একসময় স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রোটিন। কিন্তু এখন সে জায়গা দখল করতে চলেছে ফাইবার। বিশেষত জেন জি প্রজন্মের মধ্যে গাট হেলথ বা পেটের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি সচেতনতা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে নতুন ট্রেন্ড—‘ফাইবারম্যাক্সিং’।
টিকটকে এ ট্রেন্ডের মানে একটাই: খাবারে যতটা সম্ভব ফাইবার যোগ করা। আর এ আগ্রহকে পুঁজি করে বড় বড় খাদ্যপণ্য কোম্পানিগুলো বাজারে আনছে নতুন নতুন ফাইবার-সমৃদ্ধ পণ্য।
কেন হঠাৎ ফাইবার?
স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস বিশ্লেষক শেরি ফ্রে-এর মতে, গত কয়েক বছর ধরেই হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণরা উপলব্ধি করছে, ভালো ডাইজেশন মানেই শুধু পেট ভালো থাকা নয়, এর সঙ্গে ত্বকের স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতারও সরাসরি সম্পর্ক আছে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবারম্যাক্সিং ট্রেন্ড সম্পর্কে জানার পর ৫২ শতাংশ মানুষ এ ধরণের খাবার গ্রহণে আগ্রহী। আর ৪২ শতাংশ ক্রেতার ধারণা, ‘হাই ফাইবার’ লেখা খাবার স্বাভাবিকভাবেই বেশি স্বাস্থ্যকর।
এ চাহিদার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সুপারশপগুলোতেও। আরো বেশি ফাইবারসমৃদ্ধ স্ন্যাকস, বার, পানীয় ও সাপ্লিমেন্টে ভরে উঠছে তাক। অনলাইন গ্রোসারি প্ল্যাটফর্মগুলো জানাচ্ছে, গত এক বছরে ফাইবার-সংক্রান্ত সার্চ ও কেনাকাটা বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
ফাইবারই পরবর্তী প্রোটিন হবে বেল জানিয়েছেন পেপসিকোর সিইও। এরইমধ্যে প্রিবায়োটিক ফাইবারযুক্ত সফট ড্রিংক ও স্ন্যাকস বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। ম্যাকডোনাল্ডসের সিইওও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৬ সালে ফাইবার হতে পারে বড় ট্রেন্ড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামীতে চিপস, পাফড ক্র্যাকার, ডাল ও শিমজাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি স্ন্যাকসই হবে ফাইবার বিপ্লবের প্রধান ক্ষেত্র। তবে এখানে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্বাদ। মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে রাজি, কিন্তু স্বাদে আপস করতে চায় না। এ কারণে বড় সুপারশপ চেইনগুলো স্বাস্থ্য ও দামের ভারসাম্য রেখে তুলনামূলক সস্তা, ফাইবারসমৃদ্ধ পণ্য আনছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, দিনে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রায় ২৫ গ্রাম ও পুরুষদের ৩০–৩৫ গ্রাম ফাইবার প্রয়োজন। এ হিসেবে ফাইবারের দিকে ঝোঁক মোটের ওপর ইতিবাচক। তবে প্যাকেটজাত ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণে সতর্ক করেছে বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সবচেয়ে ভালো ফাইবার পাওয়া যায় শাকসবজি, ফল, ডাল ও পূর্ণ শস্য থেকে।
সিএনএন অবলম্বনে