কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দশ ঘণ্টার বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। স্থানীয় সময় সোমবার ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আরো জিজ্ঞাসাবাদ করতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবারও তাকে তলব করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি।
তথ্য বলছে, ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনায় ইডি রাহুল গান্ধী ও তার মা কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধীকে তলব করে। সম্প্রতি ইয়াং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড এর বিরুদ্ধে একটি প্রাইভেট অভিযোগ বিচারিক আদালতের নজরে আসলে ইডি মানি লন্ডারিং মামলাটি দায়ের করে।
কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, এই জিজ্ঞাসাবাদ ক্ষমতাসীন বিজেপির ‘প্রতিহিংসার রাজনীতির’ অংশ। কংগ্রেসের ব্যাপক বিক্ষোভে পুলিশি অভিযানের মধ্যে সোমবার রাহুল গান্ধীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ইডি। ভারত জুড়ে ইডি কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস।
এনডিটিভি জানায়, সোমবার দিল্লিতে দলীয় আইনপ্রণেতারাসহ কংগ্রেস নেতারা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দলীয় কার্যালয় থেকে ইডি কার্যালয় পর্যন্ত যান। তবে বিক্ষোভের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় দিল্লি পুলিশ। তারা বিক্ষোভে অংশ নেয়া কংগ্রেস কর্মী ও নেতাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে। এর কিছুক্ষণ পর পি চিদাম্বরাণ, অধীর রঞ্জন চৌধুরী, কেসি ভেনুগোপাল, ডিপেন্দর হুদা এবং জয়রাম রমেশসহ বেশ কয়েক জন কংগ্রেস নেতাকে আটক করে তুঘলক রোড থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে কেসি ভেনুগোপাল, হরিশ রাওয়াত, অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাদের নেতাদের মারধরে অভিযোগ করো হয়। এরইমধ্যে মারধরের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশও করা হয়েছে। ভিডিওতে ভেনুগোপালকে শারীরিকভাবে উঠিয়ে একটি অপেক্ষমাণ বাসের দিকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। প্রবীণ নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা জানান, দিল্লি পুলিশ ধাক্কা দেয়ার চিদাম্বরমের পাঁজর ভেঙে গেছে। সুরজেওয়ালা আরো বলেন, আরেক কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারিকে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয় এবং তিনি মাথায় আঘাত পান।