শীতকালে উঠানে বা রান্নাঘরে স্তূপ করে রাখা মিষ্টি আলু ছিল এক সময় পরিচিত দৃশ্য। চালের উচ্চ দাম বা নারকেলের অভাব থাকায় মিষ্টি আলু ছিল রসপুলি পিঠার সহজলভ্য উপকরণ। সেদ্ধ মিষ্টি আলু চটকে তার সঙ্গে চালের গুঁড়া মিশিয়ে বানানো হতো পুলির খোলস। ভেতরে থাকত গুড় আর নারকেলের মোলায়েম পুর। এরপর সেই পুলি ছেড়ে দেয়া হতো ফুটন্ত গুড়ের রসে।
মিষ্টি আলুর রস পুলির বিশেষত্ব তার স্বাদে। চালের পুলির তুলনায় এটি খানিকটা নরম, হালকা মিষ্টি, আর রসের সঙ্গে মিশে যায় আলুর পরিচিত ঘ্রাণ। নিচে রইল মুখরোচক এ পিঠার রেসিপি
প্রয়োজনীয় উপকরণ
পুলির জন্য: মিষ্টি আলু ২টি মাঝারি (সেদ্ধ করা), চালের গুঁড়া ১ কাপ, ময়দা ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক, পুলি নরম রাখতে), লবণ এক চিমটি
পুরের জন্য: নারকেল কোরা ১ কাপ, গুড় ১ কাপ, এলাচ একটি
রসের জন্য: গুড় ১ কাপ, দুধ এক লিটার, তেজপাতা ১টি, এলাচ ২-৩টি
প্রস্তুত প্রণালী:
- আলু সেদ্ধ করে ভালোভাবে চটকে নিতে হবে। তাতে মেশাতে হবে চালের গুঁড়া, ময়দা ও লবণ। অল্প অল্প করে পানি দিয়ে বানাতে হবে ডো। মিশ্রণটি হবে রুটির খামিরের চেয়েও খানিকটা নরম। এরপর খামিরকে ঢেকে রেখে পুর তৈরির প্রস্তুতি।
- পুর তৈরি করতে কড়াইয়ে নারকেল ও গুড় একসাথে দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালোভাবে নাড়তে হবে। গুড় গলে নারকেল শুকনো হলে নামিয়ে এলাচ গুঁড়া ছড়িয়ে দিলেই পুর প্রস্তুত।
- এ পর্যায়ে পুলি বানানোর পালা। ডো থেকে ছোট বল বা লেচি কেটে নিতে হবে। হাতের সাহায্যে বলগুলোকে বাটির আকৃতি দিয়ে এর ভেতরে দিতে হবে নারকেল-গুড়ের পুর। চেপে ভালোভাবে মুখ বন্ধ করে দিলেই লম্বাটে পুলি পিঠার আকার চলে আসবে।
- পুলি তৈরি শেষ হলে রস তৈরির পালা। আর মচমচে ভাজা পিঠা খেতে চাইলে পুলিগুলোকে গরম তেলে বাদামী করে ভেজে নিলেই গরম গরম পিঠা প্রস্তুত।
- কিন্তু রসে ডুবানো রসালো পিঠা খেতে চাইলে আরো এক ধাপ রয়েছে। হাঁড়িতে দুধ ও গুড় জ্বাল দিতে হতে। গুড় গলে ফুটে উঠলে তেজপাতা ও এলাচ দিয়ে মাঝারি আঁচে রাখতে হবে। রস খুব ঘন হলে পুলি শক্ত হয়ে যাবে
- এবার ফুটন্ত রসে আস্তে আস্তে ছাড়তে হবে পুলি। ঢেকে মাঝারি আঁচে ১২-১৫ মিনিট রান্না করলে পুলি ফুলে উঠবে। উপরে বাদাম কুঁচি ছড়িয়ে পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত রসে ভরা মিঠা আলুর পুলি পিঠা।