চুলের যত্নে যুগের পর যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তেল। বহু প্রাচীন কাল থেকেই চুলের যত্নে তেলের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। প্রাচীনকালে ভারতীয় উপমহাদেশের মেয়েদের মধ্যে চুলের যত্নে নানা রকমের তেলের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। চুলের জন্য নারিকেল তেল, যয়তুন তেল, নিমের তেল, কালোজিরা তেল এমনকি সরিষার তেলও ব্যবহার করা হতো তখনও।
অন্যদিকে ভিটামিন এ, বি, সি ও ই সমৃদ্ধ ক্যমেলিয়া তেল ছিল জাপান ও চায়নার নারীদের ঘন কালো চুলের মূল রহস্য। জাপানে এই তেল প্রচলিত সুবাকি নামে আর চীনে একে বলা হয় টি-সিড অয়েল।
এছাড়া মরক্কোতে আরগান প্ল্যান্ট থেকে তৈরি তেল মরক্কোর নারীরা ব্যবহার করে আসছেন বহুকাল ধরে।
চুলের যত্নে কেবল নারকেল তেলই নয়, প্রচলিত আছে অনেক রকমের তেলের ব্যবহার। কিন্তু এসব তেলের কোনটার কী কাজ তা জানেন কী? চলুন জেনে নেয়া যাক-
নারিকেল তেল
চুলের যত্নে নারিকেল তেল অত্যন্ত কার্যকরী।কারণ এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড যা চুলকে গভীরভাবে ময়েশ্চারাইজড করে। এর ফলে চুলে সিল্কি, শাইনি ইফেক্ট দেখা যায়। হিট ও কেমিক্যালি ড্যামেজড চুলের যত্নে এটি অত্যন্ত মানানসই। এতে থাকা বিভিন্ন ফ্যাটি অ্যাসিড স্ক্যাল্প ইনফ্ল্যামেশন থেকেও সুরক্ষা দেয়।
আর্গান অয়েল
এই অয়েল এখন বেশ পপুলার। আর্গান গাছের বীজ থেকে এই তেল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এই তেলে আছে ভিটামিন ই সহ বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস ও অন্যান্য নারিশিং ইনগ্রেডিয়েন্টস, যা চুলে দেয় মাল্টিপল বেনিফিটস! এই তেল চুলের ফ্রিজিনেস, ড্রাইনেস কমায় এবং শাইনি করে তোলে।
রোজমেরি অয়েল
বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় আরেকটি হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট হলো রোজমেরি অয়েল। রোজমেরি অয়েল এতো জনপ্রিয় তার প্রধান কারণ হলো এটি হেয়ার গ্রোথকে স্টিমুলেট করতে পারে। রোজমেরিতে আছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপারটিজ, যা মাথার তালু ঠান্ডা রাখে এবং ইচিনেস কমায়। যেহেতু রোজমেরি হেয়ার গ্রোথ স্টিমুলেশনের জন্য বিখ্যাত, এটি অ্যালোপেশিয়ার মতো রোগীদেরকে রোজমেরি অয়েল সাজেস্ট করা হয়ে থাকে এবং রিসার্চে প্রমাণিত যে ৬ মাসের মধ্যে রোগী এর কার্যকারিতা দেখতে পায়। এই তেল মাথাব্যথাও দূর করতে কার্যকরী।
ক্যাস্টর অয়েল
এতে আছে ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্টস, যা চুলে শাইনি ইফেক্ট দিতে সাহায্য করে এবং চুলের ড্যামেজ রিপেয়ার করতেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। স্ক্যাল্পের জন্য ক্যাস্টর অয়েল খুবই উপকারী, কারণ এটি অ্যান্টি- ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ট্রিটমেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। চুলে ময়েশ্চার লক করতেও ক্যাস্টর অয়েল কাজ করে ম্যাজিকের মতো।
টি ট্রি অয়েল
এটি এক ধরনের অ্যাসেনশিয়াল অয়েল যা টি ট্রি প্ল্যান্ট থেকে এক্সট্র্যাক্ট করা হয়। এতে আছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রোপারটিজ, যা স্ক্যাল্পকে মাইক্রোবিয়াল ইনফেকশন আর ইচিনেস থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।
অ্যাভোকাডো অয়েল
এটি অন্যতম একটি লাইট ওয়েট অয়েল। এতে আছে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি এসিডস। এই অয়েল খুব সহজেই হেয়ার শ্যাফটকে ডিট্যাঙ্গেল করতে সাহায্য করে, এমনকি কার্লি চুলেও দারুণ কাজ করে। অর্থাৎ চুলের জট ছাড়িয়ে খুব সুন্দরভাবে ম্যানেজেবল রাখে। এটি চুলের আগা ফাটার সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে। যাদের চুল রাফ ও ড্যামেজড, একটুতেই জট বেঁধে যায়; তাদের জন্য দারুণ কার্যকরী।
এছাড়া আরো অনেক ধরনের তেল হেয়ার কেয়ারে ব্যবহার করা হয়, যেমন পাম্পকিন সিড অয়েল, আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল ইত্যাদি।বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চুলের ধরন অনুযায়ী চুলের জন্য তেল বাছাই করলে তা চুলকে সর্বোচ্চ পুষ্টি ও সৌন্দর্য্য প্রদান করে থাকে।