মমতা ব্যানার্জির ‘পদত্যাগে অস্বীকৃতি’, ভারতের সংবিধান কী বলছে

মমতা ব্যানার্জি গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমি হারিনি। তাই রাজভবনে যাব না, পদত্যাগপত্রও জমা দেব না।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ‘রাজনৈতিক যোদ্ধা’ হিসেবে নিজের অবস্থান আবারো তুলে ধরেন তিনি

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে বড় জয় লাভ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে ভারতীয় রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে।

এ ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা। স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। তার দাবি, এ ফল ‘অবৈধ প্রক্রিয়ার’ মাধ্যমে এসেছে এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিজেপির সঙ্গে ‘মিলে কাজ করেছে’।

মমতা ব্যানার্জি গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমি হারিনি। তাই রাজভবনে যাব না, পদত্যাগপত্রও জমা দেব না।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ‘রাজনৈতিক যোদ্ধা’ হিসেবে নিজের অবস্থান আবারো তুলে ধরেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতির খুবই কম বা প্রায় কোনো নজির নেই।

সংবিধান কী বলে?

ভারতের সংবিধানে সরাসরি বলা নেই যে নির্বাচনে পরাজিত হলে মুখ্যমন্ত্রীকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। এটি মূলত একটি রাজনৈতিক রীতি বা প্রচলিত নিয়ম, যা গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ভিত্তি।

তবে মূল নীতি হলো, একজন মুখ্যমন্ত্রীকে তার পদে থাকার জন্য বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে যদি তা না থাকে, তাহলে সাধারণত তাকে পদত্যাগ করার রীতি অনুসরণ করা হয়।

কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে রাজ্যপালের হাতে কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকে। রাজ্যপাল তাকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন। যদি তিনি তা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে রাজ্যপাল বিকল্প হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন।

আরো কঠোর পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির সুপারিশ করতে পারেন রাজ্যপাল, যার মাধ্যমে রাজ্যের সরকার ভেঙে দিয়ে কেন্দ্র সরাসরি শাসন চালায়। তবে এটি একেবারেই শেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা রাজ্যপালের ‘ইচ্ছার ওপর’ পদে থাকেন। অর্থাৎ প্রয়োজনে রাজ্যপাল তাদের অপসারণও করতে পারেন।

বিজেপি দাবি করছে, মমতা ব্যানার্জির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। অন্যদিকে তিনি অভিযোগ করেছেন, অন্তত ১০০টি আসন ‘চুরি’ করা হয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে ফল প্রভাবিত হয়েছে।

মমতা আরো অভিযোগ করেন, ‘এটি গণতন্ত্র নয়। বিচারব্যবস্থা দুর্বল হলে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট হলে এবং কেন্দ্র একদলীয় শাসন চাইলে বিশ্বে ভুল বার্তা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার সময় তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি ছিল।

বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামীকাল শেষ হচ্ছে, ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান খুঁজতে হবে। তবে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এনডিটিভি অবলম্বনে

আরও