ভারত-শাসিত কাশ্মীরের চাশোটি শহরে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। খবর রয়টার্স।
ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের জনপ্রিয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘মাছেল মাতা যাত্রা’। প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ‘মাছেল মাতা’ মন্দিরে (দুর্গা মন্দির) পৌঁছানো যায়। এতে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই যাত্রা চলার কথা। কিন্তু যাত্রাপথেই শুরু হয় ভয়াবহ বিপর্যয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ের গাঁ বেয়ে নেমে আসছে পানি, কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল। কোথাও কোথাও পুরো ভবন ধসে পড়েছে, ভেসে গেছে যানবাহন।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, সংবাদটি দুঃখজনক ও সত্য। উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য জম্মু ও কাশ্মীরের ভেতর ও বাইরে থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি ছিল একটি ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘভাঙা বৃষ্টি—যেখানে মাত্র এক ঘণ্টায় ১০০ মিমি (৪ ইঞ্চি) এর বেশি বৃষ্টিপাত হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষাকালে এ ধরনের বৃষ্টি আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ব্যাপক ধ্বংস ডেকে আনে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই বিপর্যয় ঘটে। জম্মুর কিশতওয়ার জেলার ডিভিশনাল কমিশনার রমেশ কুমার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, স্থানীয় পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে।