নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে ২২৭ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে চলতি সপ্তাহে এটি দেশটির দ্বিতীয় গণ-অপহরণের ঘটনা। খবর বিবিসি।
শুক্রবার ভোরে নাইজার রাজ্যের পাপিরিতে অবস্থিত সেন্ট মেরিজ স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া জানিয়েছে, হামলাকারীরা ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ১২ জন কর্মীকে তুলে নিয়ে গেছে। নিরাপত্তা হুমকির কারণে কর্তৃপক্ষ এর আগেই ওই রাজ্যের সব আবাসিক স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।
নাইজার রাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোয়েন্দা সতর্কবার্তা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের অনুমতি না নিয়েই স্কুল খুলেছিল। এতে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি তৈরি হয়। অপহৃতদের স্বজনরা ভয় ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু এসব নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ সপ্তাহের জি-২০ সম্মেলনসহ তার বিদেশ সফর বাতিল করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে ‘দস্যু’ নামে পরিচিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা স্কুলে ঢুকে হোস্টেল থেকে শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অপহৃতদের উদ্ধারে জঙ্গলে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
নাইজেরিয়া বর্তমানে নানা ধরনের নিরাপত্তা সমস্যায় পড়েছে। এর আগে, গত সোমবার প্রতিবেশী কেব্বি রাজ্যের একটি আবাসিক স্কুল থেকে ২০ জনের বেশি মুসলিম ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। একইসঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে কোয়ারা রাজ্যে একটি গির্জায় হামলায় দুজন নিহত এবং ৩৮ জনকে অপহরণ করা হয়, যাদের জন্য মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়াকে খ্রিস্টানদের ওপর সহিংসতা বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলেছে। তবে নাইজেরিয়া সরকার বলছে, সন্ত্রাসীরা ধর্ম-বর্ণ না দেখে সবাইকে আক্রমণ করছে। দেশটিতে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ এখন বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের অপরাধে পরিণত হয়েছে।