কানাডার ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে জয়লাভ করে আবারো ক্ষমতায় ফিরেছে লিবারেল পার্টি। সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাতে ভোট গণনা শেষে তারা পার্লামেন্টে সর্বাধিক আসনে এগিয়ে আছে। তবে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয়। খবর এপি।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির এই বিজয় এক কথায় বিস্ময়কর উত্থান। মাত্র কয়েক মাস আগেও যেখানে দলটি বড় ধরনের পরাজয়ের পথে ছিল সেখানে এখন তারা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
এই নাটকীয় ধারা পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে তার প্রকাশ্য হুমকি, দেশটিকে ৫১তম রাজ্য বানানোর কটাক্ষ এবং চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ—সবকিছু মিলে কানাডার অভ্যন্তরে এক নতুন জাতীয়তাবাদের ঢেউ তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত এনে দেয় লিবারেলদের জয়।
ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর অটোয়ায় দলের বিজয় অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে কার্নি তার ভাষণে স্পষ্ট বার্তা দেন— এখন সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। ‘আমরা এখন আমেরিকার বিশ্বাসঘাতকতার ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছি,’ বলেন কারনি। ‘কিন্তু এর শিক্ষা আমাদের মনে রাখতে হবে।‘
তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র যে পারস্পরিক সহায়তামূলক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, তা এখন কার্যত শেষ। ‘আমি মাসের পর মাস ধরে বলে আসছি—আমেরিকা আমাদের ভূমি, সম্পদ, পানি, এমনকি আমাদের দেশটাই চায়,’ তিনি বলেন।
‘এগুলো ফাঁকা হুমকি নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন যেন আমেরিকা আমাদের গ্রাস করতে পারে। কিন্তু সেটা কখনোই হবে না।‘
কার্নি তার বক্তৃতায় সতর্ক করেন, কানাডিয়ানদের এখন বাস্তবতা স্বীকার করে এগোতে হবে যে, বিশ্ব পাল্টে গেছে।
এদিকে, ৩৪৩ আসনের পার্লামেন্টে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে লিবারেলদের দরকার অন্তত ১৭২টি আসন। ভোটের সময় শেষেও কয়েকটি আসনে ফলাফল অনিশ্চিত থাকায় এখনো বলা যাচ্ছে না, তারা এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে কি না। নাকি ছোট কোনো দলের সমর্থন নিয়ে জোট সরকার গড়তে হবে।