নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য

মাঝবয়সীদের স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কৃত্রিম চিনি

ব্রাজিলের ১২ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দার গড়ে আট বছরের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, এ সময় কৃত্রিম চিনি গ্রহণকারী মাঝবয়সী ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের সক্ষমতার গড় অবনতি হয়েছে অন্যদের তুলনায় ৬২ শতাংশ বেশি হারে।

ওজন কমানোর জন্য খাবারে সাধারণ চিনির পরিবর্তে নিম্ন বা শূন্য ক্যালরিযুক্ত কৃত্রিম সুইটেনার (চিনি) গ্রহণ করে থাকেন অনেকেই। আবার ‘চিনিমুক্ত’ হিসেবে দাবিকৃত অনেক খাদ্যেই যোগ করা থাকে কৃত্রিম চিনি। ব্রাজিলের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে, এগুলো ব্যবহারের ফলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তোলে কৃত্রিম চিনি খাওয়ার অভ্যাস। বিশেষ করে মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি।

ব্রাজিলের ১২ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দার গড়ে আট বছরের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, এ সময় কৃত্রিম চিনি গ্রহণকারী মাঝবয়সী ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের সক্ষমতার গড় অবনতি হয়েছে অন্যদের তুলনায় ৬২ শতাংশ বেশি হারে।

বিশেষত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মধ্যবয়সীদের স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কৃত্রিম চিনির প্রভাব আরো মারাত্মক বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে গবেষণার আওতাধীন ৬০ বছর বা এর বেশি বয়সীদের মধ্যে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। গবেষকরা বলছেন, মধ্যবয়সে ওজন কমানোর জন্য অনেকেই কৃত্রিম চিনির ব্যবহার করে থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় সাত ধরনের কৃত্রিম চিনির ব্যবহার নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। এগুলো হলো অ্যাসপারটেম, স্যাকেরিন, অ্যাসেসালফেম কে, এরিথ্রিটল, সরবিটল, জাইলিটল ও ট্যাগাটোজ। বৃদ্ধাবস্থায় স্মৃতি, বাকশক্তি ও মস্তিষ্কের সামগ্রিক সক্ষমতার দ্রুত অবনতির সঙ্গে মাঝবয়সে এগুলোর দৈনিক ব্যবহারের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পরিচালিত গবেষণাটির ফলাফল নিবন্ধ আকারে প্রকাশ হয়েছে বুধবার (৩ আগস্ট)। এর শিরোনাম ‘অ্যাসোসিয়েশন বিটুইন কনজাম্পশন অব লো অ্যান্ড নো ক্যালরি আটিফিসিয়াল সুইটেনার্স অ্যান্ড কগনিটিভ ডিক্লাইন’।

তবে এ গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন গবেষকরা। তাদের ভাষ্যমতে, খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত তথ্যগুলো গবেষণার আওতাধীনরা নিজেরাই দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি সঠিক না-ও হতে পারে। এর আগে ব্রাজিলীয় গবেষকরা মস্তিষ্কের সক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের সংযোগ খুঁজে পেয়েছিলেন।

গবেষণার সহলেখক ও সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জেরিয়াট্রিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্লদিয়া কিমিয়ে সুয়েমোতো ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালকে (ইউপিআই) বলেন, ’১২ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে আট বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে আমরা শক্ত প্রমাণ পেয়েছি যে কৃত্রিম চিনিতে অবস্থিত যৌগগুলো নিরীহ নাও হতে পারে— বিশেষত যখন তা মধ্যবয়স থেকে নিয়মিত খাওয়া হয়।’

তিনি আরো বলেন, এর আগে কৃত্রিম চিনির সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও বিষণ্নতার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের সক্ষমতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে বড় কোনো গবেষণা হয়নি। এখানে মূল শিক্ষা হলো—শুরুতেই খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কারণ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের সক্ষমতার অবনতি ঘটানোর ক্ষেত্রে ট্যাগাটোজ জাতীয় কৃত্রিম চিনির প্রভাব অন্যগুলোর তুলনায় কম।

আরও