ত্বকের যত্নে পান করতে পারেন ‘‌ভাতের মাড়’

চালের সেরামাইড ত্বক থেকে পানি বা আর্দ্রতা বাষ্পীভবন রোধ করে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। যার ফলে ত্বক থাকে ভেতর থেকে সতেজ, আর্দ্র ও সুরক্ষিত

এশীয় সংস্কৃতিতে শতাব্দী ধরে রূপচর্চার উপাদান হিসেবে ভাতের মাড় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভেজানো চাল কিংবা সেদ্ধ করার পর যে তরলটুকু পাওয়া যায় তা ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যামিনো এসিডে সমৃদ্ধ। ত্বক ও চুলের যত্নে শুধু বাহ্যিক ব্যবহারই নয়, পরিমিত মাত্রায় এ পানি পানের রয়েছে বিস্ময়কর কিছু গুণ।

ভাতের মাড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক স্টার্চ ও ‘সেরামাইড’। এটি ত্বকের ওপরের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় বা ব্যারিয়ারকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষণা অনুযায়ী, চালের সেরামাইড ত্বক থেকে পানি বা আর্দ্রতা বাষ্পীভবন রোধ করে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। যার ফলে ত্বক থাকে ভেতর থেকে সতেজ, আর্দ্র ও সুরক্ষিত।

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফেরুলিক এসিড এবং গামা-ওরাইজানল-এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের কোষের ক্ষয়রোধ করতে সক্ষম। বিভিন্ন চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, ফেরুলিক এসিড ফ্রি-রেডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে অকালে চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা বলিরেখা পড়া দূর করে। নিয়মিত ভাতের মাড় পান করলে তা ত্বককে ভেতর থেকে বয়সের ছাপ পড়া থেকে রক্ষা করে।

ত্বকে মেলানিনের অতিরিক্ত উপাদানের কারণে অনেক সময় কালচে ছোপ বা অসম রঙের সৃষ্টি হয়। মাড়ে থাকা উপাদানগুলো ত্বক গঠনকারী রঞ্জক পদার্থ বা মেলানিনের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ত্বক দেখায় নিখুঁত ও প্রাণবন্ত।

ব্রণের সমস্যা, ত্বকের লালচে ভাব এবং সংবেদনশীলতার পেছনে অন্যতম কারণ প্রদাহ। ভাতের মাড়ে থাকা ‘অ্যালানটোইন’ এবং প্রদাহবিরোধী উপাদান ত্বকের জ্বলুনি প্রশমিত করতে দারুণ কাজ করে। পরিমিত পানে এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমিয়ে বাইরের ত্বককে শান্ত ও মসৃণ রাখে।

ত্বকের টানটান ভাব ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে সবচেয়ে জরুরি উপাদান কোলাজেন। মাড়ের উপাদানগুলো কোলাজেন ক্ষয় রোধ করে নতুন কোলাজেন তৈরিতে উদ্দীপনা জোগায়। চালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষে ‘ফাইবারোব্লাস্ট’ বা কোষ পুনরুদ্ধারের কাজকে ত্বরান্বিত করে, যা ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকর।

কিন্তু সবার জন্য কি উপযোগী?

  • উপকারী হলেও ভাতের মাড় পানের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
  • চালে নিম্ন মাত্রার আর্সেনিক উপস্থিত থাকার ঝুঁকি থাকে, যা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
  • মাড়ে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ থাকে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে।
  • যাদের সহজে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হয়, তাদের জন্য স্টার্চযুক্ত এ পানীয় অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
  • অনেকেই বেশি উপকারের আশায় মাড় কয়েকদিন রেখে পঁচিয়ে পান করেন। তবে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ না করলে এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর তীব্র ঝুঁকি থাকে।

এনডিটিভি অবলম্বনে

আরও