ইসরায়েলের নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান দেখা যায়নি। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে উভয় শিবির ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে জানিয়েছে চ্যানেল থার্টিনের হালনাগাদ বুথফেরত জরিপ। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আল জাজিরা।
ভোটগ্রহণ শেষে গতকাল প্রকাশিত জরিপের ফলকে নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা করেছেন বিরোধী নেতারা। সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট বলেন, প্রাথমিক ফলে নেতানিয়াহু ও ৭ অক্টোবরের সরকারটির প্রতি জনগণের আস্থার সম্পূর্ণ অভাব ফুটে উঠেছে।
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কেউ যেন আপনাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে। নেতানিয়াহুর শিবির বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। এটি পুরোপুরি ধস। জনগণ তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছে।’
তবে নেতানিয়াহুর শিবিরের নেতারা বিরোধীদের এ দাবির সঙ্গে একমত নন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র গিদিওন সার বুথফেরত জরিপের ভিত্তিতে বিরোধীদের এমন বক্তব্যকে ‘অকালপক্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে একক দল হিসেবে লিকুদই সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর আসনসংখ্যার হিসাব বদলে যেতে পারে বলেও মনে করছেন ক্ষমতাসীন শিবিরের নেতারা।
চ্যানেল থার্টিনের হালনাগাদ জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির ৫১টি করে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, কোনো বড় জোটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এমন আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা হতে পারে ১৮। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন থেকে উভয় শিবিরই ১০ আসন পিছিয়ে থাকবে।
এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আরব রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও নিজেদের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।
ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আম পার্টির নেতা মানসুর আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যে জনসমর্থন পেয়েছি, তা দেশের নতুন বাস্তবতায় রূপ দেব।’
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বুথফেরত জরিপে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পার্টি মিলিয়ে রেকর্ডসংখ্যক আসন পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। ১৯৯৯ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে কয়েক দশকের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ হার বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ।
ইসরায়েলের প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যার ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। ঐতিহাসিকভাবে ইহুদি নাগরিকদের তুলনায় তাদের ভোটদানের হার কম ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বুথফেরত জরিপের ফল চূড়ান্ত নয়। ফলে আসনসংখ্যার হিসাবে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কোনো শিবির এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আগামী দিনগুলোয় জোট গঠনের আলোচনা এবং ছোট দলগুলোর অবস্থানই ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের চেহারা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।