ঘটে।

অধ্যাপক কালসের মতে, বার্ডওয়াচিংয়ের ইতিবাচক প্রভাব শুধু পাখির কারণে নয়। এর সঙ্গে প্রকৃতির সংযোগ, মনোযোগ, আবেগ, ব্যক্তিগত অর্থ খুঁজে পাওয়া, অন্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়া এবং সক্রিয়ভাবে সময় কাটানোর বিষয়গুলোও জড়িত।

যুক্তরাজ্যে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিচর্যাকারীদের ওপর করা একটি জরিপেও দেখা গেছে, প্রকৃতিতে হাঁটার পর বাইরে সময় কাটানোর জনপ্রিয় উপায়গুলোর মধ্যে পাখি ও অন্যান্য বন্য প্রাণী দেখা অন্যতম। তবে এসব মানুষের জন্য বাইরে যাতায়াত ও উপযুক্ত জায়গায় পৌঁছানোর সমস্যা বড় বাধা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাড়ির জানালা দিয়ে পাখি দেখার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষক উইংয়ের মতে, পাখি দেখার অন্যতম বড় উপকার হলো এটি মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে রাখে। বয়স বাড়লেও নতুন কিছু জানার আগ্রহ ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের মাঝামাঝি বয়স থেকে শুরু করে পরবর্তী সময় পর্যন্ত নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত থাকা আমাদের জন্য উপকারী হতে পারে।

কৌতূহল পরবর্তী বয়সে চিন্তা ও স্মৃতিসংশ্লিষ্ট দক্ষতা ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এর সম্ভাব্য একটি কারণ হলো, কৌতূহল মস্তিষ্কে নরঅ্যাড্রেনালিন ও ডোপামিনের মতো রাসায়নিকের কার্যক্রমকে সক্রিয় করতে পারে। এগুলো মনোযোগ ও শেখার মতো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে কালসের একটি পর্যবেক্ষণ এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তার মতে, মানুষ প্রকৃতিরই অংশ। কিন্তু জীবনের ব্যস্ততায় অনেক সময় আমরা সেই সংযোগ হারিয়ে ফেলি। পাখি দেখার মতো সহজ একটি অভ্যাস প্রকৃতির সঙ্গে সেই সম্পর্ক আবার গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

তাই পাখি দেখতে হলে বিশেষ কোনো সরঞ্জাম বা অনেক সময়ের প্রয়োজন নেই। বাড়ির বারান্দায়, জানালার পাশে কিংবা কাছের কোনো গাছের দিকে একটু মনোযোগ দিলেই শুরু করা যায়। পাখির পরিচয় জানার চেষ্টা করতে পারেন, তাদের ডাক শুনতে পারেন, কিংবা শুধু কিছুক্ষণ তাদের চলাফেরা দেখতে পারেন।

বিবিসি অবলম্বনে

আরও