আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৮ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের অন্যতম বড় সরবরাহকারী ভারতীয় ওষুধশিল্পে। খবর এনডিটিভি।
ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে নতুন নীতি কার্যকর করা হবে।
বিশ্বজুড়ে জেনেরিক ওষুধ ায়সরবরাহের কারণে ভারতকে ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশই ভারত থেকে য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭০ কোটি ডলারের ওষুধ রফতানি করেছে, যা ভারতের মোট ওষুধ রফতানির ৩৮ শতাংশ।
ট্রাম্প বলেন, যেসব কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে না, তাদের জন্য এ শুল্ক কার্যকর হবে। এর উদ্দেশ্য জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা এবং দেশটির জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তবে পেটেন্ট, ব্র্যান্ডেড ও উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিই বহাল থাকবে।
বিশ্বজুড়ে জেনেরিক ওষুধ সরবরাহের কারণে ভারতকে ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশই ভারত থেকে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭০ কোটি ডলারের ওষুধ রফতানি করেছে, যা ভারতের মোট ওষুধ রফতানির ৩৮ শতাংশ।
তবে নতুন শুল্ক ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও ফেব্রুয়ারিতে হওয়া ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে জেনেরিক ওষুধ ও কাঁচামাল বিষয়ে আলোচনার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ ছিল।
এর আগে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিও ভারত থেকে কম দামের ওষুধ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, বিষণ্নতা, সংক্রামক ও মানসিক রোগের চিকিৎসায় ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রেসক্রিপশনকৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির প্রায় ৬৫ শতাংশ উৎপাদন করেছে ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠান—গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস ও লুপিন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কম দামে জেনেরিক ওষুধের সরবরাহ ও বাজারমূল্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।