ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ফোর্দো ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ বলেছে, ‘শত্রু বাহিনীর বিমান হামলায় ফোর্দোর একটি অংশের ক্ষতি হয়েছে।‘

ফোর্দো ছাড়াও ইরানের নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনাতেও মার্কিন বাহিনী আঘাত হেনেছে। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে ছয়টি বাংকার বিধ্বংসী বোমা ও অন্যান্য স্থাপনাগুলোতে ৩০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার মধ্যরাতে রাতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ফোর্দো আর নেই।‘ এই হামলাকে তিনি ‘অবিশ্বাস্য সফলতা’ বলেও বর্ণনা করেছেন। খবর রয়টার্স।

ফোর্দো ছাড়াও ইরানের নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনাতেও মার্কিন বাহিনী আঘাত হেনেছে। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে ছয়টি বাংকার বিধ্বংসী বোমা ও অন্যান্য স্থাপনাগুলোতে ৩০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। রেয়ার বোমার বোঝাই মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান এই অভিযানে অংশ নেয় বলে একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে।

ট্রাম্প পরে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বলেন, ‘আমাদের দুর্দান্ত আমেরিকান যোদ্ধাদের অভিনন্দন। সব বিমান নিরাপদে ফিরছে।‘ একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা (ইরান) অবিলম্বে শান্তি চুক্তিতে আসুক, নয়তো আবারো হামলা হবে।‘

রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘এই রাতে আমরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছি। এখনই শান্তির জন্য এগিয়ে আসা উচিত ইরানের।‘

রাতে ওভাল অফিস থেকে জাতির উদ্দেশে দেয়া টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প জানান, তিনি আপাতত ইরানের অভ্যন্তরে আর কোনো হামলার পরিকল্পনা করছেন না। তবে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে ইরানকে বার্তা দিয়েছে যে, এই হামলাগুলোই তাদের একমাত্র পরিকল্পনা এবং ইরানে সরকার পতনের কোনো উদ্দেশ্য নেই যুক্তরাষ্ট্রের।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে দেশটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয়ের কাজ করেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হামলার পর ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনাটি একটি পর্বতের নিচে অবস্থিত, যা সুরক্ষিত গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ বলেছে, ‘শত্রু বাহিনীর বিমান হামলায় ফোর্দোর একটি অংশের ক্ষতি হয়েছে।‘

এই হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য অভিযোগ করেছেন—কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্প এই হামলা চালিয়েছেন, যা অসাংবিধানিক।

আরও