যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইরান, দাবি ট্রাম্পের

৭ আপডেট
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

    আমাদের জন্য এটি এখনো যুদ্ধাবস্থা: ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

    ইরানের আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, দেশটির সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের জন্য এটি এখনো যুদ্ধাবস্থা এবং এখানে নিরবিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি চলছে।

    তিনি আরো বলেন, শত্রুপক্ষ যদি নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা নতুন হাতিয়ার, পদ্ধতি এবং রণক্ষেত্রের মুখোমুখি হবে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

    যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইরান, দাবি ট্রাম্পের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাবি করেছেন, ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। তিনি বলেন, ইরান আমাদের এইমাত্র জানিয়েছে, তারা ‘ভেঙে পড়ার পর্যায়ে’ রয়েছে। তারা চায়, আমরা যেন যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দেই। তারা তাদের নেতৃত্ব সংক্রান্ত পরিস্থিতি গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। (আমি বিশ্বাস করি তারা পারবে!)।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি কখনোই বন্ধ হওয়া উচিৎ না: কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল-আনসারি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন তারা।

    তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এটি কখনোই বন্ধ হওয়া উচিত ছিল না এবং অঞ্চলের অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই এটি অবিলম্বে খুলে দেয়া উচিৎ।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার ইরানের আছে: রাশিয়া

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

    জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, পুরো দায়ভার ইরানের ওপর চাপানোর একটি চেষ্টা চলছে, যেন মনে হয় ইরানই তার প্রতিবেশীদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু যুদ্ধের সময় কোনো উপকূলীয় দেশ আক্রান্ত হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নিজ জলসীমায় জাহাজ চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

    পশ্চিমা দেশগুলোকে জলদস্যুদের সঙ্গে তুলনা করে রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় সমর্থন দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো আইন লঙ্ঘন করছে।

    নেবেনজিয়া আরো বলেন, জলদস্যুরা যেমন জাহাজে কঙ্কাল আঁকা কালো পতাকা উড়িয়ে আক্রমণ করে, পশ্চিমা দেশগুলো তেমনটা করে না। তারা তাদের বেআইনি কর্মকাণ্ডকে একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার (নিষেধাজ্ঞা) আড়ালে লুকোনোর চেষ্টা করছে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

    তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার জ্বালানি তেলের দাম ১১০ ডলারে

    তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তিতে অচলাবস্থা দেখা দেয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।

    অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ৬৪ সেন্টে উঠেছে। অন্যদিকে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯৮ ডলার ৪৭ সেন্টে পৌঁছেছে।

    হোয়াইট হাউস সোমবার জানিয়েছে, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন, যদিও প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুদ্ধ শেষ করতে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু ‘রেড লাইনস’ বজায় রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

    হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি কারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে এ প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য বৈঠক করেছেন।

    গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের প্রস্তাব নিয়ে এখনো ‘কিছু প্রশ্ন’ রয়েছে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি একটি ‘মৌলিক ইস্যু, যেটির মুখোমুখি হওয়া এখনো বাকি।’

    হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার বিনিময়ে ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পিছিয়ে দিতে চায়—এমন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে কি-না? এ প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন সে বিষয়ে অনুমান করতে চান না তিনি।

    এর আগে সর্বশেষ ব্রেন্ট ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠেছিল ৭ এপ্রিল। এরপর ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলে দাম দ্রুত কমে যায়। ১৭ এপ্রিল তা নেমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলার ৯ সেন্ট পর্যন্ত হয়েছিল।

    সূত্র: এফটি

  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

    ইরানি এয়ারলাইনসের সঙ্গে ব্যবসা করলে নিষেধাজ্ঞা: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

    সম্প্রতি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে ইরান। এ বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, কোনো দেশ যেন ইরানি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজকে জেট ফুয়েল, খাবার সরবরাহ (ক্যাটারিং), অবতরণ ফি বা রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবা না দেয়। এর অন্যথা হলে ইরানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা বা সহায়তা করছে এমন তৃতীয় পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।

    তিনি আরো বলেন, ইরানের জ্বালানি তেল শিল্প দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে এখন এ শিল্পে উত্তোলন সংকুচিত হতে শুরু করেছে। খুব শিগগিরই উত্তোলন ধসে পড়বে। এরপর আসবে পেট্রল সংকট।

    সূত্র: এপি

  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

    ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে ‘অসন্তুষ্ট’ ট্রাম্প: মার্কিন গণমাধ্যম

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাবে ‘অসন্তুষ্ট’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা হবে।

    ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাবে ট্রাম্প সন্তুষ্ট নন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র চায়, আলোচনার শুরুতেই পারমাণবিক ইস্যুটি সমাধানের দিকে নেয়া হোক।

    দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজে আলোচনার সময় উপদেষ্টাদের ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন।

    অন্যদিকে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এ প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এমন সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নগুলোর সমাধান ছাড়াই ইরানি বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেয়া হলে, আলোচনায় ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হারিয়ে যেতে পারে।

    সূত্র: আল জাজিরা

সংঘাত নিরসন প্রচেষ্টায় স্থবিরতা, জ্বালানি তেলের দাম আরো বেড়েছে

চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় আজো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে ও অঞ্চলের জ্বালানি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের বাইরে রয়ে গেছে।

জুনে সরবরাহের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৪৫ সেন্ট বা দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আজ সকালে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ৬৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সেশনে দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। টানা সপ্তম দিনের মতো বাড়ছে এ সূচক।

অন্যদিকে, জুনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৫৮ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ৯৬ সেন্টে পৌঁছেছে, যা আগের সেশনে বেড়েছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ।

ছবি: রয়টার্স

সিটি ইনডেক্স ও ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, ‘জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের জন্য এখন আর কথার লড়াই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাস্তবে কতটা তেল পরিবহন হচ্ছে। আর বর্তমানে সেই প্রবাহ সীমিতই রয়েছে।’

তার মতে, কোনো সমাধান এলেও উত্তোলন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যানুযায়ী, হরমুজে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ছয়টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি পরিচালিত একটি এলএনজি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হয়ে ভারতের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে গতকালের তথ্য থেকে জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত থাকায় এবং বিশ্বব্যাপী তেল-গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অফলাইনে থাকায় উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১২৫-১৪০টি জাহাজ এ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

সূত্র: রয়টার্স

আরও