যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন

ডাকযোগে ভোট নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের উদ্যোগ বাতিল সুপ্রিম কোর্টে

ট্রাম্প বরাবরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডাকযোগে ভোটের ওপর নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দিয়ে আসছেন। যদিও ডাকযোগে ব্যালট নিয়ে জালিয়াতির প্রায় কোনো প্রমাণই নেই। এ কারণে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি এ বিষয়ে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটের ব্যালট নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ গতকাল বাতিল করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মধ্যে একাধিক আইনি তৎপরতার পর এ সিদ্ধান্ত এল। খবর এপি।

মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলো আগের বছরগুলোয় যে প্রক্রিয়ায় ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়ে আসছে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর সেই একই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে। মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ডাকযোগে দেয়া হয়ে থাকে।

ট্রাম্প বরাবরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডাকযোগে ভোটের ওপর নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দিয়ে আসছেন। যদিও ডাকযোগে ব্যালট নিয়ে জালিয়াতির প্রায় কোনো প্রমাণই নেই। এ কারণে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি এ বিষয়ে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি বছর এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রশাসনের উদ্যোগ আইনি চ্যালেঞ্জে টিকবে না। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তারা। বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে বিধিনিষেধ কার্যকরের পথ পরিষ্কার করতে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আদালতটির কাছে এটি ছিল প্রশাসনের আরেকটি আবেদন।

ভিন্নমত জানিয়ে আলিটো লিখেছেন, ‘ডাক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ক্ষমতা’ রয়েছে ডাক বিভাগের এবং ট্রাম্পের বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষমতা তাদের থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

অন্যদিকে বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া উচিত নয়। তবে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আবার আদালতে এলে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে পুরো ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কোনো সুযোগই ছিল না। এরই মধ্যে আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিন গত সপ্তাহে ভোটারদের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় অঙ্গরাজ্যগুলোকে একই ধরনের খাম ব্যবহার করতে এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকা একটি অনলাইন পোর্টালে জমা দিতে হতো। যেসব অঙ্গরাজ্য এই নিয়ম মানত না, ডাক বিভাগ তাদের ব্যালট পৌঁছে দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারত।

ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাটিক সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিভ হবস বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলে ‘নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নির্ভুল নির্বাচন’ আয়োজনের কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে। অবাস্তব ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর শর্ত পূরণ করতে গিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে একজন হুইসেলব্লোয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাক ব্যবস্থার নতুন শর্তের কারণে লাখ লাখ ডাকযোগে ব্যালট কখনোই পাঠানো না হতে পারে। কারণ এখনো চালু না হওয়া অনলাইন পোর্টালের সমস্যার কারণে একটি ব্যাচের ব্যালটে একটি বারকোডে ভুল থাকলেই পুরো ব্যাচ বাতিল হয়ে যেতে পারে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, কিছু অঙ্গরাজ্যের দ্রুত ভোটারদের সশরীরে ভোট দেয়ার ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার মতো অবকাঠামো নেই।

মামলার বাদী সংগঠন লিগ অব উইমেন ভোটার্স প্রস্তাবিত বিধিনিষেধকে ‘ভোটদানে হস্তক্ষেপের এক অসাধারণ প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি বলেছে, এতে নির্বাচন বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যেত।

সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা স্টুয়ার্ট বলেন, ‘রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের মাঝখানে ভোটারদের কখনোই আটকে পড়া উচিত নয়।’

নিম্ন আদালতগুলোও ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিতে সম্মত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের মনোনীত একজন বিচারকও প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে যুক্তি দেয়, ডাক বিভাগের ওপর ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণের কারণে ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থাপনার নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং এসব নিয়ম মেনে চলাও সম্ভব।

সুপ্রিম কোর্টে প্রাথমিক একটি প্রক্রিয়াগত সিদ্ধান্তে ফেডারেল সরকার জয় পেলেও বিচারপতিরা পরিকল্পনাটি আইনসম্মত কিনা, সে বিষয়ে তখন কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

আরও