শুধু পূজামন্ডপে নয় বাঙালির মনেও বাজতে শুরু করেছে ঢাকের বাজনা। দুর্গাপূজা মানেই সাজের উৎসব। কিন্তু এবারের পূজা পড়েছে প্রচণ্ড গরমের দিনে। তাই সাজপোশাকে থাকতে হবে আভিজাত্য, আবার আরামও যেন হাতছাড়া না হয়। শতভাগ বাঙালিয়ানায় স্বস্তির সাজে প্রতিমা দর্শনকে উৎসবমুখর করতে থাকল কিছু টিপস।
সালোয়ার কামিজে আরাম ও স্টাইল
আশ্বিনের এই ভ্যাপসা গরম আর রোদে পূজার দিনের সকালটা শুরু করতে পারেন সালোয়ার কামিজ দিয়ে। কটন, লন বা লিনেন কাপড়ে ফ্লোই কাটের কামিজ গরমে আরামদায়ক। গলায় হালকা এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড ব্লক প্রিন্ট বা প্যাস্টেল শেডে ফ্লোরাল ডিজাইন এই পূজায় বেশ ট্রেন্ডি। চাইলে অনাড়ম্বর চুড়িদারের বদলে পালাজো বা সিগারেট প্যান্ট পরে নেয়া যায়—যা দেখতে স্টাইলিশ আবার হাঁটাচলায়ও সুবিধাজনক।
হালকা কাপড়ের পোশাক
গরমে ভারী সিল্ক বা মোটা তাঁতের শাড়ি পরে সারাদিন কাটানো সহজ নয়। তাই বেছে নিতে পারেন মসলিন, সুতির তাঁত, খাঁটি লিনেন বা হালকা জামদানি। রঙের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল লাল, হলুদ, সাদা-লালের সঙ্গে প্যাস্টেল টোন যেমন মিন্ট, পীচ বা ল্যাভেন্ডারও বেশ মানাবে।
ব্লাউজ ও কাটিং-এ নতুনত্ব
চোকার নেক, ব্যাকলেস বা স্লিভলেস ব্লাউজ গরমে আরামদায়ক। চাইলে কটন বা হ্যান্ডলুম কাপড়ে ব্লাউজ করালে ঘাম কম হবে, আবার লুকও হবে আধুনিক। ফ্যাশনেবল কিন্তু আরামদায়ক কাটিং-ই হবে মূল ভরসা।
পুরুষদের পোশাকে আরাম
পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি বা কুর্তা হোক হালকা খাঁটি কটন, লিনেন বা হ্যান্ডলুমে। সাদা, অফ-হোয়াইট, আকাশি বা মাটি-রঙের টোন দিনের বেলায় ভালো মানায়। রাতের জন্য বেছে নিতে পারেন গাঢ় নেভি, বটল গ্রীন বা মেরুন। সঙ্গে ধুতি বা হালকা পাজামা থাকলে আরামের সঙ্গে স্টাইলও জমবে।
গয়নায় সাদামাটা আভিজাত্য
গরমে ভারী সোনার গয়না পরে থাকা কষ্টকর। তাই অল্প গয়না, হালকা সিলভার জুয়েলারি, টেরাকোটা বা অক্সিডাইজড অলঙ্কারই সবচেয়ে মানানসই। দিনের বেলায় ঝুমকা বা ছোট কানের দুল, হাতে পাতলা বালা—এতেই জমে উঠবে পূজোর সাজ।
মেকআপ ও চুলের স্টাইল
গরমে ভারী মেকআপ সহজেই ঘেমে নষ্ট হয়। তাই লাইট বেস, ন্যুড শেড লিপস্টিক বা হালকা লাল রঙই যথেষ্ট। চোখে পাতলা আইলাইনার, সামান্য কাজলই এনে দেবে পূর্ণতা। চুল খোলা রাখলে ঘাম জমবে, তাই খোপা বা বেণী সবচেয়ে আরামদায়ক। চাইলে খোপায় রজনীগন্ধার ফুল গুঁজে নিলে পূজার আবহ আরো উজ্জ্বল হবে।
পায়ে আরামের ছোঁয়া
হাই হিল বা ভারী স্যান্ডেলের বদলে ফ্ল্যাট, কোলাপুরি বা স্টাইলিশ জুতোই ভালো। এতে ভিড়ে হেঁটে বেড়ানো সহজ হবে।