গ্রামাঞ্চলে খুব সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই এমন অনেক পদ তৈরি হয়, যার স্বাদ দীর্ঘদিন মনে থাকে। শাকের পিঠালি তেমনই একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পদ। মূলা শাক, পালং শাক কিংবা সর্ষে শাকের সঙ্গে চালের গুঁড়ো বা আটার মিশ্রণ দিয়ে রান্না করা পদটি স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনি তৈরি করাও বেশ সহজ। গরম ভাতের সঙ্গে শাকের পিঠালি হতে পারে সাদামাটা অথচ তৃপ্তিদায়ক একটি খাবার।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
মূলা শাক বা পছন্দের যেকোনো শাক ১ আঁটি, চালের গুঁড়ো ২-৩ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো আধা চা চামচ, স্বাদমতো লবণ, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, পরিমাণমতো পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি। ফোড়নের জন্য লাগবে শুকনা মরিচ এবং পাঁচফোড়ন বা জিরা। রান্নার জন্য প্রয়োজনমতো তেল নিতে হবে। এক কাপ কোড়ানো নারকেল, তবে এটি ঐচ্ছিক।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে শাক ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে কুচি করে নিন। একটি পাত্রে চালের গুঁড়ো সামান্য পানি দিয়ে পাতলা করে গোলা তৈরি করুন। গোলায় যেন কোনো দলা না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এবার কড়াইয়ে পরিমাণমতো তেল গরম করে শুকনা মরিচ ও পাঁচফোড়ন বা জিরা দিয়ে ফোড়ন দিন। ফোড়নের গন্ধ উঠলে পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি দিয়ে হালকা ভেজে নিন। এরপর কাঁচা মরিচ ও কুচি করা শাক দিয়ে দিন। সঙ্গে হলুদ ও লবণ মিশিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে শাক নরম হতে দিন।
শাক থেকে পানি বের হতে শুরু করলে প্রয়োজনমতো আরো সামান্য পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। শাক ভালোভাবে সেদ্ধ হলে ধীরে ধীরে চালের গুঁড়োর গোলা ঢালতে থাকুন আর এক হাতে নেড়ে যেতে থাকুন। এতে চালের গুঁড়ো জমাট বাঁধবে না এবং শাকের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যাবে।
সহজলভ্য হলে কোড়ানো নারকেল যোগ করতে পারেন। নারকেল মূলা শাকের পরিচিত গন্ধ দূর করে রান্নায় অন্যরকম স্বাদ ও সুবাস যোগ করে। এবার আঁচ কমিয়ে ঢেকে রাখুন। কিছুক্ষণ পরপর নেড়ে রান্না করলে মিশ্রণটি ধীরে ধীরে ঘন হয়ে আসবে। ঘন ও মসৃণ হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন শাকের পিঠালি।