বেশ কয়েকদিন আগে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছিল, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার (আল্ট্রা প্রসেসড ফুড বা ইউপিএফ) মস্তিষ্কের গঠনকেই বদলে দেয়। এবার ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্ট্রিল নিউরোলোজিকাল ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে, মস্তিষ্কের এ গঠন পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় অতিরিক্ত ভোজন বা মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়; যা স্থূলতা, দৈহিক প্রদাহ এবং ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো জীবনাচরণ সংশ্লিষ্ট মারাত্মক অসংক্রামক ব্যাধির কারণ হয়ে উঠতে পারে। খবর সায়েন্স ডেইলি।
আধুনিক খাদ্যাভ্যাস কীভাবে মানবমস্তিষ্ককে প্রভাবিত করছে তা অনুসন্ধানের জন্যই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এজন্য যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার ইউকে বায়োব্যাংক থেকে ৩০ হাজার ব্রিটিশ নাগরিকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এ ৩০ হাজার মানুষের মস্তিষ্কে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া ইমেজ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখতে পান, যাদের মধ্যে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি গ্রহণের সঙ্গে মস্তিষ্কের গঠন বদলে যাওয়ার একটি দৃশ্যমান সম্পর্ক রয়েছে। গঠনের এ পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আচরণগত কিছু পরিবর্তনও দেখা যায়। অতিভোজন বা বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়া এ পরিবর্তনেরই অংশ।
গবেষণা পত্রের অন্যতম লেখক এক হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আর্সেন কানইয়ামিবওয়া বলেন, ‘আমাদের অনুসন্ধান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে মস্তিষ্কের গঠন বদলে যায়। এ পরিবর্তনের ফলে অতিভোজনের মতো আচরণগত প্রবণতা দেখা দেয়। তবে আমাদের এ গবেষণা থেকে বিষয়টির কার্যকারণ সম্পর্ককে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে বিষয়টিকে শুধু প্রদাহ বা স্থূলতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের রাসায়নিক কিছু উপাদান ও অ্যাডিটিভও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরো দীর্ঘমেয়াদী ও পরীক্ষাভিত্তিক প্রমাণ প্রয়োজন।’
তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার মানেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিষয়টি তা নয়। অনেক প্রক্রিয়াজাত খাদ্য; বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ উপাদানে তৈরি খাবার সুষম খাদ্যাভ্যাসের উপকারী অংশ হতে পারে। কিন্তু অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার, অর্থাৎ যেগুলোয় কৃত্রিম অ্যাডিটিভ ও রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত উপাদান যুক্ত করা হয়, সেগুলো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
এ বিষয়ে গবেষকদের বক্তব্য হলো ‘হিমায়িত সবজির মতো প্রক্রিয়াজাত উদ্ভিজ্জ খাবার খাওয়া যেতে পারে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের আরেকটি ইতিবাচক উদাহরণ হলো পাস্তুরিত দুধ। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত মাংসপণ্যের মতো রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত উপাদান ও অ্যাডিটিভ-যুক্ত খাবার সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।’
আর্সেন কানইয়ামিবওয়া মনে করছেন, আমলে নেয়া হলে গবেষণাটির ফলাফল ব্যক্তি পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমানো এবং খাদ্য উৎপাদন খাতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো জোরদার করার পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’