বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই পানীয়—চা ও কফি। ব্রিটিশদের মতো আমাদের আড্ডাতেও এ দুই পানীয়র আধিপত্য। তবে আড্ডা হোক বা কাজের জায়গা ‘চা নাকি কফি’ এ নিয়েও মানুষের তর্কের শেষ নেই। কেউ হয়তো কফি খান মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে, আবার কেউ চান চায়ের সেই চিরচেনা স্বস্তি। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চা খেলে যেমন হাজারটা উপকার মেলে, কফি খেলেও তাই। আবার রয়েছে কিছু পার্থক্য, কিছু অপকারিতাও!
মনোযোগ ও কর্মোদ্দীপনা
কফিতে থাকা ক্যাফেইনের পরিমাণ সাধারণত চায়ের চেয়ে বেশি। এক কাপ কফি পান করার পরপরই মস্তিস্ক দ্রুত সজাগ হয়ে ওঠে, তাৎক্ষণিক কর্মক্ষমতা ফিরে পাওয়া যায়। তবে কফির এ উদ্দীপনা অনেক সময় ক্ষণস্থায়ী হয়।
অন্যদিকে, চায়ে ক্যাফেইনের পাশাপাশি রয়েছে এল-থিয়ানিন নামক একটি বিশেষ অ্যামাইনো অ্যাসিড। এটি ক্যাফেইনের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করে। ফলে চা পান করলে কফির মতো হঠাৎ উত্তেজিত না হয়ে মস্তিস্ক স্থির থাকে। ফলে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। যারা কাজের মাঝে শান্ত থেকে মনঃসংযোগ করতে চান, তাদের জন্য চা হতে পারে আদর্শ পানীয়।
ঘুমের ওপর প্রভাব
ঘুম বিশেষজ্ঞ ম্যাট ওয়াকারের মতে, ক্যাফেইনের প্রভাব আমাদের শরীরে দীর্ঘসময় অবস্থান করে। দুপুরে কফি পান করলে রাতে তা ঘুমের গভীরে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিপরীতে চা পান করলে রাতে ঘুমের ওপর প্রভাব কম পড়ে। তাই যাদের অনিদ্রার সমস্যা আছে, তাদের জন্য বিকালের পর কফি এড়িয়ে চা পানেই স্বস্তি মিলবে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ উপশম
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্ল্যাক টি বা লিকার চা দৈনন্দিন জীবনের মানসিক চাপ থেকে শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। গ্রিন টি-তে থাকা এল-থিয়ানিন দুশ্চিন্তা বা অ্যাংজাইটি কমাতে সাহায্য করে। বিপরীতে, অতিরিক্ত কফি পান করলে অনেক সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা অকারণে দুশ্চিন্তা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই অস্থিরতার সময় কফির চেয়ে 'ডিক্যাফ' (ক্যাফিনমুক্ত) বা হালকা চা পানেই মন শান্ত হয়।
দাঁতের শত্রু কে?
চা ও কফি উভয়ই দাঁতে দাগ ফেলতে পারে। তবে ডেন্টাল হাইজিনিস্টদের মতে, চায়ের দাগ কফির চেয়েও বেশি জেদি হয়। তবে দুধ মিশিয়ে পান করলে বা পানের পর পানি দিয়ে কুলকুচি করলে এই দাগের মাত্রা অনেক কমানো সম্ভব।
রোগ প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য
উভয় পানীয়তেই রয়েছে পলিফেনল, যা শরীরের ভেতরকার প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। চা ও কফি—দুটোই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- ব্ল্যাক টি বনাম গ্রিন টি: দুটিই একই গাছ থেকে আসলেও এদের প্রক্রিয়াজাতকরণ ভিন্ন। গ্রিন টি-তে ক্যাটচিন নামক উপাদান থাকে যা হার্টের জন্য ভালো। তবে ব্ল্যাক টি-তেও ভিন্ন ধরণের উপকারী উপাদান থাকে।
- তবে মনে রাখা প্রয়োজন, দিনে ৪ কাপের বেশি কফি খেলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।