কেনিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্মরণে আয়োজিত এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানী নাইরোবিসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
অ্যামনেস্টি কেনিয়ার নির্বাহী পরিচালক ইরুঙ্গু হাউটন জানান, নিহতদের সংখ্যা কেনিয়া সরকারের নিজস্ব মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের বেশিরভাগই পুলিশি গুলিতে নিহত হয়েছেন।’
বুধবার সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী নাইরোবিসহ কিসুমু, মোম্বাসা, নাকুরু ও কিয়াম্বুর কিকুয়ু শহরে রাস্তায় নেমে আসেন। গত বছরের ২৫ জুন করবৃদ্ধির প্রতিবাদে হওয়া ভয়াবহ বিক্ষোভের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ ঠেকাতে আগেভাগেই রাজধানী নাইরোবির বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসায় পুলিশ। বন্ধ করে দেয় যান চলাচল। সংসদ ভবন ও প্রেসিডেন্ট ভবনের চারপাশে বসানো হয় কাঁটাতারের ঘের। তবে এসব বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা নিহতদের ছবি, জাতীয় পতাকা ও প্রতিবাদী স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় অবস্থান নেন। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগ দাবি করে তারা আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা প্রতিরোধে পুলিশের দিকে পাথর ও বোতল ছুড়ে মারেন। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা আদালত ভবনেও আগুন ধরিয়ে দেন।
বিক্ষোভকারীদের দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বুধবার থেকে এ পর্যন্ত ৮৩ জন গুরুতর আহত এবং অন্তত ৮ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।