ইতালীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, জ্বালানি সুইচ বন্ধ করা হয়েছিল উদ্দেশ্যমূলকভাবে

তদন্তকারীরা বলছেন, প্রথমে বাম পাশের ইঞ্জিন বন্ধ করা হয়েছিল, যেদিকে প্রধান পাইলট বসেন।

ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) তাদের প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, উড্ডয়নের মুহূর্তেই বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলো ‘রান’ পজিশন থেকে ‘কাট-অফ’ পজিশনে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে শোনা গেছে, এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছেন কেন তিনি জ্বালানি বন্ধ করলেন। যদিও অন্যজন সেই মুহূর্তে তা অস্বীকার করেছিলেন।

গত বছর ভারতের আহমেদাবাদে সংঘটিত এয়ার ইন্ডিয়া ১৭১ ফ্লাইটটির ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইতালীয় দৈনিক কোরিয়েরে ডেলা সেরা তাদের একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। বরং উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার ফলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। এ তথ্য নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনার সূত্র ধরে প্রকাশ করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

ইতালির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা যাত্রী ও বিমানটি যেই মেডিকেল হোস্টেলে বিধ্বস্ত হয় সেখানকার বাসিন্দাসহ মোট ২৬০ জন প্রাণ হারান।

ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) তাদের প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, উড্ডয়নের মুহূর্তেই বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলো ‘রান’ পজিশন থেকে ‘কাট-অফ’ পজিশনে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে শোনা গেছে, এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছেন কেন তিনি জ্বালানি বন্ধ করলেন। যদিও অন্যজন সেই মুহূর্তে তা অস্বীকার করেছিলেন।

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৬০ জনের মধ্যে বিমানের দুই পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল এবং ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দারও ছিলেন। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

তদন্তকারীরা বলছেন, প্রথমে বাম পাশের ইঞ্জিন বন্ধ করা হয়েছিল, যেদিকে প্রধান পাইলট বসেন।

ইতালীয় সংবাদপত্রের তথ্যানুযায়ী, এ দুর্ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের নাম উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার এক মাস পর জানা যায় যে তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন।

তদন্তে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তে কো-পাইলট ক্লাইভ কুন্ডার বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ক্যাপ্টেনের কন্ট্রোল যন্ত্রটি স্থির ছিল। তবে সুমিতের বাবা তার ছেলের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিবাহবিচ্ছেদ বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা সুমিতের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেনি। তাই তিনি নতুন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তে সহায়তা করা মার্কিন বিশেষজ্ঞরা এই অগ্রগতিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করলেও কর্মকর্তারা সেটি তৈরির কাজ গুছিয়ে এনেছেন। আশা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পাইলটদের নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বিশেষ সুপারিশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তদন্তকারীরা ককপিটের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ ও পাইলটদের আচরণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় মাত্র একজন যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন।

—মাহফুজা মিম অনূদিত ও পরিমার্জিত

আরও