নোলানের সিনেমা নিয়ে বিতর্ক

এমিলি উইলসনের কাছ থেকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন জয়েস ক্যারল ওটস

২০১৭ সালে হোমারের ‘দি ওডিসি’র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেছিলেন এমিলি উইলসন। প্রকাশের পর অনুবাদটি বেশ আলোচিত হয়। বিশ্বে হোমারের জনপ্রিয় অনুবাদগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম

ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমা নিয়ে মুক্তির আগে থেকেই হইচই হয়। মুক্তির পর তো কথাই নেই। এবারো ব্যতিক্রম হয়নি। তাছাড়া তিনি সিনেমা নির্মাণ করেছেন হোমারের ওডিসি থেকে। ফলে আরো বেশি আলোচিত হওয়াই স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে জুটেছে সমালোচনাও। চরিত্রদের সংলাপ, পোশাক, কাস্টিং নিয়েও সমালোচিত হয়েছেন। এসব সিনেমা মুক্তির আগের কথা। মুক্তির পর সমালোচনা করেছেন ওডিসির আধুনিক অনুবাদক এমিলি উইলসন। একেবারে কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। তবে সেই সমালোচনার জবাবে নোলানের পক্ষ নিয়েছেন মার্কিন লেখক জয়েস ক্যারল ওটস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে ওটস লেখেন, ‘হোমারের উপস্থাপন নিয়ে ব্যাখ্যা নিয়ে সহকর্মিসুলভ ভিন্নমত প্রকাশের বদলে, নোলানের চলচ্চিত্রের কারণে উপকৃত হওয়া এই ব্যক্তি (এমিলি) এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা ভিন্নমতের মানুষকে আক্রমণ করা ডানপন্থী আমেরিকানরা ব্যবহার করে। মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) সমর্থকদের ভাষার সঙ্গে মিলে যায়।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বিশেষ করে একজন অনুবাদকের কাছ থেকে—যিনি একটি মূল পাঠ্যের প্রতি দায়বদ্ধ এবং সেই পাঠ্যের সেবক হিসেবে কাজ করেন—আরও কিছুটা চিন্তাশীল ও অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। বিশেষত যখন তারাও সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করছেন, যেমনটি তিনি নিজেও দাবি করবেন।’

ওডিসির একমাত্র নারী অনুবাদক এমিলি উইলসন। ছবি: ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া

২০১৭ সালে হোমারের ‘দি ওডিসি’র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেছিলেন এমিলি উইলসন। প্রকাশের পর অনুবাদটি বেশ আলোচিত হয়। বিশ্বে হোমারের জনপ্রিয় অনুবাদগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। সম্প্রতি লন্ডন রিভিউ অব বুকস-এ প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় তিনি নোলানের চলচ্চিত্রের তীব্র সমালোচনা করেন। এমিলির ভাষায়, সিনেমাটিতে ‘মনস্তাত্ত্বিক, আবেগীয়, রাজনৈতিক ও নৈতিক গভীরতার অভাব রয়েছে’ এবং এটি ‘বিশ্বাসযোগ্যভাবে কোনো বক্তব্যই তুলে ধরতে পারেনি।’

উইলসন তার পর্যালোচনায় লিখেছেন, ‘হোমারের এই বিষয়গুলোর প্রতি নোলানের আগ্রহ তাকে নতুন সৃজনশীল উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আরও বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র নির্মাণে সাহায্য করবে এমনটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু ‘দি ওডিসি’তে তার পরিচিত আড়ম্বর আর উপরিতলে সীমাবদ্ধ থাকার প্রবণতাই দেখা গেছে। চলচ্চিত্রটির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। চরিত্রগুলোও যথেষ্ট বিকশিত নয়। ফলে বড় পরিসর ও মাত্রার যে প্রতিশ্রুতি এটি দিয়েছিল, তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিস্ফোরণ আর দৈত্যদের উপস্থাপনায় ছবিটি নিঃসন্দেহে সফল।’

জয়েস ক্যারল ওটস। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

এখানেই শেষ নয়। ক্রিস্টোফার নোলানের চিত্রনাট্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন তিনি। লিখেছেন, ‘চিত্রনাট্য ভয়াবহ দুর্বল। কোনো চরিত্রের কাজ বা সংলাপের পেছনে বিশ্বাসযোগ্য প্রেরণা নেই। সিনেমায় কোনো যৌনদৃশ্য নেই, আর খাবারগুলোও দেখতে ভীষণ অরুচিকর।’

তিনি আরো বলেছেন, নোলানের উচিত ছিল একজন ভালো চিত্রনাট্যকার নেয়া।

মজার ব্যপার, এর আগে এমিলি উইলসনের অনুবাদের প্রশংসা করেছিলেন স্বয়ং ক্রিস্টোফার নোলান। এম্পায়ার ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, উইলসনের অনুবাদের প্রথম লাইন—Tell me about a complicated man—ম্যাট ডেমন অভিনীত ওডিসিউস চরিত্রটি নির্মাণের সময় তার জন্য পথনির্দেশক বা ‘নর্থ স্টার’ হিসেবে কাজ করেছে। সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে উইলসনের অনুবাদটির ওপর নোলান নির্ভর করেছেন এমনটাই বলা হয়।

এদিকে আরো একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়। এমিলি উইলসনের অনুবাদটি নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে করা। তিনি মূল গ্রিক টেক্সটের প্রতি বিশ্বস্ত থাকলেও শব্দচয়ন ও বাক্যগঠনে তার নারীবাদী দৃষ্টিকোণ স্পষ্ট।

আরও