উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ও সেনা সহায়তায় ইউক্রেনে রুশ হামলার গতি বেড়েছে

উত্তর কোরিয়া ২০২৪ সালে রাশিয়াকে প্রায় ৯০ লাখ গোলাবারুদ, ১১ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে পাঠিয়েছে আরো ৩ হাজার সেনা। এছাড়াও পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে দিয়েছে রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া যান, স্বচালিত কামান, অন্তত ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

উত্তর কোরিয়া ২০২৪ সালে রাশিয়াকে প্রায় ৯০ লাখ গোলাবারুদ, ১১ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে পাঠিয়েছে আরো ৩ হাজার সেনা। এছাড়াও পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে দিয়েছে রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া যান, স্বচালিত কামান, অন্তত ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

ইউক্রেনের কিয়েভ ও জাপোরিঝিয়া শহরে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে এ অস্ত্র ও সৈন্য ব্যবহৃত হয়েছে। মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওপেন সোর্স সেন্টার ও কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের গবেষণা উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আর ১১টি দেশের পর্যবেক্ষক নিয়ে এই মনিটরিং টিম গঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি পুরনো পর্যবেক্ষক প্যানেল রাশিয়ার চাপে ভেঙে দেয়ার পর এই টিম গঠিত হয়।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে তিন বছরের যুদ্ধকালীন সময়ে মস্কোর বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে পিয়ংইয়ং।

এর বিনিময়ে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে দিয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, রিফাইন করা তেল ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ফলাফল। যেগুলো পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র গাইডেন্স প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করেছে। এ সমঝোতার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া একদিকে যেমন তার সামরিক তহবিল জোগাচ্ছে, অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক অভিজ্ঞতাও অর্জন করছে, যা জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাবের লঙ্ঘন। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া উভয়ই জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অস্ত্র আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে যে যদি পিয়ংইয়ং ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা অব্যাহত রাখে তবে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারে।

এর আগে এপ্রিল মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেন, উত্তর কোরিয়ার সেনারা গত বছর ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে যুদ্ধ করেছে।

একটি চুক্তির আওতায় সামরিক আক্রমণের শিকার হলে পরস্পরকে ‘সর্বোচ্চ সহায়তা’ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া। পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকলে মস্কোও উত্তর কোরিয়াকে অস্ত্র দেবে।

আরও