যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, নতুন করে উত্তেজনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে ইরান যুদ্ধ ছয় মাস অতিক্রম করেছে।

ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। গত এক মাস সময়ে যুদ্ধরত এ দুদেশের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা। এর ফলে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। খবর বিবিসি।

স্থানীয় সময় রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে অবস্থিত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে রকেট ও সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের প্রতিরোধ করতেই লারাক দ্বীপে হামলা চালানো হয়।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তাৎক্ষণিক হুমকি হয়ে দাঁড়ানো আইআরজিসির মাইন স্থাপনকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সীমিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

অন্যদিকে এ হামলাকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, লারাক দ্বীপে চালানো মার্কিন ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।

পরে আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাতে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি কিং হুসেইন ও আল-আজরাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি করে আইআরজিসি। কারিগরি অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা ও মার্কিন যুদ্ধবিমানের অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এ হামলাকে তারা ‘মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসনের’ জবাব হিসেবে দেখছে।

এরপরই জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, সোমবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও সেগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছে সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দেয়নি।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের অংশ হিসেবে ইরান যে মাইনগুলো স্থাপন করেছিল, সেগুলো বিস্ফোরিত বা অপসারণ করা হয়েছে। নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌযান মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে সেটি ধ্বংস করা হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এ দাবিকে ‘প্রচারমূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

এদিকে গত ২৪ আগস্ট ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এর লক্ষ্য তেহরানকে আরো বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরানের মিত্রদের ওপরও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো। এ পদক্ষেপকে আগের মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞারই ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে ইরান যুদ্ধ ছয় মাস অতিক্রম করেছে।

আরও