বিদেশী শিক্ষার্থীদের সঙ্গী-সন্তানকে নেয়ার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া

বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বামী, স্ত্রী বা সঙ্গীরা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার কোর্সের ওপর নির্ভর করে তাদের কাজের অনুমোদিত সময় ভিন্ন হয়। শিক্ষার্থীরা ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানদেরও সঙ্গে নিতে পারেন

পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া বিদেশী শিক্ষার্থীরা এখন থেকে তাদের সঙ্গী ও সন্তানকে সঙ্গে নিতে পারবেন না। পাশাপাশি অস্থায়ী অভিবাসীদের ভিসা পরিবর্তনের নিয়মও কঠোর করা হবে। এ বিষয়ে আজ সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম। খবর রয়টার্স।

ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেয়া এক বক্তব্যে বিষয়টি আজ সামনে আনতে পারেন দেশটির অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী টনি বার্ক।

তার বক্তব্যে থাকবে, ২০২৮ সালের মধ্যে বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নিট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে তারা কোনো সূত্র উল্লেখ করেনি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বার্কের কার্যালয়।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বামী, স্ত্রী বা সঙ্গীরা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার কোর্সের ওপর নির্ভর করে তাদের কাজের অনুমোদিত সময় ভিন্ন হয়। শিক্ষার্থীরা ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানদেরও সঙ্গে নিতে পারেন।

এমন সময়ে উদ্যোগটি নেয়া হলো, যখন জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টির প্রতি সমর্থন বাড়াচ্ছে। দলটি চলতি সপ্তাহে বলেছে, তিন বছরে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমিয়ে অস্ট্রেলীয়দের ‘স্বস্তির সুযোগ’ দেয়া হবে।

‘অস্ট্রেলিয়া ফার্স্ট’ হিসেবে বর্ণনা করা ওয়ান নেশনের নীতিগুলোকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। দলটি বলেছে, প্রাথমিক তিন বছর পর নিট বিদেশী অভিবাসন ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমিত করার লক্ষ্য থাকবে। কর্মসূচিটি প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও অস্থায়ী দক্ষ কর্মীদের বড় অংশের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন বেড়ে গিয়েছিল। প্রায় দুই বছর কভিড-১৯ বিধিনিষেধের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটি সীমান্ত খুলে দেয়ার পর এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।

তবে গত দুই বছরে অভিবাসন কমতির দিকে রয়েছে। এর মধ্যেও সমালোচকরা বলছেন, অভিবাসীদের আগমনের কারণে আবাসন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়েছে এবং সামাজিক সংহতিও চাপে পড়েছে।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া বছরে অস্ট্রেলিয়ায় নিট বিদেশী অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর অর্ধেকের বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে নিট অভিবাসন ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার। আর এর আগের বছর সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছেছিল।

আরও