যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের হুমকি মোকাবেলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি আরেকটি সংঘাতে গড়ালে নতুন সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হবে। এ হুশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। খবর বিবিসি।
একই সময়ে এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরের নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সফরের পরিণাম সম্পর্কে আঞ্চলিক দেশগুলোকে ‘সতর্ক’ করেছে।
এদিকে আইআরজিসির তিনজন মহাকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগের কমান্ডারের ব্যাপারে তথ্যের জন্য দেড় কোটি ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যমকে গতকাল দেয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রসম্ভার সমৃদ্ধ করা অব্যাহত রাখবে এবং ‘যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন অস্ত্র ব্যবহার শুরু করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা ওই কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘ইরান তার প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ও গতিবিধি সম্পর্কে অজ্ঞ নয়, তারাও পর্যবেক্ষণ করছে।’
গত কয়েক দিনে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তারা সংঘাতের সীমানা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তারা আরো দাবি করেছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংঘাতের সময় তারা প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চলমান থাকায় এখনও কার্যত অচল হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ফলে জ্বালানি আমদানির বিকল্প রুট হিসেবে সিরিয়ার একটি বন্দর থেকে ইরাক জ্বালানি স্থানান্তর শুরু করেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে। ফলে দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজে বের করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে এবং জ্বালানির দামও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ আইআরজিসির মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিনজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ব্যাপারে তথ্যের জন্য দেড় কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির গতকালের এ ঘোষণায় উল্লেখ করা নামের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ মেহরাবির নাম, যিনি আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্সের জিহাদ গবেষণা সংস্থার প্রধান।
দ্বিতীয় নাম আহমেদ জাফরাবাদী, যাকে আইআরজিসি-র এরোস্পেস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি এ ফোর্সের কর্মক্ষম ব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী।
তবে এটি আইআরজিসি-র এরোস্পেস ফোর্সের স্পেস কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী জাফরাবাদীকে নির্দেশ করছে নাকি ঘোষণায় উল্লিখিত অন্য কোনো ব্যক্তিকে, তা স্পষ্ট নয়।
আলী আসগর নওরোজী, যিনি আইআরজিসির প্রস্তুতি ও সহায়তা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর, তিনি এ ঘোষণার তৃতীয় ব্যক্তি যার পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার মতো তথ্যের জন্য পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘যুক্ত’ ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।