বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও উপকূলীয় কৌশলগত এলাকা নিয়ন্ত্রণে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি ও সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরা। গতকাল ভোরে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর এডেনের বিমানবন্দরে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোয় বাব আল-মান্দেব ও উপকূলীয় শহর মোখার আশপাশের এলাকা পুনর্দখলে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। সেপ্টেম্বরে এসব কৌশলগত এলাকা হুথিরা দখল করেছিল। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের মধ্যেই এডেন বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটল।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কায়রো থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ অবতরণের কয়েক মিনিট আগে বিমানবন্দরটির রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটির অবতরণ বাতিল করে সেটিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় পাঠিয়ে দেয়। আরো হামলার আশঙ্কায় রানওয়েতে থাকা দুটি উড়োজাহাজও সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এ হামলার বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দরে হামলার মধ্যেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে তারা। জোটের দাবি, হুথিদের নিয়ন্ত্রিত সানা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছে। উৎক্ষেপণ মঞ্চের ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সেটি ধ্বংস করা হবে। তবে এ ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেয়নি তারা।
এদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এইমাত্র রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটিতে হামলার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।’
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে বাব আল-মান্দেবের ওপর অবস্থিত ধুবাব জেলাকে ঘিরেও লড়াই চলছে। সরকারি বাহিনী কৌশলগত পাহাড়ি এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে বলে দেশটির সামরিক ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে। হুথিরা দাবি করেছে, তারা সরকারি বাহিনীর হামলা প্রতিহত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে ইয়েমেনে নতুন করে তীব্র হওয়া এ লড়াই দেশটির দীর্ঘ ১২ বছরের যুদ্ধকে আরো জটিল করে তুলেছে। এ যুদ্ধ এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। সর্বশেষ দফার সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর ইরানের প্রভাব ও সীমান্তে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটা কমিয়ে আনলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা হয়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, ইরান হুথিদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করে। তবে হুথিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানও তাদের সহায়তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।